• আজ রবিবার, ১২ অগ্রহায়ণ, ১৪২৯ ৷ ২৭ নভেম্বর, ২০২২ ৷

গায়ক আকবরকে নিয়ে পূর্ণিমার স্মৃতিচারণ


❏ রবিবার, নভেম্বর ১৩, ২০২২ বিনোদন

বিনোদন ডেস্ক: হানিফ সংকেতের ইত্যাদির মাধ্যমে সঙ্গীত শিল্পী হয়ে উঠেছিলেন আকবর। কিশোর কুমারের ‘একদিন পাখি উড়ে’ গানটি করেছিলেন তিনি। এর পররে ইত্যাদিতে তৈরি হয় আকবরের প্রথম মৌলিক গান ‘তোমার হাত পাখার বাতাসে’ গানটির মিউজিক ভিডিও। সেসময় অনেক জনপ্রিয় হয় গানটি।

‘তোমার হাত পাখার বাতাসে’ গানে আকবরের স্ত্রীর ভূমিকায় অভিনয় করেছিলেন ঢাকাই সিনেমার জনপ্রিয় অভিনেত্রী পূর্ণিমা। সেই সহশিল্পীর মৃত্যুতে শোক জানিয়েছেন এই নায়িকা। পূর্ণিমার পাশাপাশি শোক জানিয়েছেন দেশের শোবিজ অঙ্গনের অনেকেই।

রোববার (১৩ নভেম্বর) দুপুরে রাজধানীর বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয় হাসপাতালের আইসিইউতে মারা যান তিনি। বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন কণ্ঠশিল্পী আকবর স্ত্রী কানিজ ফাতেমা।

আকবরের মৃত্যুর সংবাদে পূণির্মা বলেন, ‘আকবর মারা গেছেন, এটা আমার জন্য অবশ্যই খারাপ লাগার বিষয়। দীর্ঘদিন উনি অসুস্থ ছিলেন। চিকিৎসার জন্যও নানান বেগ পেতে হয়েছে। আমি উনার বিদেহী আত্মার শান্তি কামনা করছি।’

আকবরের সঙ্গে সেই গানের ভিডিওতে কাজ করার অভিজ্ঞতাও স্মরণ করেন এই তারকা। তার ভাষ্যে, “আমার সঙ্গে আকবরের ওই একটাই কাজ হয়েছে। সেটা ২০০৩ সালের দিকে। এটা সম্ভব হয়েছেন হানিফ সংকেত দা’র জন্যই। আকবর যখন ‘একদিন পাখি উড়ে’ করে এত জনপ্রিয়তা পান এরপর হানিফ সংকেত দা এই মিউজিক ভিডিওটির চিন্তা করেন।

তখনকার জনপ্রিয় নায়িকা হিসেবেই হয়তো আমাকে প্রস্তাব দেন। তখন কাজটি করি। জনপ্রিয়তার দিক থেকে বলা যায় এটি ‘ইত্যাদি;তে প্রচারিত আকবরের প্রথম গানটিকেও ছাড়িয়ে যায়। সবচেয়ে বড় কথা এটি ছিলো তার নিজের মৌলিক গান। গানটির জন্য আমিও মানুষের অনেক ভালোবাসা পেয়েছি।”

পূর্ণিমা আরও বলেন, ‘কাজটি করার সময় তিনি বেশ নার্ভাস ছিলেন। তার জীবনে এটা অনেক বিশাল একটি কাজ। আমার সঙ্গে বসে আছেন তিনি। আমি হাত পাখার বাতাস করছি তাকে, খাওয়াচ্ছি। হাত ধরারও কিছু দৃশ্য ছিলো। এত বেশি নার্ভাস ছিলেন। পাশে বসবেন কী বসবেন না! আরও অনেক সংশয়ে ছিল। কিন্তু আমি আর সংকেত দা তাকে যেভাবে বুঝিয়েছি সেভাবেই শেষ পর্যন্ত কাজটি করেছেন। বোঝাই যায়নি এই ধরনের কাজ এটাই তার প্রথম।’

এই নায়িকা আরও জানান, সেই কাজের পর আকবরের সঙ্গে তার আর কোনো কাজ হয়নি। তবে বিভিন্ন শোতে একাধিকবার দেখা হয়েছে। দেখা হলেই আকবর তাকে সালাম দিতেন। সম্মান করতেন।

দুই বছর ধরে ডায়াবেটিস, জন্ডিস, কিডনি, রক্তের প্রদাহসহ শারীরিক নানা জটিলতায় ভুগছিলেন আকবর। দুটি কিডনি বিকল হয়ে যাওয়ায় তার শরীরে পানি জমে ডান পা নষ্ট হয়ে গিয়েছিল। দুই সপ্তাহ আগে অস্ত্রোপচারের মাধ্যমে সেই পা কেটে ফেলা হয়। পা কাটার পর তার কিডনি ও লিভারের সমস্যা আরও বেড়ে যায়।

পরে শারীরিক অবস্থার অবনতি হলে গত ৫ নভেম্বর দুপুরে তাকে রাজধানীর ইব্রাহিম কার্ডিয়াক হাসপাতালে (বারডেম) ভর্তি করা হয়। এরপর আশঙ্কাজনক অবস্থায় ৯ নভেম্বর ভোরে তাকে আইসিইউতে নিয়ে যাওয়া হয়। শেষ পর্যন্ত সেখান থেকে আর ফেরা হয়নি এই গায়কের।