• আজ বুধবার, ২২ অগ্রহায়ণ, ১৪২৯ ৷ ৭ ডিসেম্বর, ২০২২ ৷

রোহিঙ্গাকে ভোটার করায় ইউপি চেয়ারম্যানসহ ৫ জনের বিরুদ্ধে মামলা


❏ মঙ্গলবার, নভেম্বর ৮, ২০২২ চট্টগ্রাম, দেশের খবর

স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, কক্সবাজার: বাংলাদেশের ভোটার হওয়ার পাশাপাশি জাতীয় পরিচয়পত্র (এনআইডি) নিচ্ছেন রোহিঙ্গারা। এ কাজে জড়িত থাকার অভিযোগে কক্সবাজারের রামু উপজেলার কচ্ছপিয়ার ইউপি চেয়ারম্যান আবু মোহাম্মদ ঈসমাইল নোমান ও পরিষদের সচিব মিলন বিশ্বাসসহ ৫ জনের বিরুদ্ধে মামলা করা হয়েছে।

যেখানে প্রকৃত বাংলাদেশী জনগণ ভোটার হতে হিমশিম খাচ্ছে; প্রয়োজনীয় কাগজপত্র সংগ্রহ করতে ভোগান্তি পোহায় দিনের পর দিন, সেখানে রোহিঙ্গারা কীভাবে ভোটার হচ্ছে? প্রশ্ন স্থানীয় বাসিন্দাদের। রোহিঙ্গাদের আশ্রয়-প্রশ্রয় ও ইন্ধনদাতাদের বিরুদ্ধে কঠোর শাস্তির দাবি তুলেছেন সচেতন মহল।

বাকি আসামিরা হলেন, কচ্ছপিয়া ফকিরাকাঠার (৬নং ওয়ার্ড) এজাহার মিয়ার ছেলে মোরশেদ, তুলাতলির (৯নং ওয়ার্ড) জসিম ও আটক রোহিঙ্গা আব্দু শুক্কুর বিন দিল।

কক্সবাজার-চট্টগ্রাম মহাসড়কের ঈদগাঁও স্টেশন থেকে ২৪ অক্টোবর অবৈধ পাসপোর্ট ও জন্মনিবন্ধন সনদসহ এক রোহিঙ্গাকে আটক করে পুলিশ। আটক রোহিঙ্গা আব্দু শুক্কুর বিন দিল, তার বাবা দিল মোহাম্মদ ও মা ছলিমা খাতুনসহ পরিবারের সবাই উখিয়ার কুতুপালং রোহিঙ্গা ক্যাম্পে বসবাস করে। বাংলাদেশি পাসপোর্ট ও জন্মনিবন্ধন সনদে তার ঠিকানাস্থলে রামু উপজেলার কচ্ছপিয়া ইউনিয়নের মৌলভীরকাটা উল্লেখ করা হয়েছে।

তদন্ত কর্মকর্তা ঈদগাঁও থানার এসআই কাজী গোলাম মহিউদ্দিন জানান, আটক রোহিঙ্গা জিজ্ঞাসাবাদে জানায়, সে ২০০৮ সালে অবৈধভাবে মালয়েশিয়া গমন করেছিল। মালয়েশিয়া থাকাকালীন কচ্ছপিয়ার ইউপি চেয়ারম্যান ও পরিষদ সচিবসহ বাকি আসামিদের সহায়তায় ভুয়া ঠিকানা ব্যবহার করে জন্ম সনদ ও পাসপোর্ট তৈরি করেছে বলে স্বীকার করে। পাসপোর্ট তৈরি সম্পন্ন হলে বাংলাদেশে আসে। এ ব্যাপারে ঈদগাঁও থানায় মামলা হয়েছে।

কচ্ছপিয়া ইউনিয়ন পরিষদের সচিব মিলন বিশ্বাস জানান, আটক রোহিঙ্গার জন্মনিবন্ধন আগে থেকে অনলাইনে নিবন্ধিত রয়েছে, যার কারণে আমরা সনদে স্বাক্ষর করেছি।

কচ্ছপিয়া ইউপি চেয়ারম্যান আবু মোহাম্মদ ঈসমাইল নোমান বলেন, আমি চেয়ারম্যান নির্বাচিত হয়েছি ২০১৬ সালে। যে রোহিঙ্গার বিরুদ্ধে অভিযোগ উঠেছে তিনি ২০১৪ সালে কাগজপত্র সংগ্রহ করেছে। ওই মামলায় কিভাবে আসামী হলাম এটা আমার বোধগম্য নয়।

এছাড়াও আমরা যেহেতু রোহিঙ্গা অধ্যুষিত এলাকার জনপ্রতিনিধি; এ কারণে ইউপি ওয়ার্ড সদস্যরা রোহিঙ্গা নয় নিশ্চিত করার পরই প্রত্যয়নপত্রে সই করি।

উপজেলা নির্বাচন কর্মকর্তা মাহফুজ জানান, এ বিষয়ে তিনি এখনো অবগত নন। তদন্ত করে ব্যবস্থা নেবেন।

সূত্র জানায়, ওই এলাকায় রোহিঙ্গাদের ভোটার করতে এই দুই জনপ্রতিনিধিসহ একটি শক্তিশালী সিন্ডিকেট জড়িত রয়েছে। সিন্ডিকেটের মাধ্যমে রোহিঙ্গাদের আত্মীয় পরিচয়ে শনাক্ত করেন তারা। জমা দেন স্থানীয় চেয়ারম্যানের স্বাক্ষরে নাগরিকত্ব সনদ। জনপ্রতিনিধিরা তাদের প্রকৃত নাগরিকের স্বীকৃতি দেয়ার কারণে অনেক ক্ষেত্রে রোহিঙ্গাদের চিহ্নিত করা কঠিন হয়ে পড়ে। আবার অনেকে কক্সবাজার শহরসহ আশেপাশে সুবিধা করতে না পেরে ওইসব এলাকায় গিয়ে একই কায়দায় অর্থাৎ জনপ্রতিনিধি ও দালাল সিন্ডিকেটের সদস্যদের সহযোগিতা নিয়ে ভোটার হচ্ছে। জন্মসনদ, নাগরিক সনদ, বাবা-মায়ের এনআইডি, বাসার বিভিন্ন বিলের কপি জমা দিতে হয় ভোটার হওয়ার ক্ষেত্রে।

উল্লেখ্য, ইতোপূর্বে কচ্ছপিয়ার তিতারপাড়ার (২নং ওয়ার্ড) সাবেক মেম্বার জয়নাল আবেদীন বাদী হয়ে জাল জন্মসনদ প্রদানসহ অনিয়ম-দুর্নীতির অভিযোগ এনে ইউপি চেয়ারম্যানের বিরুদ্ধে আদালতে মামলা দায়ের করেন।