• আজ সোমবার, ১৩ অগ্রহায়ণ, ১৪২৯ ৷ ২৮ নভেম্বর, ২০২২ ৷

জাল সনদে দশ বছর ধরে চাকুরী করার অভিযোগ ২ শিক্ষকের বিরুদ্ধে

Pabna news
❏ রবিবার, নভেম্বর ৬, ২০২২ রাজশাহী

আব্দুল লতিফ রঞ্জু, পাবনা প্রতিনিধি: পাবনার ফরিদপুর উপজেলায় কম্পিউটার ও শিক্ষক নিবন্ধন সনদ জালিয়াতি করে দশ বছর ধরে শিক্ষকতা করার অভিযোগ উঠেছে দুই শিক্ষকের বিরুদ্ধে। গত দশবছরে তারা অন্তত ৩৬ লাখ টাকা বেতন উত্তোলন করেছেন। উপজেলার পুঙ্গলী আমিনা মোস্তফা বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ের শিক্ষক শারমিন আক্তার ও আবু তালেবের বিরুদ্ধে পাওয়া গেছে এমন অভিযোগ।

বিদ্যালয়ের শিক্ষক ও পরিচালনা পর্ষদের সদস্যরা একাধিকবার এ নিয়ে অভিযোগ করলেও ব্যবস্থা নেয়নি সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ। তবে এবার অভিভাবকদের লিখিত অভিযোগের প্রেক্ষিতে তদন্ত শুরু করেছে সংশ্লিষ্ট দপ্তর।

অভিযোগ সূত্রে জানা গেছে, উপজেলার পুঙ্গলী ইউনিয়নের পুঙ্গলি গ্রামে অবস্থিত বিদ্যালয়টিতে ২০১১ সালে কম্পিউটার শিক্ষক হিসেবে নিয়োগ পান ওই গ্রামের গৃহবধূ শারমিন আক্তার। একইসাথে পার্শ্ববর্তী সাঁথিয়া উপজেলার নাগডেমরা গ্রামের বাসিন্দা আবু তালেবকে সমাজিক বিজ্ঞান বিষয়ের শিক্ষক হিসেবে নিয়োগ দেয়া হয়।

নিয়োগ পরীক্ষার দিন শারমিন আক্তারের কম্পিউটার সনদ ও নিবন্ধন সনদ এবং আবু তালেবের নিবন্ধন সনদ অনলাইনে যাচাই করলে জাল ধরা পড়ে। এতে তাদের নিয়োগে আপত্তি তোলেন নিয়োগ বোর্ডের একাধিক সদস্য। পরে তাদের আপত্তি অগ্রাহ্য করে নিয়োগ প্রক্রিয়া সম্পন্ন করে নিয়োগ কমিটি। নিয়োগের পরে শিক্ষা অধিদপ্তরে বেতন করতে জাল সনদের অভিযোগে আটকে যান ওই দুই শিক্ষক। তবে ওই অফিসের ও সংশ্লিষ্টদের ম্যানেজ করে ২০১২ সালের নভেম্বর মাসে দুইজন শিক্ষকই এমপিওভুক্ত হন। তারপর থেকে গত দশ বছরে তারা দুইজন প্রায় ৩৬ লাখ টাকা বেতন তুলেছেন।

এদিকে এমপিওভুক্তির পরে স্থানীয় শিক্ষার্থী অভিভাবক একাধিকবার উপজেলা শিক্ষা অফিসে জাল সনদের বিষয়ে ওই দুই শিক্ষকের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতে অভিযোগ করেন। তবে প্রত্যেকবারই শিক্ষা অফিসকে ম্যানেজ করে বিষয়টি ধামাচাপা দেওয়া হয়। এ অবস্থায় গ্রামের বাসিন্দা কামাল হোসেন সহ কয়েকজন শিক্ষার্থী অভিভাবক এক মাস আগে শিক্ষা অধিদপ্তর রাজশাহী আঞ্চলিক উপ-পরিচালক বরাবর লিখিত অভিযোগ করেন। এর প্রেক্ষিতে জেলা শিক্ষা অফিসার রুস্তম আলী হেলালী সহ ৩ সদস্যের একটি কমিটি গত বৃহস্পতিবার (০৩ নভেম্বর) বিদ্যালয়ে  সরেজমিনে গিয়ে তদন্ত করেন।

অনুসন্ধানে জানা যায়, কম্পিউটার শিক্ষা বিষয়ের শিক্ষক শারমিন আক্তার নিবন্ধন সনদে পঞ্চম শিক্ষক নিবন্ধনে ৩১৮১ ৫৮৩৪ নাম্বার রোল ব্যবহার করেছেন। এটি সিলেটের বাসিন্দা মো. চেরাগ মিয়া নামে এক ব্যক্তির। অপরদিকে চতুর্থ শিক্ষক নিবন্ধনে আবু তালেবের ব্যবহৃত ১১ ৬১১৪৮০ রোল নাম্বারটি মো. হাসানুজ্জামান নামে আরেক ব্যক্তির। বিদ্যালয়ের শিক্ষকরা এই দুই ব্যক্তিকেও তাদের রোল নম্বর জালিয়াতির ব্যাপারে জানায়। তবে অভিযুক্ত দুই শিক্ষক প্রকৃত নিবন্ধিত চেরাগ আলী ও হাসানুজ্জামানকে ম্যানেজ করে চলেছেন বলে তথ্য মিলেছে।

নিয়োগ কমিটির সময়কালীন পরিচালনা পর্ষদের অভিভাবক সদস্য সাইদুল ইসলাম সরকার বলেন, নিয়োগ পরীক্ষার দিন নিয়োগ বোর্ডে ঐ দুই শিক্ষকের সনদ জাল ধরা পড়ে। কিন্তু এরপরেও সবাইকে ম্যানেজ করে তাদেরকে নিয়োগ দেওয়া হয়। সে সময় অনেক সদস্য প্রতিবাদ করলেও তৎকালীন সভাপতি ও প্রধান শিক্ষক নিয়োগ দেন।

অভিযোগকারী কামাল হোসেন বলেন, জাল সনদের বিষয়টি সবাই জানে। এরপরেও ব্যবস্থা নেয়া হয়নি। তাই ঊর্ধ্বতন দপ্তরের কর্তৃপক্ষ বরাবর আবেদন করেছি। যাতে সুষ্ঠু তদন্তের মাধ্যমে জালিয়াতি বেরিয়ে আসে।

অভিযোগের বিষয়ে বর্তমান প্রধান শিক্ষক শাহ আলম বলেন, জাল সনদে চাকরি করার অভিযোগে জেলা শিক্ষা অফিসার সহ ৩ সদস্যের একটি টিম তদন্তে এসেছিল। তাদের তদন্ত প্রতিবেদন দেয়ার পরে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেয়া হবে। এর বেশিকিছু আপাতত বলা সম্ভব হচ্ছে না।

এ বিষয়ে অভিযুক্ত দুই শিক্ষক আবু তালেব  ও শারমিন আক্তার এর মুঠোফোনে কয়েকবার কল করা হলেও তারা রিসিভ করেননি।

জেলার শিক্ষা অফিসার মোঃ রুস্তম আলী হেলালীকেও তার সরকারি ফোন নাম্বারে  পাওয়া যায়নি। কল হলেও তিনি ফোন রিসিভ না করায় বক্তব্য পাওয়া যায়নি।