বগুড়ায় নিখোঁজের তিন সপ্তাহেও সন্ধান মেলেনি শিশু আল আমিনের


❏ মঙ্গলবার, নভেম্বর ৮, ২০২২ ঢাকা, দেশের খবর

রাজু আহমেদ, স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, সময়ের কণ্ঠস্বর: বগুড়ার সারিয়াকান্দিতে নিখোঁজের তিন সপ্তাহেও সন্ধান মেলেনি মোঃ আল আমিন (১১) নামে তৃতীয় শ্রেণিতে পড়ুয়া এক শিক্ষার্থীর।

নিখোঁজ আল আমিন বগুড়া জেলার সারিয়াকান্দি উপজেলার নারচি ইউনিয়নের টিওরপাড়া গ্রামের বাসিন্দা মোঃ মফিদুল ইসলামের ছেলে।

এ বিষয়ে আল-আমিনের পিতা মোঃ মফিদুল ইসলাম বাদি হয়ে গত ২১ অক্টোবর সারিয়াকান্দি থানা একটি সাধারণ ডায়েরী করেছেন। সারিয়াকান্দি থানার জিডি নম্বর-৯১৩।

আল আমিনের পিতা মফিদুল ইসলাম একজন আনসার সদস্য হিসেবে বর্তমানে ডিএমপির মিরপুর বিভাগে কর্মরত। আদরের সন্তানকে হারিয়ে মানসিকভাবে প্রচন্ডভাবে ভেঙ্গে পড়েছেন তিনি।

মফিদুল ইসলাম বলেন, আমার শিশুসন্তান আল আমিন গোদাগাড়ি সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয়ের তৃতীয় শ্রেনীর শিক্ষার্থী। গত ১৬ অক্টোবর আনুমানিক সকাল সাড়ে ছয়টার দিকে আল আমিন আমার বাড়ির সামনে খেলাধুলা করছিল। কিন্ত খেলাধুলা শেষ করে সে বাসায় না ফিরলে আমরা খুব চিন্তায় পড়ে যাই। এরপর টানা কয়েকদিন আশপাশের বিভিন্ন এলাকাসহ আমাদের সকল নিকটাত্মীয়ের বাসায় অনেক খোঁজাখুঁজি করেও তার সন্ধান পাওয়া যায়নি।

আমার ছেলের গায়ের রং ফর্সা, মুখমন্ডল গোলাকার, উচ্চতা ৩ ফিট ৬০ ইঞ্চি। হারিয়ে যাবার সময় তার পরনে আর্মি রংয়ের গেঞ্জি পরিহিত ছিল। নিখোঁজের তিন সপ্তাহ পেরিয়ে গেলেও তার সন্ধান না পেয়ে আমার পুরো পরিবার গভীরভাবে শোকাহত হয়ে পড়েছে।

কোন সহৃদয়বান ব্যাক্তি তার সন্ধান পেলে আমার ব্যবহৃত ০১৭৩৬-৬৩৪০৭৩ মোবাইল নম্বরে ফোন করে তার সন্ধান দিলে সারাজীবন কৃতজ্ঞ থাকবো।

এ বিষয়ে জিডির তদন্তকারী কর্মকর্তা সারিয়াকান্দি থানার এস.আই নজরুল ইসলাম বলেন, সংবাদ পাওয়ার পরপরই নিখোঁজ শিশু আল আমিনের সন্ধান পেতে ব্যাপক খোঁজাখুঁজি করে জানা গেছে পারবারিক কলহের জের ধরে নিখোঁজ আল আমিনের মা আকলিমা বেগম ও পিতা মোঃ মফিদুল ইসলামের বিচ্ছেদ ঘটে ২০১৭ সালে।

তদন্তে নেমে আল-আমিনের পরিবার ও এলাকাবাসী সূত্রে জানা গেছে, আকলিমার বাড়ি মাদারীপুর জেলার শিবচর উপজেলার একটি গ্রামে এবং তিনি ঢাকার আশুলিয়া এলাকায় একটি গার্মেন্টসে কাজ করার সুবাদে সেখানেই বসবাস করেন। তাদের বিচ্ছেদের পর নিখোঁজ আল আমিন তার পিতা মহিদুলের কাছেই থাকতো। আশা করি খুব শিঘ্রই তার সন্ধান মিলবে।