• আজ রবিবার, ১২ অগ্রহায়ণ, ১৪২৯ ৷ ২৭ নভেম্বর, ২০২২ ৷

কোটি টাকা ব্যয়ে ঝুঁকিপূর্ণ ভবন নির্মাণ!

Manikganj
❏ বুধবার, নভেম্বর ৯, ২০২২ ঢাকা

দেওয়ান আবুল বাশার,স্টাফ করেসপন্ডেন্ট: কোটি টাকা ব্যয়ে নির্মাণ করা হচ্ছে মানিকগঞ্জের হরিরামপুর উপজেলার ডাকরখালী সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় ভবন।

জানা গেছে, নিম্নমানের সামগ্রী দিয়ে ভবন নির্মাণের কাজ করা হচ্ছে এমন অভিযোগের ভিত্তিতে মানিকগঞ্জের অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (এডিসি-শিক্ষা ও আইসিটি) শুক্লা সরকার ওই ভবনের ছাদ ঢালাইয়ের কাজ বন্ধ রাখার নির্দেশ দেন। কিন্তু সেই নির্দেশনা অমান্য করে গত সোমবার (৭নভেম্বর) উপজেলা প্রকৌশলী অফিসের উপ-সহকারী প্রকৌশলী মাসুদুর রহমানের উপস্থিতিতে ওই ভবনের ছাদ ঢালাইয়ের কাজ সম্পন্ন করা হয়।

এ ঘটনায় ওই স্কুলের অভিভাবক ও এলাকাবাসীর মধ্যে তীব্র ক্ষোভের সৃষ্টি হয়। তারা কোন জায়গায় প্রতিকার না পেয়ে গণমাধ্যমকে খবর দেয়। গণমাধ্যমকর্মীরা নির্মাণ কাজের অনিয়মের তথ্য চেয়ে ঠিকাদারের প্রতিনিধির নিকট জানতে চাইলে তেলে-বেগুনে জ্বলে উঠে।

এলাকাবাসীরা জানায়, নির্মানকাজের অনিয়মের বিষয়ে স্কুলের প্রধান শিক্ষক, উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা, উপজেলা প্রকৌশলী ও উপজেলা শিক্ষা কর্মকর্তা বরাবর লিখিত অভিযোগ দায়ের করা হয়েছে।

এলাকাবাসীরা আরও জানায়, ডাকরখালি সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয়ে প্রায় কোটি টাকা ব্যায়ে ২০১৯-২০২০ অর্থ বছরে ভবন নির্মাণের কাজ শুরু হয়। কিন্তু সেই ভবন নির্মাণে ঢালাইয়ের কাজে ব্যবহার করা হয়েেছ ময়লাসহ নি¤œমানের বালু ও ইটের খোয়া। আর এই ইটের খোয়া, বালু ও সিমেন্ট মেশিন দ্বারা মেশানোর কথা থাকলেও তা না করে নি¤œমানের নির্মাণ সামগ্রী ব্যবহার কওে শিশু শ্রমিক দিয়ে হাতে মিশিয়ে পিলারের ঢালাইয়ের কাজ করেছে ঠিকাদার।

এ বিষয়ে এলজিইডির নির্বাহী প্রকৌশলী ফয়জুল হক ওই উপজেলা প্রকৌশল অফিসের উপ-সহকারী প্রকৌশলী মাসুদুর রহমাকে পর্যবেক্ষনের দায়িত্ব দেন। তার পর্যবেক্ষন শেষে নিম্নমানের সামগ্রী দিয়ে ভবনের পিলার নির্মানের সত্যতা পান। পরে উপজেলা প্রকৌশলী নির্মিত পিলারের লোকদেখানো মাত্র ২টি পিলার ভেঙ্গে বাকি পিলারগুলো অক্ষত রাখেন। গত ৭ নভেম্বর ওই পিলারের ওপরেই ছাদ ঢালাইয়ের কাজ শুরু করেন। এতে স্কুলের অভিভাবকসহ স্থানীয়রা ক্ষোভ প্রকাশ করেন।

ওই স্কুলের দপ্তরী মো. কামাল হোসনে বলেন, কাজের মান ভাল হবে কি করে? আমি যতবার উপ-সহকারী প্রকৌশলীকে এখানে আসতে দেখি সে ততবার ঠিকাদারের কাছ থেকে ৩ হাজার করে টাকা নিয়ে যায়। জমাট বাঁধা সিমেন্ট দিয়ে কাজ করলেও ওই প্রকৌশলী আর কিছু বলে না।

এ বিষয়ে ঠিকাদারের প্রতিনিধি বায়েজিদ বলেন, এখন রড সিমেন্ট ও ইটসহ সব কিছুর দাম বাড়ার কারনে কাজের মান একটু এদিক সেদিক হতে পারে। তবে এই কাজটি অমরেশ নামে এক ঠিকাদার আমাদের কাছ থেকে সাব কন্ট্রাক নিয়ে কাজ শুরু করে। কিছুদিন যাবার পর তারা আর কোন কাজ না করে আমাদেরকে ২০ লক্ষ টাকার কাজ হয়েছে বলে একটি ভাউচার ও মাল সামগ্রী ধরিয়ে দিয়ে এখান থেকে চলে যায়। এজন্য কাজটি শেষ হতে সময় লাগছে। তারা যেসব মাল সামগ্রী রেখে গেছে সেগুলো মানের দিক থেকে কেমন তা আমি বলবো না।

এ বিষয়ে বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মো. সাইদ হোসেন বলেন, তিন বছর হলো বিদ্যালয়ে ভবন নির্মাণের কাজ শুরু হয়েছে কিন্তু কাজ ঢিলেঢালাভাবা চলছে। কাজের গুনগতমান জানার জন্য ইস্টিমেট চাইলে উপজেলা প্রকৌশলী ও ঠিকাদার আমার কথায় কোন পাত্তা দেয়না।  এ বিষয়ে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা, উপজেলা প্রকৌশলী ও উপজেলা শিক্ষা কর্মকর্তা বরাবর লিখিত অভিযোগ দিয়েছি। কিন্তু তাতেও কোন কাজ হয়নি।