মাছ চুরি করে ধরা খেয়ে চোরের ‘৯৯৯’ এ ফোন!

Shatkhira news
❏ রবিবার, অক্টোবর ৩০, ২০২২ খুলনা

জাহিদ হোসাইন, সাতক্ষীরা প্রতিনিধি: গভীর রাতে মাছ চুরি করে ধরা খেয়ে গণধোলাইয়ের হাত থেকে রক্ষা পেতে জরুরি সেবা নম্বর ৯৯৯-এ ফোন করে সহায়তা চান সংঘবদ্ধ চোর চক্রের সদস্য। পরে পুলিশ যেয়ে তাদেরকে আটক করে থানায় নিয়ে আসে।

গতকাল ভোর ৪ টার দিকে সাতক্ষীরা সদরের শিবপুর ইউনিয়নের পায়রাডাঙ্গা গ্রামে ওই ঘটনা ঘটে। এদিকে বিষয়টি জানাজানি হলে ওই এলাকায় ব্যাপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয় এবং চোর চক্রের ৪ সদস্য আটকের পর শতাধিক এলাকাবাসী থানায় এসে তাদের শাস্তির দাবী জানান।

আটক চোর চক্রের সদস্যরা হলেন, পায়রাডাঙ্গা গ্রামের মিজানুর রহমানের ছেলে মোস্তাকিন ও সাইফুল ইসলাম, মৃত নুরুল ইসলামের ছেলে মিজানুর রহমান(৫০), আঃ মান্নানের ছেলে হুসাইন বাবু(২২), মৃত সুরাত আলীর ছেলে শাহারুল ইসলাম।

পায়রাডাঙ্গা গ্রামের মোসলেম সরদারের ছেলে শরিফুল ইসলাম বলেন, পায়রাডাঙ্গার দক্ষিণ বিলে আমাদের ৫ বিঘা জমিতে একটি ঘের আছে। সেই ঘেরে রুই, কাতলা, মৃগেল মাছ চাষ করিতেছি। গতকাল রাত সাড়ে ৩ টার দিকে আটকরা আমার ঘেরে জাল দিয়ে মাছ ধরতে শুরু করে। তখন পাশের ঘেরে রাতে অবস্থান করা আব্দুল্লাহ রাত ৪ টার দিকে আমাকে ফোনে জানায়। তখন আমিসহ কয়েকজন ঘেরে যেয়ে বেড় জালসহ তাদেরকে আটকে ফেলি। তখন তারা আমাদের ধাক্কা দিয়ে দ্রুত বাড়িতে এসে বারান্দায় তালা দিয়ে ভেজা কাপড় খুলে ফেলে। তখন এলাকাবাসী ওই বাড়িতে অবস্থান নেই। এরপর তারা নিজেদের বাঁচাতে জরুরী সেবা ৯৯৯ নম্বরে ফোন করে সাহায্য চাইলে পুলিশ এসে তাদেরকে আটক করে থানায় নিয়ে যায়।

স্থানীয়রা বলেন, আটকরা আমাদের এলাকার চোর চক্রের সক্রিয় সদস্য। তারা দিনে বা রাতে আমাদের এলাকার বিভিন্ন ঘের হতে জাল দিয়ে মাছ চুরি করে। এর আগেও চুরির অভিযোগে স্থানীয়ভাবে তাদের কয়েকজনের বিচার হয়েছিল। তারা মাছ চুরি করতে বেড়জাল ও মাঝে বিষ ব্যবহার করে। তাদের কারণে আমাদের এলাকার অনেই সর্বশান্ত হয়েছে। আমরা তাদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবী জানাচ্ছি।

শিবপুর ইউপি চেয়ারম্যান আবুল কালাম আজাদ বিষয়টি নিশ্চিত করে বলেন, তাদেরকে আটকে রেখে স্থানীয়রা আমাকে ফোন দেওয়া হলে আমি ঘটনাস্থলে যায়। পরে পুলিশ এসে তাদেরকে আট করে থানায় নিয়ে যায়। পায়রাডাঙ্গা এলাকায় ওই চোর চক্রের কারণে ঘের মালিকরা অতিষ্ঠ হয়ে পড়েছে। এই চোর চক্রটি ধরা খাওয়ায় এলাকার মানুষ কিছুটা হলেও স্বস্তি পেয়েছে।

সাতক্ষীরা থানার পুলিশ পরিদর্শক(তদন্ত) মিজানুর রহমান বলেন, আটকদের মধ্যে থেকে একজন জরুরি সেবা নম্বর ৯৯৯-এ কল করে জানান, তারা খুব বিপদে পড়ছেন। তাদের যেন দ্রুত পুলিশ এসে উদ্ধার করে। এরপর পুলিশ সদস্যরা গিয়ে তাকে উদ্ধার করেন। এরপর স্থানীয়দের মাধ্যমে মূল বিষয় জানতে পেরে পুলিশ তাদেরকে আটক করে থানায় নিয়ে আসে।

তিনি আরও বলেন, যার ঘের হতে মাছ চুরি করা হয়েছিল তিনি বাদী হয়ে থানায় একটি মামলা করেছেন। মামলায় গ্রেপ্তার দেখিয়ে আসামীদের আদালতে প্রেরণ করা হয়েছে।