• আজ বুধবার, ২২ অগ্রহায়ণ, ১৪২৯ ৷ ৭ ডিসেম্বর, ২০২২ ৷

ফরিদপুরে চলছে ৩৮ ঘণ্টার বাস-মিনিবাস ধর্মঘট

Faridpur news
❏ শুক্রবার, নভেম্বর ১১, ২০২২ ঢাকা

হারুন-অর-রশীদ, ফরিদপুর প্রতিনিধি: আগামীকাল ১২ নভেম্বর ফরিদপুরের বিএনপির বিভাগীয় গণসমাবেশকে সামনে রেখে শুরু হয়েছে
জেলা মালিক শ্রমিক ঐক্য পরিষদের ডাকা ধর্মঘট। শুক্রবার (১১ নভেম্বর) ভোর ৬টা থেকে শুরু হওয়া এ ধর্মঘট ১২ নভেম্বর শনিবার রাত ৮টা পর্যন্ত চলবে।

এর আগে বৃহস্পতিবার (১০ নভেম্বর) জেলা শহরে মাইকিং করে এ ধর্মঘটের কথা জানিয়ে দেয়া হয়। ফরিদপুর জেলা মালিক সমিতি ঐক্য পরিষদের পক্ষ থেকে বাস চলাচল বন্ধে এ মাইকিং করা হয়।

এ সময় মাইকিং করে বলা হয়েছিল, মহাসড়কে তিন চাকার যান চলাচল নিষিদ্ধের দাবিতে ১১ নভেম্বর শুক্রবার (১১ নভেম্বর) সকাল ৬টা থেকে ১২ নভেম্বর শনিবার রাত ৮টা পর্যন্ত জেলার সকল রুটে বাস-মিনিবাস চলাচল বন্ধ রাখতে বলা হলো।

এদিকে, ফরিদপুরে বিএনপির বিভাগীয় গণসমাবেশকে সামনে রেখে যাত্রীবাহী বাস ও মিনিবাসের সাথে বাংলাদেশ সড়ক পরিবহন করপোরেশনের (বিআরটিসি) বাস চলাচলও বন্ধ রাখা হয়েছে। শুক্রবার (১১ নভেম্বর) সকালে ফরিদপুরের বিআরটিসি বাস পরিবহনের সহকারী পরিচালক মোজাম্মেল হাসান এ তথ্য নিশ্চিত করেন।

ফরিদপুর বিআরটিসি বাস পরিবহনের সহকারী পরিচালক মোজাম্মেল হাসান বলেন, শুক্র ও শনিবার ফরিদপুর থেকে সব পথে বিআরটিসির বাস চলাচল বন্ধ রাখা হয়েছে।

তিনি বলেন, বাস মালিক শ্রমিক ঐক্য পরিষদ মহাসড়কে সব ধরনের অবৈধ তিন চাকার যান চলাচল বন্ধের জন্য শুক্রবার সকাল ছয়টা থেকে ৩৮ ঘণ্টার ধর্মঘট ডেকেছে। তাঁরাও ওই দাবির প্রতি সংহতি জানিয়ে বাস বন্ধ করে দিয়েছেন। শুক্রবার ও শনিবার তাঁদের কাউন্টার বন্ধ থাকবে।

এব্যাপারে বিএনপির ভাইস চেয়ারম্যান ও ফরিদপুর বিভাগীয় গণসমাবেশের প্রধান সমন্বয়কারী ডা. এ,জড,এম ড. জাহিদ হোসেন বলেন, ফরিদপুরে বিএনপির গণসমাবেশকে বাধাগ্রস্ত করার জন্যই বাস ও মিনিবাস মালিক সমিতির ধর্মঘট ডাকা হয়েছে। বাস ও মিনিবাস মালিক সমিতি মহাসড়কে তিন চাকার যান চলাচল নিষিদ্ধের দাবিতে যেই চিঠি দিয়েছিল তাতে তারা বৃহস্পতিবার (১০ নভেম্বর) সন্ধ্যা পর্যন্ত দাবি মেনে নেয়ার জন্য আল্টিমেটাম দিয়েছিল। কিন্তু তাদের সেই আল্টিমেটাম শেষ হওয়ার আগেই তারা শহরে মাইকিং করে বাস ধর্মঘটের কথা জানিয়ে দিয়েছে। এটি যে সরকারেরই একটি পাতানো খেলা এতে সেটিই প্রমাণ হয়ে গেছে।

তবে, এব্যাপারে জেলা বাস মালিক শ্রমিক ঐক্য পরিষদের সাধারণ সম্পাদক গোলাম নাসির বলেন, সড়ক পরিবহন ও সেতু মন্ত্রণালয়ের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী মহাসড়কে অবৈধ যান চলাচল বন্ধের পদক্ষেপ গ্রহণের জন্য ফরিদপুরের জেলা প্রশাসক অতুল সরকারের মাধ্যমে ঢাকা বিভাগীয় কমিশনার বরাবর গত সোমবার চিঠি দিয়ে আমাদের দাবি মেনে নেয়ার অনুরোধ জানিয়েছিলাম। তবে সেই দাবি মানা হয়নি। ফলে শুক্রবার সকাল ৬টা থেকে ১২ নভেম্বর শনিবার রাত ৮টা পর্যন্ত ফরিদপুর জেলা বাস টার্মিনাল থেকে আঞ্চলিক বাস ও মিনিবাসসহ দূরপাল্লার পরিবহনের সব রুটের বাস চলাচল বন্ধ রাখা হয়েছে।

এব্যাপারে পরিবহন মালিক-শ্রমিক ঐক্য পরিষদের সহ-সভাপতি জুবায়ের জাকির বলেন, বাস মিনিবাস বন্ধের সঙ্গে বিএনপির সমাবেশের কোনো সম্পর্ক নেই। আমরা কয়েকদিন আগে থেকেই এ সিদ্ধান্ত গ্রহণ করেছি। এর সাথে বিএনপির সমাবেশের তারিখ মিলে গেলে আমাদের কি করার আছে? মহাসড়কে ত্রি-হুইলার নছিমন, করিমন, ভটভটি, মাহিন্দ্রা, ব্যাটারিচালিত রিকশা, ইজিবাইক ও ভাড়ায় চালিত মোটরসাইকেল চলাচল বন্ধের নিষেধাজ্ঞা থাকা সত্ত্বেও এসব অবৈধ যান মহাসড়কে অবাধে চলাচল করছে। এর প্রতিবাদে আমরা এ সিদ্ধান্ত নিয়েছি।