• আজ রবিবার, ১২ অগ্রহায়ণ, ১৪২৯ ৷ ২৭ নভেম্বর, ২০২২ ৷

নিখোঁজের ৩ দিন পর শীতলক্ষ্যায় মিলল বুয়েট ছাত্রের ভাসমান লাশ


❏ সোমবার, নভেম্বর ৭, ২০২২ আলোচিত বাংলাদেশ

নারায়ণগঞ্জ প্রতিনিধি: নিখোঁজের তিন দিন পর নারায়ণগঞ্জের সিদ্ধিরগঞ্জে শীতলক্ষ্যা নদী থেকে বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়ের (বুয়েট) এক ছাত্রের লাশ উদ্ধার করা হয়েছে।

তার নাম ফারদিন নূর পরশ (২৪)। তিনি বুয়েটের সিভিল ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের তৃতীয় বর্ষের ছাত্র ছিলেন।

সোমবার সন্ধ্যায় সিদ্ধিরগঞ্জের গোদনাইলের লক্ষ্মী নারায়ণ কটন মিলের পেছনে শীতলক্ষ্যা নদীর বনানী ঘাটসংলগ্ন এলাকা থেকে তার লাশ উদ্ধার করে নৌ-পুলিশ।

ফারদিন নূর পরশ নারায়ণগঞ্জ সদর থানার কুতুবপুর দেউলপাড়ার নয়ামাটি এলাকার কাজি নুরুদ্দীন রানার ছেলে। তার পরিবার ঢাকার ডেমরার কোনাপাড়ার শান্তিবাগ এলাকায় বসবাস করে।

নিহতের পারিবারিক সুত্রে জানা যায়, ফারদিন নূর বুয়েটে সিভিল ইঞ্জিনিয়ারিং তৃতীয় বর্ষের ছাত্র ছিলেন। তার বাবা কাজী নূরউদ্দিন বিজনেস পত্রিকা ‘দ্য রিভারাইন’–এর সম্পাদক ও প্রকাশক। ফারদিনের মা ফারহানা ইয়াসমিন। কাজী নূরউদ্দিনের তিন ছেলের মধ্যে সবার বড় ফারদিন নুর। মেজ ছেলে আবদুল্লাহ্ নূর একটি বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়ছেন। ছোট ছেলে তামিম নূর এবার এসএসসি পরীক্ষা দিয়েছে।

পড়াশোনায় মেধাবী ফারদিন এসএসসি ও এইচএসসিতে সব বিষয়ে জিপিএ–৫ পেয়েছিলেন। বিশ্ববিদ্যালয় ভর্তি পরীক্ষায় বুয়েট, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ও জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ে সুযোগ পেয়েছিলেন।

ফারদিনের বাবা কাজী নূরউদ্দিন রানা সন্তানের লাশ পেয়ে কান্নাজড়িত কন্ঠে বলেন, ‘সন্তানকে মানুষ হিসেবে গড়ে তুলতে চেয়েছি। ভালো মানুষ হিসেবে সে দেশের জন্য অবদান রাখতে পারবে—তেমন একটি জায়গায় যাবে, সেটি চেয়েছি। এমন মৃত্যু কখনো কাম্য ছিল না।’

লাশ উদ্ধারের বিষয়টি নারায়ণগঞ্জ নৌ-থানা পুলিশের ওসি মো. মনিরুজ্জামান নিশ্চিত করেছেন।

নৌ-পুলিশ জানায়, স্থানীয় লোকজন একটি লাশ ভাসতে দেখে থানায় খবর দেন। পরে লাশটি উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য নারায়ণগঞ্জ জেনারেল হাসপাতাল মর্গে পাঠানো হয়। লাশের পরিচয় শনাক্ত হয়েছে। ফারদিন নূর পরশ গত ৪ নভেম্বর থেকে নিখোঁজ ছিলেন।

এ ঘটনায় নিহতের বাবা কাজী নুরুদ্দিন ঢাকার রামপুরা থানায় একটি জিডি করেছিলেন।

নারায়ণগঞ্জ নৌ-থানা পুলিশের ওসি মো. মনিরুজ্জামান বলেন, লাশের শরীরে আঘাতের কোনো চিহ্ন পাওয়া যায়নি। ওই ছাত্রের স্বজনরাও কিছুই বলতে পারছেন না। বিষয়টি আমরা তদন্ত করছি।