• আজ সোমবার, ১৩ অগ্রহায়ণ, ১৪২৯ ৷ ২৮ নভেম্বর, ২০২২ ৷

দেলোয়ার জাহানের ‘প্রাকৃতিক কৃষি কেন্দ্রে’র বিষমুক্ত উৎপাদনে ব্যপক সাড়া


❏ রবিবার, অক্টোবর ৩০, ২০২২ ঢাকা

দেওয়ান আবুল বাশার, স্টাফ করেসপন্ডেন্ট: রাজধানীসহ সারাদেশে বিষমুক্ত খাবার উৎপাদন ও সরবরাহে নজীর স্থাপন করেছে মানিকগঞ্জের প্রাকৃতিক কৃষি কেন্দ্র। বিশ্ববিদ্যালয় থেকে সর্বোচ্চ ডিগ্রি অর্জন করেও শতভাগ রাসায়নিক মুক্ত চাষাবাদ ও বিপনন শুরু করেছেন ৪০ বছর বয়সি দেলোয়ার জাহান।

জেলা শহর থেকে ১৫ কিলোমিটার অদূরে ঘিওর উপজেলার কাউটিয়া এলাকায় স্থাপিত কৃষি খামারটি ইতিমধ্যেই ব্যপক সাড়া ফেলেছে। বিষমুক্ত মাটি তৈরি ও ফসল উৎপাদনের যাদুকরি পদ্ধতি নিজ চোখে দেখা ও গবেষণার জন্য প্রতিদিন দূর দূরান্ত থেকে অসংখ্য চাষি-খামারি ও শিক্ষার্থীরা ভীর জমাচ্ছে এই খামারে।

জানা গেছে, আলোড়ন সৃষ্টিকারি রাসায়নিকমুক্ত খাদ্য শষ্যের উদ্ভাবক দেলোয়ার জাহান চট্রগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় থেকে গণযোগাযোগ ও সাংবাদিকতা বিভাগ থেকে অনার্স মাষ্টার্স শেষে সাংবাদিকতাকেই পেশা হিসেবে বেছে নেন। কিছুতেই যেন মন টিকছিলোনা নিজ পেশায়। কৃষির উপর অর্জিত জ্ঞানের উপর ভিত্তি করে এবং মানুষের নিরাপদ খাদ্যের প্রয়োজনীয়তার উপলব্ধি থেকেই গড়ে তোলেন ‘প্রাকৃতিক কৃষি কেন্দ্র’। নিজ বাড়ি কুষ্টিয়া হলেও মাটির গূণাগুন ও ভৌগলিক পরিবেশের কারণে মাত্র ৩১ শতাংশ জমির উপর ২০১২ সালে গড়ে তোলেন এই প্রাতিষ্ঠানটি। বর্তমানে এর পরিধি ১২ বিঘা অতিক্রম করেছে। এই প্রতিষ্ঠানে আশপাশের চার পাঁচ গ্রামের শতাধিক কৃষক রাসায়নিকমুক্ত পদ্ধতিতে চাষাবাদ করে নিজেদের ভাগ্য বদলাতে সক্ষম হয়েছেন।

প্রাকৃতিক কৃষি কেন্দ্রের উদ্ভাবক দেলোয়ার জাহান জানান, আমাদের খামারে আলু, সিম, টমেটো, ফুলকপি, বাঁধাকপি, ভুট্টা, মিষ্টি কুমড়া, লাউ, ধনে পাতা, বেগুনসহ সকল ধরনের মৌসুমি শাক-সবজি, ফলমূল, দেশি হাস, মুরগী, কবুতর, গরু-ছাগল, হাস ও মুগীর ডিম, প্রাকৃতিক মধু ছাড়াও নিত্য প্রয়োজনীয় খাবার উৎপাদন করছি। উৎপাদিত কৃষি সামগ্রী স্থানীয় বাজারের চাহিদা মিটিয়ে রাজধানীতে সরবরাহ করে থাকি। বর্তমানে রাজধানীর মোহাম্মদপুরের সলিমুল্লাহ রোডে আমাদের প্রাকৃতিক কৃষি বিপণন কেন্দ্র রয়েছে। এই কেদ্র থেকে রাজধানীর বিভিন্ন বাজারে সরাসরি ও অনলাইনের মাধ্যনে আমাদের খামারে উৎপাদিত বিষমুক্ত পণ্য পাইকারী ও খুচরা বিক্রয় করা হচ্ছে।

শতভাগ রাসায়নিক মুক্ত খাদ্য সামগ্রী উৎপাদন ও বিক্রি করে প্রাকৃতিক কৃষি খামারটি ইতিমধ্যেই মানুষের মাঝে ব্যাপক সাড়া ফেলতে সক্ষম হয়েছে। তিনি আরও বলেন, আমাদের অর্জিত মুনাফা থেকে প্রকল্পের সম্প্রসারণ কাজ অব্যহত রেখেছি। বিষমুক্ত পদ্ধতিটি রপ্ত করতে দেশ বিদেশে কৃষকদের নিয়মিত প্রশিক্ষন কর্মসূচী চালু রেখেছি। ইতিমধ্যেই পাশর্^বর্তী ভারত, নেপাল ও দেশের বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের শিক্ষার্থীরা প্রাকৃতিক কৃষি কেন্দ্রে এসে গবেষণা করছে। ভবিষ্যতে এই পদ্ধতিতে উৎপাদিত খাদ্য সামগ্রী দেশব্যাপী ছড়িয়ে পরবে, মানুষ পাবে নিরাপদ খাদ্য এই প্রত্যাশায় আমাদের পথ চলা।

মানিকগঞ্জ জেলা কৃষি সম্প্রসারণের উপ পরিচালক এনায়েত উল্লাহ বলেন, উচ্চ শিক্ষিত দেলোয়ার জাহানের অর্গানিক পদ্ধতির এই কৃষি উৎপাদন প্রক্রিয়া নিঃসন্দেহে প্রশংসার দাবী রাখে। এই পদ্ধতিটি আগামী বিশ বছর পর রাষ্ট্রিয়ভাবে করার কথা। যা দেলোয়ার জাহান আগেই শুরু করেছেন।

এ ধরনের উদ্যেক্তাদের এগিয়ে আসার আহ্বান জানিয়ে তিনি আরও বলেন, আমরা মধ্যম আয়ের দেশ থেকে উন্নয়নশীল দেশে রপান্তরিত হতে যাচ্ছি। এজন্য শুধু খাদ্য নিরাপদ হলেই চলবেনা পুষ্টি নিরাপত্তার বিষয়টিও নিশ্চিত করতে হবে।