• আজ বুধবার, ২২ অগ্রহায়ণ, ১৪২৯ ৷ ৭ ডিসেম্বর, ২০২২ ৷

ভাটা পড়েছে ইবির সাংস্কৃতিক অঙ্গনে


❏ মঙ্গলবার, নভেম্বর ৮, ২০২২ শিক্ষাঙ্গন

যায়িদ বিন ফিরোজ, ইবি প্রতিনিধি: আর্থিক সংকট আর নানাবিধ সমস্যায় ভাটা পড়েছে ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ের (ইবি) সাংস্কৃতিক অঙ্গনে। উল্লেখযোগ্য কোন সাংস্কৃতিক চর্চা যেমন এখানে হচ্ছে না তেমনই বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের পক্ষ থেকেও নেই চোখে পড়ার মতো কোন কার্যক্রম। এমনই অভিযোগ এখানকার শিক্ষার্থীদের।

প্রতিষ্ঠার ৪৩ বছর পরেও নিজস্ব কোনো সাংস্কৃতিক বলয় গড়ে তুলতে পারেনি স্বাধীনতোত্তর বাংলাদেশের প্রথম এই পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়টি।

সাংস্কৃতিক অঙ্গনগুলো সমৃদ্ধ করতে শিক্ষার্থীদের আগ্রহ থাকলেও বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন বিষয়টি নিয়ে তেমন কোন কার্যকরী পদক্ষেপ গ্রহণ করেনি। বিভিন্ন জাতীয় দিবসেও খুব একটা ব্যবহৃত হচ্ছে না সাংস্কৃতিক অঙ্গন। অবহেলার নিশ্চুপ স্বাক্ষী হয়ে আছে ইবি সাংস্কৃতির প্রাণকেন্দ্র বাংলা মঞ্চ। সন্ধ্যা নামার আগেই নিরাপত্তার কথা বলে বন্ধ করে দেওয়া হয় সাংস্কৃতি অনুষ্ঠানগুলো এমন কথা জানান শিক্ষার্থীরা।

খোঁজ নিয়ে জানা যায়, ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয় থিয়েটার, নৃত্যাঙ্গন, সাংস্কৃতিক ঐক্যমঞ্চ, চলচ্চিত্র সংসদ, আবৃত্তি আবৃত্তি’র মতো বেশ কিছু সাংস্কৃতিক সংগঠন রয়েছে। কিন্তু বিভিন্ন অনুষ্ঠান, সভা, সেমিনার আয়োজনে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের পক্ষ থেকে কোনো আর্থিক প্রণোদনা দেওয়া হয় না তাদের। সংগঠনগুলোর নিজেদের উদ্যোগে বিভিন্ন অনুষ্ঠানের আয়োজন করলেও তাদের জন্য নেই কোনো কক্ষ বরাদ্দ। এসব কারণে শিক্ষার্থীরা সাংস্কৃতি বিমুখ হয়ে পড়ায় কর্মী হারাচ্ছে সংগঠনগুলো। যার ফলে অনেকটাই স্থবিরতা কাজ করছে তাদের কার্যক্রমে।

বিশ্ববিদ্যালয়ের মার্কেটিং বিভাগের ২য় বর্ষের শিক্ষার্থী মাহমুদুল খান ছোটন বলেন, আমাদের প্রানের ক্যাম্পাসটা যেন নামের মতোই বয়ে চলেছে। আমাদের ক্যাম্পাসে নেই তেমন সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান, নেই মানুষের আনাগোনা, ক্যাম্পাসটা প্রায় সীমাবদ্ধ রয়েছে রুম থেকে ক্লাস আবার ক্লাস থেকে রুমের গন্ডিতে। আর যদিও কোনো অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয় সেটাও চার দেয়ালের মাঝে আবদ্ধ থাকে।

এ বিষয়ে বিশ্ববিদ্যালয় চলচ্চিত্র সংসদের সভাপতি তৌফিক আহমেদ বলেন, যে কোন সাংস্কৃতিক সংগঠন পরিচালনার জন্য অর্থের প্রয়োজন হয়। কিন্তু, বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন আমাদের কোন আর্থিক প্রণোদনা দেয় না। শুধু মাত্র সংগঠনের সদস্যদের চাঁদা দিয়ে সকল কার্যক্রম পরিচালনা করা সম্ভব নয়।

বিশ্ববিদ্যালয় থিয়েটারের সভাপতি আব্দুল মমিন নাহিদ বলেন, আমাদের যথেষ্ট পরিমাণ শিল্পী রয়েছে। কিন্তু, আমাদের ভালো উদ্যোগ, কাজ করার মানসিকতা থাকার পরেও শুধু মাত্র অর্থ এবং বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের পৃষ্ঠপোষকতার অভাবে তেমন কোন কার্যক্রম পরিচালনা করতে পারি না।

এদিকে বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ছাত্রলীগ সাধারণ সম্পাদক নাসিম আহমেদ জয় বলেন, বাংলাদেশ ছাত্রলীগ সবসময় প্রগতিশীলতা ও সাংস্কৃতিক চর্চায় নেতৃত্বদানকারী সংগঠন। স্বাধীন পরবর্তী সময় প্রতিষ্ঠিত প্রথম বিশ্ববিদ্যালয় ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়। এ বিশ্ববিদ্যালয় সাংস্কৃতিক চর্চায় ও সাধারণ শিক্ষার্থীদের যে কোন যৌক্তিক দাবী জন্য ইবি শাখা ছাত্রলীগ সবসময় সাথে আছে। এছাড়া তাদের শারীরিক ও মানসিক উন্নয়ন ঘটাতে মাদক ও জঙ্গিবাদ বিরুদ্ধে কঠোর হতে সাংস্কৃতি চর্চা ভূমিকা পালন করবে এবং প্রগতিশীলতা ধারা অব্যাহত রাখবে।

এ বিষয়ে উপ-উপাচার্য অধ্যাপক ড. মাহবুবুর রহমান বলেন, আমাদের কাছে কেউ কোনো ধরণের সহযোগিতা চাইতে আসেনি। আমরা চাই বিশ্ববিদ্যালয়ের সাংস্কৃতিক কার্যক্রম চলমান থাকুক। তাদের কী ধরণের সহযোগিতা ও পৃষ্ঠপোষকতা প্রয়োজন তা যদি তারা আমাদের জানায় এবং সেটা যদি যৌক্তিক হয় তাহলে অবশ্যই তাদের সহযোগিতা করা হবে।