• আজ রবিবার, ১২ অগ্রহায়ণ, ১৪২৯ ৷ ২৭ নভেম্বর, ২০২২ ৷

চুয়াডাঙ্গায় আগাম সিমের বম্পার ফলন, ভালো দামে চাষীরা খুশি

Chuadanga News
❏ রবিবার, নভেম্বর ১৩, ২০২২ খুলনা

শামসুজ্জোহা পলাশ, চুয়াডাঙ্গা প্রতিনিধি: চলতি মৌসুমে চুয়াডাঙ্গা জেলার চার উপজেলায় আগাম জাতের ঈশা-১, বারি-৩/৪ ও বাও-৪ (স্থানীয় ভাবে অটো সিম বলে) সিমের বম্পার ফলন হয়েছে। এ সিমের দামও বেশ ভাল পাওয়ায় চাষীর বেশ খুশি।

চুয়াডাঙ্গা জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদফতর সূত্রে জানাগেছে, জেলার চার উপজেলায় ৩০৬ হেঃ জমিতে আগাম জাতের সিমের আবাদ হয়েছে। এরমধ্যে চুয়াডাঙ্গা সদর উপজেলায় ৪৯ হেঃ, আলমডাঙ্গা উপজেলায় ২৩ হেঃ, দামুড়হুদা উপজেলায় ১৫৫ হেঃ ও জীবননগর উপজেলায় ৭৯ হেঃ জমিতে আবাদ হয়েছে।

সরেজমিনে বিভিন্ন মাঠে গিয়ে দেখাগেছে চুয়াডাঙ্গা জেলার চাষীরা মাচা পদ্ধতিতে আগাম উন্নত জাতের সিম চাষ করেছে। মাচা পদ্ধতিতে সিম চাষ করে চাষীরা যেমন ভালো ফলন পাচ্ছে তেমনি ভালো দাম পাচ্ছে। এলাকার চাহিদা মিটিয়ে ঢাকাসহ দেশের বিভিন্ন জেলায় এই সিম রপ্তানি করা হচ্ছে।

জেলার সদর উপজেলার দোস্ত-দিকেষ্টপুর গ্রামের মাঠে প্রতি বছরই ৫-৬শ বিঘা জমিতে অটো জাতের সিমের আবাদ হয়ে থাকে। গত দু’তিন বছর যাবত অটো জাতের সিমের আবাদ করে ভালো ফলন পেয়েছে চাষীরা। বিঘাপ্রতি খরচ বাদ দিয়ে লাখ টাকার উপরে লাভ করছে । এই দুটি গ্রামের প্রায় সব চাষীরা ২থেকে ৩বিঘা পর্যন্ত সিমের আবাদ করে থাকে।

এসব এলাকার সিমচাষীরা জানান, সিম আবাদের জন্য তারা ভাদ্র মাস থেকে জমি প্রস্তুতের কাজ শুরু করে। এরপর বাশের কাবারি ও তার দিয়ে তৈরি করা হয় সারিবদ্ধ মাচা। সেচ দিয়ে লাগানো হয় বীজ। লাগানোর ৪৫-৫০দিন পরেই ফল আশা শুরু হয়। ১ম ধাপে সিম কম উঠলেও পর্যায়ক্রমে সপ্তাহে বিঘা প্রতি ৭০ থেকে ১০০মন পর্যন্ত সিম তোলা যায়। সিম বিক্রি করার বাড়তি কোনো ঝামেলা নেই। পাইকারি ব্যবসায়ীরা কৃষকদের কাছ থেকে নগদ অর্থে সিম ক্রয় করে থাকে। এবছর বর্তমান বাজার দর ৫০টাকা কেজি বিক্রি করছে চাষীরা।

চুয়াডাঙ্গা সদর উপজেলার দোস্ত গ্রামের তরুণ চাষী মোস্তাফিজুর রহমান বলেন, ২বিঘা জমিতে তাদের অটো জাতের সিম চাষ করেছে। এ পর্যন্ত ১লাখ ৮০হাজার টাকার সিম বিক্রি করা হয়েছে। আরও ৫০হাজার টাকার সিম বিক্রি হবে বলে আশা করছে।

চুয়াডাঙ্গা সদর উপজেলার দিকেষ্টপুর গ্রামের চাষী মিজানুর রহমান বলেন, আড়াই বিঘা জমিতে একই জাতের সিম আবাদ করেছি। সংসারের যাবতীয় খরচ সিম বিক্রির টাকায় করতে হয়। একটা ছেলেকে উচ্চ শিক্ষায় শিক্ষিত করেছি, একটা ছেলেকে কোরআনের হাফেজ করেছি।

চুয়াডাঙ্গা জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপপরিচালক বিভাস চন্দ্র সাহা বলেন, চলতি মৌসুমে জেলায় ঈশা-১, বারি-৩/৪ ও বাও-৪ আগাম জাতের সিমের চাষ হয়েছে। আমরা কৃষকদের কে সিমের ভালো ফলন পেতে সর্বক্ষণিক সহযোগিতা করে আসছি। তাদের কে সিমের জাব পোকা নিয়ন্ত্রণে ছাই ব্যবহার ও হাতবাছায় করার পরামর্শ দেয়া হচ্ছে।