সরকারি কর্মচারীর উপর দায়িত্বরত অবস্থায় অতর্কিত হামলা!

Panchagar news
❏ শুক্রবার, নভেম্বর ১১, ২০২২ রংপুর

নাজমুস সাকিব মুন, পঞ্চগড় প্রতিনিধি: দায়িত্বরত অবস্থায় পঞ্চগড়ে ভূমি অফিসের এক কর্মচারীর উপর অতর্কিত হামলার ঘটনা ঘটেছে। হামলার শিকার মৃণাল কান্তি রায় দেবীগঞ্জ উপজেলার দেবীডুবা ইউনিয়ন ভূমি অফিসে অফিস সহায়ক পদে কর্মরত আছেন। এই ঘটনায় মৃণাল কান্তি রায় দেবীগঞ্জ থানায় এজাহার দাখিল করেছেন।

প্রত্যক্ষদর্শী ও ভুক্তভুগীদের সাথে কথা বলে জানা যায়, গত সোমবার (৭ নভেম্বর) মৃণাল কান্তি রায় দেবীডুবা ভূমি অফিসের একটি নোটিশ সোনাহার পশ্চিম মুন্সিপাড়া এলাকার একাব্বর দেওয়ানীর বাড়িতে দিতে যান। নোটিশ দিয়ে ফেরার পথে বিকাল ৩টায় বৃন্ধাপাড়া এলাকায় আসা মাত্র বগুড়াটারি এলাকার সিরাজুল ইসলামের ছেলে আব্দুল জলিল ও বৃন্ধাপাড়া এলাকার আনোয়ার আলোর ছেলে ফরমান আলী মৃণাল কান্তির পথরোধ করেন এবং কিছু বুঝে উঠার আগেই আব্দুল জলিল মৃণাল কান্তিকে এলোপাথাড়ি মারধর শুরু করেন। এক পর্যায়ে জলিল পার্শ্ববর্তী খেত থেকে কোদাল এনে মৃণাল কান্তিকে কোপ দিতে চাইলে ফরমান আলী তাতে বাধা দেন। এই সময় আশপাশে থাকা স্থানীয়রা ঘটনাস্থলে এসে তাদের আলাদা করে চিকিৎসার জন্য হাসপাতালে পাঠিয়ে দেন।

হামলার বিষয়টি জানতে আব্দুল জলিল ও ফরমান আলীর সাথে যোগাযোগ করা হলেও তারা কথা বলতে রাজি হননি। তবে সেই ঘটনায় আব্দুল জলিলের বড় ভাই আব্দুল রাজ্জাক বাদী হয়ে দেবীগঞ্জ থানায় এজাহার দেন। যেখানে উল্লেখ করা হয় দুই বছর আগে সোনাহার মল্লিকাদহ ইউনিয়ন ভূমি অফিসে থাকাকালীন মৃণাল কান্তি রায় জমি খারিজ করে দেওয়ার কথা বলে আব্দুল জলিলে নিকট ১০ হাজার টাকা নেন। তবে টাকা নিলেও জমি খারিজের ব্যাপারে দীর্ঘ দিন কোন সহযোগিতা করেননি মৃণাল কান্তি রায়। ঘটনার দিন (৭ নভেম্বর) খারিজের কাগজপত্র দিবেন বলে ডেকে নিয়ে আব্দুল জলিলের উপর হামলা করেন মৃণাল কান্তি রায়।

এই বিষয়ে মৃণাল কান্তি রায় বলেন, সেদিন আমি অফিসের নোটিশ বিলি করে ফিরছিলাম। আমার পথরোধ করে অতর্কিত হামলা চালিয়ে তারাই আবার আমার বিরুদ্ধে থানায় এজাহার দিয়েছেন। অফিসিয়াল ডিউটি পালনকালে আমার কাছে কিভাবে ছোরা আসলো তারাই ভাল জানেন। আমি একা মানুষ আর তারা ছিলেন দুইজন। এরপরও তাদের অভিযোগ আমিই নাকি তাদের মারধর করেছি। আর খারিজের জন্য টাকা লেনদেনের যে অভিযোগ করা হয়েছে তা পুরো মিথ্যা।

আব্দুল জলিলের বাম হাতের বৃদ্ধাঙ্গুলি আহতের বিষয়ে জানতে চাইলে মৃণাল কান্তি বলেন, আমাকে মারধর করার এক পর্যায়ে রাস্তার পাশে থাকা বাঁশ ভেঙ্গে আনতে গিয়ে নিজেই আহত হন আব্দুল জলিল।

দেবীগঞ্জ থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) জামাল হোসেন বলেন, উভয় পক্ষ এজাহার জমা দিয়েছেন। প্রাথমিক তদন্ত শেষে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।