• আজ বুধবার, ২২ অগ্রহায়ণ, ১৪২৯ ৷ ৭ ডিসেম্বর, ২০২২ ৷

পরকীয়ার জেরে ব্যবসায়ীকে হত্যা, দম্পতি গ্রেপ্তার

Nilpamari news
❏ শুক্রবার, নভেম্বর ৪, ২০২২ রংপুর

মো. ফরহাদ হোসাইন, নীলফামারী প্রতিনিধি: নীলফামারীতে পরকীয়ার জেরে এক ছাগল ব্যবসায়ীকে রডের আঘাতে হত্যার ঘটনায় এক দম্পতিকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ।

শুক্রবার (৪ নভেম্বর) দুপুরে আদালতের মাধ্যমে কারাগারে পাঠানো হয়েছে।

এর আগে গত বৃহস্পতিবার (৩ নভেম্বর) সন্ধ্যা সাড়ে সাতটার দিকে জেলা সদরের টুপামারী ইউনিয়নের কিসামত দোগাছি নামক এলাকায় রডের আঘাতে হত্যা করা হয় ব্যবসায়ী সহিদুল ইসলামকে। নিহত সহিদুল ইসলাম ওই গ্রামের মৃত জফির উদ্দিনের ছেলে।

হত্যার কথা স্বীকার করে আদালতে জবানবন্দি দিয়েছেন ইজিবাইক চালক রফিকুল ইসলাম (৫৫) ও তাঁর স্ত্রী লাইলী বেগমকে (৪৬)।

পুলিশ ও এলাকাবাসী জানায়, “টুপামারী ইউনিয়নের কিসামত দোগাছি জুম্মাপাড়া গ্রামের ইজিবাইক চালক রফিকুলের সঙ্গে বন্ধুত্ব ছিল একই ইউনিয়নের হাফেজপাড়ার ছাগল ব্যবসায়ী সহিদুল ইসলামের। বন্ধুত্বের সুবাদে প্রায় রফিকুলের বাড়িতে যাওয়া আসার মধ্যেই রফিকুলের স্ত্রী লাইলী বেগমের সঙ্গে প্রেমের সম্পর্ক গড়ে ওঠে সহিদুল ইসলামের।

স্ত্রীর সঙ্গে বন্ধু সহিদুলের পরকীয়ার বিষয়টি টের পেয়ে বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় বাইরে যাওয়ার কথা বলে বাড়ির পাশে ওঁত পেতে থাকেন রফিকুল। সন্ধ্যা সাড়ে সাতটার দিকে সহিদুল তার বাড়িতে লাইলীর সঙ্গে দেখা করতে আসেন।

এসময় রফিকুল পেছন থেকে সহিদুলের মাথায় রড দিয়ে আঘাত করলে তিনি ঘটনাস্থলেই জ্ঞান হারান। তাকে মৃত ভেবে গ্রামের একটি ধানক্ষেতে সহিদুলকে ফেলে রেখে বাড়িতে চলে আসেন রফিকুল-লাইলী দম্পতি।

পরে রাত সাড়ে আটটার দিকে ধানক্ষেতে পড়ে থাকা সহিদুলের জ্ঞান ফিরলে পথচারীরা তাকে রক্তাক্ত অবস্থায় উদ্ধার করে নীলফামারী জেনারেল হাসপাতালে ভর্তি করান। সেখান থেকে আশঙ্কাজনক অবস্থায় রংপুর মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে নেয়ার পথে সহিদুলের মৃত্যু হয়।

নীলফামারী সদর থানার পরিদর্শক (তদন্ত) মো. মোক্তারুল ইসলাম জানান, রাতেই রফিকুল-লাইলী দম্পতিকে আটক করা হয়।

তিনি আরও জানান, “এ ঘটনায় নিহত সহিদুলের স্ত্রী তমিনা বেগম বাদি হয়ে শুক্রবার দুপুরে থানায় একটি হত্যা মামলা দায়ের করেন। ওই মামলায় রফিকুল ইসলাম ও তার স্ত্রী লাইলী বেগমকে গ্রেপ্তার দেখিয়ে নীলফামারী জ্যেষ্ঠ বিচারিক হাকিম আদালত হাজির করা হয়। আদালতে ১৬৪ ধারায় দেয়া স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দীতে সহিদুলকে হত্যার বিষয়টি স্বীকার করেন রফিকুল ও লাইলী বেগম। জবানবন্দী গ্রহণ শেষে স্বামী-স্ত্রীকে কারাগারে পাঠানোর আদেশ দেন জ্যেষ্ঠ হাকিম মো. মেহেদী হাসান।”