🕓 সংবাদ শিরোনাম

দরিদ্র মানুষ না খেয়ে মরবে না: পরিকল্পনা মন্ত্রী * চট্টগ্রামে প্রধানমন্ত্রীর উপহার, ২৯ প্রকল্প ও ৪ ভিত্তিপ্রস্তর * মিরাজের দায়িত্বশীল ব্যাটিংয়ে বাংলাদেশের অবিশ্বাস্য জয় * ফুলবাড়ীতে গাঁজাসহ এক নারী গ্রেফতার * সৌদিতে পাচারকালে ২৪ লাখ ইয়াবা আটক * ভালুকা আ’লীগের সাধারণ সম্পাদক প্রার্থী হিসেবে আলোচনার শীর্ষে জামাল * দুই বছর আগে হস্তান্তর হওয়া মুক্তিযুদ্ধ স্মৃতিস্তম্ভ অযত্নে অবহেলায় পরিত্যক্ত প্রায় * ফরিদপুর মেডিকেল হাসপাতালে বাড়ছে চুরি-ছিনতাই, নিরব হাসপাতাল প্রশাসন * নীলফামারীতে ট্রাকের ধাক্কায় ও ট্রেনে কাটা পড়ে শিক্ষার্থীসহ নিহত ২ * আমরা উন্নয়ন করি, বিএনপি মানুষ খুন করে: প্রধানমন্ত্রী *

  • আজ রবিবার, ১৯ অগ্রহায়ণ, ১৪২৯ ৷ ৪ ডিসেম্বর, ২০২২ ৷

আশঙ্কাজনক হারে বৃদ্ধি পাচ্ছে শিশু রোগীদের সংখ্যা


❏ শনিবার, নভেম্বর ১২, ২০২২ জাতীয়

রাজু আহমেদ, স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, সময়ের কণ্ঠস্বর: নানা আগাম আগমনী বার্তার মধ্য দিয়ে দিয়ে দেশে আগমনের জানান দিচ্ছে শীত। দেশের উত্তরবঙ্গসহ বেশ কিছু জেলায় শীতের আগমন বেশ হারে হারে ফুটে উঠেছে। তবে একাই নয়; প্রতিবছরের ন্যায় এবারেও শীত সঙ্গে নিয়ে এসেছে নানা রকম রোগব্যাধি।

শীতের আগমণের সাথে সাথে পাল্লা দিয়ে রাজধানীসহ দেশের বিভিন্ন জেলায় আশঙ্কাজনক হারে বেড়েছে শিশুদের শ্বাসকষ্ট, ঠান্ডা জনিত সমস্যা, নিউমোনিয়া, পেটের ব্যাথা ও ব্রংকাইটিস রোগ। সেই সাথে হাসপাতালগুলোতে উল্লেখযোগ্য হারে বাড়ছে শিশু রোগীদের সংখ্যা।

শনিবার (১২ নভেম্বর) সকালে রাজধানীর মিরপুরের এম আর খান শিশু হাসপাতালে গিয়ে দেখা গেছে, কয়েক শতাধিক শিশু রোগীদের চিকিৎসা নিতে হাসপাতালে ভিড় করেছেন অভিভাবকগণ। হাসপাতালটির কয়েকটি ফ্লোরেই শিশুদেরকে কোলে নিয়ে চিকিৎসকের অপেক্ষায় কয়েকশতক নারী পুরুষ অপেক্ষায় রয়েছেন। সকাল থেকে দুপুর পর্যন্ত রাজধানীর একাধিক শিশু হাসপাতাল ঘুরেও এমনই চিত্র দেখা গেছে।

সরেজমিনে রাজধানীর বাংলাদেশ শিশু হাসপাতাল ইনস্টিটিউটে গিয়ে দেখা গেল, হাসপাতালটির বিভিন্ন ওয়ার্ডে ঠান্ডাজনিত রোগে আক্রান্ত বহু নবজাতক ও শিশুরোগীকে ভর্তি করা হয়েছে। এদের কেউ কেউ শর্দি, কাশি, শ্বাসকষ্ট, নিউমোনিয়া, ব্রঙ্কাইটিস, জ্বর ডায়রিয়ায় আক্রান্ত। হাসপাতালে ভর্তির পর অনেক শিশু সুস্থ হয়ে ফিরে গেলেও অনেক নবজাতক ও শিশুদের গুরুতর অবস্থাও পরিলক্ষিত হয়েছে।

তবে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের ভাষ্যমতে, আবহাওয়াজনিত কারণে বেড়েছে শিশু রোগের প্রকোপ। গত ১ সপ্তাহে মিরপুরের এমআর খান শিশু হাসপাতালটিতে চিকিৎসা নিয়েছে সহস্রাধিক শিশু রোগী। স্বাভাবিকের চেয়ে কশেকগুণেরও বেশি রোগী চিকিৎসা গ্রহণ করলেও বেশিরভাগ রোগীর রোগের ধরনও বেশ সামঞ্জস্যপূর্ণ । তবে আতঙ্কিত না হয়ে অভিভাবকদের উচিত কিছু নির্দেশনা মেনে চলা।

বাংলাদেশ শিশু হাসপাতাল ইনস্টিটিউট কর্তৃপক্ষ জানিয়েছেন, নভেম্বরের শুরু থেকেই হাসপাতালে বাড়তে শুরু করেছে শীতজনিত রোগীর সংখ্যা। গত ৭ দিনে শুধুমাত্র এই হাসপাতাল থেকেই চিকিৎসা নিয়েছ কয়েক সহস্রাধিক শিশু। হাসপাতালটিতে শিশুদের জন্য থাকা শয্যার বিপরীতে প্রতিদিন গড়ে ভর্তি থাকছে অন্তত কয়েকগুণ শিশু। আর প্রতিদিন নতুন ভর্তি হওয়া রোগীর সংখ্য থাকছে ১শ’র উপরে।

