• আজ রবিবার, ১২ অগ্রহায়ণ, ১৪২৯ ৷ ২৭ নভেম্বর, ২০২২ ৷

শেরপুরে ফসলের ক্ষেতে হাতির তান্ডব, দুচিন্তায় কৃষক

Sherpur news
❏ বুধবার, নভেম্বর ২, ২০২২ ময়মনসিংহ

মিজানুর রহমান, শেরপুর জেলা প্রতিনিধি: আত্তির (হাতি) পাল প্রতিবছর ধানের ক্ষেতে হানা দেয়, পাও (পা) দিয়া মাড়িয়ে (পিষে) নষ্ট করে৷ ক্ষেতের ধান লইয়া খুবই দুচিন্তায় আছি৷ এই বারও ফসল ঠিকমতো তুলবার পারবোনা৷ রাত-দিনে পাহারা দিয়াও আত্তির (হাতি) হাত থাইকা ফসল রক্ষা হইতেছে না ৷ ফসল ঘরে তুলবার না পাইলে তো বউ পোলাপাইন নিয়া না খাইয়া থাহন লাগবো। কথাগুলো বলছিলেন হাতির তান্ডবে অতিষ্ঠ কৃষক আব্দুর রহিম৷

শুধু আব্দুর রহিম নয় ৷ তারমতো আরো দশজন কৃষকের একই অবস্থা৷

জানা গেছে, শেরপুরের নালিতাবাড়ী সীমান্তবর্তী অঞ্চলে প্রতিবছরই পাহাড় থেকে নেমে আসা বন্যহাতির পাল কৃষকের ফসলি জমিতে তান্ডব চালায়৷

গত দুদিনে উপজেলার আন্ধারুপাড়া-ডালুকোনা গ্রামে লুইস নেংমিনজার ১ একর, জালাল মিয়ার ৪০ শতাংশ ও অজিত সাংমার ৪০ শতাংশ জমির পাকা ধান খেয়ে ও মাড়িয়ে নষ্ট করেছে বন্য হাতির দল।

স্থানীয় রহিমসহ কয়েকজন কৃষক জানান, বন্য হাতির অত্যাচার থেকে ফসল রক্ষা করতে দিনরাত পাহারা দিতে হচ্ছে তাদের। এমন কি রাত জেগে জীবনের ঝুঁকি নিয়ে পাহাড়া দিয়ে যাচ্ছেন কৃষকরা। এ পর্যন্ত ধান ক্ষেতে বন্য হাতি ৩ বার তাণ্ডব চালিয়েছে। ফসল কাটার শেষ মুহূর্তেও থামছে না হাতির তাণ্ডব। প্রায় প্রতিদিনই পাকা ধান ক্ষেতে আসছে ৪০/৫০টি বন্য হাতির দল। গ্রামবাসীরা হাকডাক ও চিৎকার করে এবং মশাল জ্বালিয়ে প্রাণপণ চেষ্টা করে যাচ্ছেন। ফসল ঘরে তুলতে না পারলে পরিবারের খাদ্যের যোগান কীভাবে দেবেন এই দুশ্চিন্তায় এলাকার কয়েকশ কৃষক।

কৃষক কামাল হোসেন, আসকর আলী, আব্দুস সাত্তার, হালিম উদ্দিন ও বর্গাচাষী ক্ষুদ্র নৃ-গোষ্ঠীর কৃষাণী জাস্টিন সাংমা, সূচনা মারাক ও প্রমিলা সাংমা জানান, তারা দুই যুগ ধরে বন্য হাতির সঙ্গে যুদ্ধ করে কোনো রকমে টিকে আছেন। মাঝে মধ্যেই বন্য হাতির দল আক্রমণ করে তাদের জানমালের ক্ষতি করছে।

সূত্র জানায়, নালিতাবাড়ীর সীমান্ত এলাকার পাহাড়ি রামচন্দ্রকুড়া ইউনিয়নের পানিহাতা, তাড়ানি, মায়াঘাসি, কালাকুমা, নয়াবিল ইউনিয়নের নাকুগাঁও, দাওধারা-কাটাবাড়ি, ডালুকোনা, পোড়াগাঁও ইউনিয়নের আন্ধারুপাড়া, খলচান্দা, বুরুঙ্গা-কালাপানি, বাতকুচি ও সমশ্চুড়া পাহাড়ি এলাকায় প্রায় ৮শ একর জমিতে আমন ধানে পাক ধরেছে। আবার কোনো কোনো এলাকায় ধানকাটা শুরুও হয়েছে। এমন অবস্থায় বন্যহাতি থাণ্ডব চালিয়ে ফসলসহ জানমালের ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি করছে।

সরকারিভাবে তেমন কোনো কার্যকরী পদক্ষেপ নেওয়া হচ্ছে না বলে স্থানীয়রা জানান। তবে সম্প্রতি সরকারের বন বিভাগ থেকে বন্য হাতির দ্বারা নিহত পরিবারকে ৩ লাখ টাকা, আহতকে ১ লাখ টাকা ও ফসলের ক্ষতিগ্রস্থকে ৫০ হাজার টাকা করে ক্ষতিপূরণ দেওয়া হচ্ছে।

ময়মনসিংহ বন বিভাগের মধুটিলা রেঞ্জ কর্মকর্তা রফিকুল ইসলাম বলেন, চলতি আমন মৌসুমে বন্য হাতির তাণ্ডবে ক্ষতিগ্রস্থ ব্যক্তিদের তালিকা করে ঢাকা পাঠানো হয়েছে। তাদেরকে সরকারিভাবে ফসলের ক্ষতিপূরণ দেওয়া হবে। এ বিষয়ে আমরা সবসময় সর্তক রয়েছি।
এছাড়া ক্ষয়ক্ষতি কমাতে ও জানমাল রক্ষা করতে এলাকাবাসীকে আমরা সচেতন করছি।

উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা আলমগীর কবির বলেন, দীর্ঘদিন থেকেই পাহাড়ি এলাকায় বন্যহাতি বাড়ি ও ফসলের মাঠে তাণ্ডব চালিয়ে ক্ষয়ক্ষতি করে আসছে। ইতোমধ্যেই ক্ষতিগ্রস্থ কৃষকদের তালিকা প্রস্তুত করে ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের কাছে পাঠানো হয়েছে।