শনিবার দুপুরে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে গিয়ে দেখা গেছে, অসুস্থ শিশু সন্তানের জন্য শয্যা না পেয়ে হাসপাতালের বারান্দায় ও মেঝেতে নোংরা পরিবেশে শিশুর চিকিৎসা নিচ্ছেন অনেক অভিভাবক। হাসপাতালের সিঁড়ির সামনের করিডোর, মহিলা, শিশু, সার্জারি ও গাইনি ওয়ার্ডের সামনে থাকা বারান্দার মেঝেও রোগীদের চাপে কানায় কানায় পূর্ণ। হাসপাতালের ওয়ার্ডের রোগীদের জন্য নির্ধারিত টয়লেটের সামনের মেঝেতেও আছেন কেউ কেউ। মহিলা ও শিশু ওয়ার্ডের প্রতিটি শয্যা পরিপূর্ণ অবস্থায় রয়েছে। বহির্বিভাগে চিকিৎসা নিতে আসা রোগীদের উপচে পড়া ভিড় রয়েছে। ঘণ্টার পর ঘণ্টা দাঁড়িয়ে থেকেও চিকিৎসকের সিরিয়াল পাচ্ছেন না অনেকে। চিকিৎসা নিতে আসা বিপুল রোগী সামাল দিতে হিমশিম খাচ্ছেন চিকিৎসক ও নার্সরা।

মিরপর থেকে শিশুসন্তানকে চিকিৎসা করাতে বাংলাদেশ শিশু হাসপাতাল ইনস্টিটিউটে আসা মুসাব্বির হোসেন নামে এক ব্যাক্তি বলেন, দুদিন ধরে অসুস্থ শিশুসন্তানকে নিয়ে হাসপাতালে ভর্তি আছি। আমার মনে হচ্ছে ছেলেটা আরও বেশি অসুস্থ হয়ে পড়েছে। ডাক্তার একবার দেখে নেবুলাইজার করার পরামর্শ দিয়েছেন। কিন্ত হতাশার বিষয় হচ্ছে, হাসপাতালে একই নেবুলাইজার যন্ত্র দিয়ে বহু রোগীকে গ্যাস দেয়া হয়। অনেকক্ষণ সিরিয়ালে দাড়িয়ে থেকে যন্ত্রটা পাওয়াও কোঠিন হয়ে পড়ে। নার্সদের বলতে গেলে তারা হতাশাজনক ব্যবহার করেন।

ব্রাহ্মণবাড়িয়া থেকে শিশুর ঠাণ্ডা ও শ্বাস কষ্টের চিকিৎসা নিতে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে (ঢামেক) এসেছেন ইয়াসমিন আক্তার নামে এক নারী। শিশুর যাবতীয় পরীক্ষা নিরীক্ষা সম্পন্ন করে চিকিৎসক হাসপাতালে ভর্তির পরামর্শ দিলে ভর্তি করার পর শয্যা না পেয়ে তিনদিন যাবৎ হাসপাতালের মেঝেতেই শিশুকন্যাটির চিকিৎসা করাচ্ছেন তিনি।

আক্ষেপ করে আকলিমা বেগম নামে কেরানীগঞ্জ থেকে শিশুর চিকিৎসা নিতে আসা আরেক নারী বলেন, শিশুকণ্যাকে চিকিৎসা করাতে এসে কয়েকদিন যাবৎ নোংরা পরিবেশে দুর্গন্ধের মধ্যে আছি। মানুষ দাঁড়ানোর জায়গা নাই, সিট পাবো কোথায়। রাতে ঠাণ্ডা বাতাস আর মশার উপদ্রপে শিশুসহ আমি নিজেও অসুস্থ হয়ে পড়েছি।

এ বিষয়ে বাংলাদেশ শিশু হাসপাতাল ইনস্টিটিউটের শিশু বিশেষজ্ঞ ডাঃ আয়ুব আলী সময়ের কণ্ঠস্বরকে বলেন, আবহাওয়া ও জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাবে শীতের সময়ে সব বয়সের মানুষই কমবেশি বিভিন্ন রোগে আক্রান্ত হয়ে থাকেন। তবে শিশুদের এই রোগগুলো বেশি হয় কারন কিছু কিছু ভাইরাস থাকে যা কিনা শুধুমাত্র শীতের সময়েই বংশবিস্তার করে এবং আক্রমন করে। এছাড়া এসময় বাতাসের আদ্রতাও থাকে অস্বাভাবিক। ফলে ইনহেলেশন বা শ্বাস-প্রশ্বাসের মাধ্যমে এসকল ভাইরাস শ্বাসতন্ত্রে প্রবেশ করে। বৃষ্টিপাত কম থাকায় বাতাসে মিশে থাকা ধুলা ও ক্ষতিকারক অন্যান্য উপাদান ঝড়ে না পড়ায় অন্যান্য সময়ের তুলনায় শীতকালে বাতাসে ধুলাবালির পরিমাণও অধিক থাকে। ফলে নানা রোগব্যাধির আক্রমন ও আক্রান্ত হওয়ার আশংকা বেড়ে যায়। তবে আতংকিত না হয়ে রোগ প্রতিরোধে সকল অভিভাবকদের উচিত সতর্ক হয়ে চলা।