🕓 সংবাদ শিরোনাম

মির্জা ফখরুল ও মির্জা আব্বাসকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য আনা হয়েছে: ডিবি * হাজারীবাগে ঘরের ভিতর থেকে মা-সন্তানসহ ৩ জনের লাশ উদ্ধার * বাগদান করেও বিয়ে ভেঙে দিলেন নুসরাত ফারিয়া! * মাগুরায় মাদকবাহী পিকআপ ভ্যানের ধাক্কায় দুই র‌্যাব সদস্যসহ নিহত-৩ * মির্জা ফখরুলকে আটকের বিষয়ে যা বললেন তার স্ত্রী * মধ্যরাতে মির্জা ফখরুল ও মির্জা আব্বাসকে আটকের অভিযোগ * শেখ হাসিনার উন্নয়নের জোয়ারে মানুষ মঙ্গা ভুলে গেছেন : আসাদুজ্জামান নূর * ওয়ালটন নিয়ে এলো ভার্চুয়াল র‌্যামসহ ৮ জিবির স্মার্টফোন ‘প্রিমো আর টেন’ * সৌদিআরবের মরুভূমিতে মাছের আকৃতি পাথর আবিস্কার * ফরিদপুরে ফেসবুকে প্রধানমন্ত্রীকে নিয়ে কটূক্তি, যুবক গ্রেফতার *

  • আজ শুক্রবার, ২৪ অগ্রহায়ণ, ১৪২৯ ৷ ৯ ডিসেম্বর, ২০২২ ৷

রসিক নির্বাচনে মাঠে নেই বিএনপি স্বতন্ত্র বেশে জামায়াত

Rangpur news
❏ সোমবার, নভেম্বর ১৪, ২০২২ রংপুর

সাইফুল ইসলাম মুকুল,স্টাফ করেসপন্ডেন্ট (রংপুর): রংপুর সিটি করপোরেশন (রসিক) নির্বাচন ঘিরে প্রচারণা চালালেও তফসিল ঘোষণার পর নির্বাচনে অংশগ্রহণ না করার সিদ্ধান্ত জানিয়েছে বিএনপি। জাতীয় পার্টির দুর্গে বিএনপি নির্বাচনে অংশ না নিলেও মাঠ ছাড়েনি জামায়াতে ইসলামী। স্বতন্ত্র প্রার্থীর বেশে মাঠে নীরব প্রচারণা চালাচ্ছেন মহানগর জামায়াতে ইসলামীর সাবেক আমির অধ্যাপক মাহাবুবার রহমান বেলাল।

বর্তমান সিটি মেয়র জাতীয় পার্টি থেকে আগেভাগেই প্রার্থী হিসেবে চূড়ান্ত হওয়ায় তিনিও ভোটের প্রচারণায় সরব রয়েছেন। তবে ক্ষমতাসীন দল আওয়ামী লীগের প্রার্থী চূড়ান্ত না হওয়ায় মনোনয়নপ্রত্যাশীদের মধ্যে স্নায়ুচাপ বাড়ছে। এই তালিকায় যুক্ত হচ্ছে নতুন নতুন নাম। নিজেদের মধ্যে দলীয় প্রতীক নৌকা নিয়ে শুরু হয়েছে নীরব লড়াই।

এদিকে বিএনপি নেতাদের দাবি, বর্তমান সরকার ও নির্বাচন কমিশনের অধীনে কোনো নির্বাচন সুষ্ঠু হবে না। এটি নীল নকশা বাস্তবায়নের নির্বাচন, সেখানে অংশগ্রহণ করে কোনো লাভ হবে না। তাই সুষ্ঠু ও অবাধ নির্বাচন না হওয়ার শঙ্কায় নির্বাচন না করার ঘোষণা দিয়েছেন দলটির রংপুর মহানগরের আহ্বায়ক সামসুজ্জামান সামু।

রসিক নির্বাচনে অংশগ্রহণের জন্য কয়েক মাস আগে থেকে মহানগর বিএনপির আহ্বায়ক সামসুজ্জামান সামু, বিএনপি নেতা কাওছার জামান বাবলা ও যুবদল নেতা নাজমুল আলম নাজু প্রচারণা চালিয়ে আসছেন। কিন্তু তফসিল ঘোষণার পর হঠাৎ করেই প্রচারণা থেকে সরে আসেন দলটির মনোনয়নপ্রত্যাশীরা।

এ ব্যাপারে মহানগর বিএনপির আহ্বায়ক সামসুজ্জামান সামু বলেন, সিটি নির্বাচনে আমাদের প্রার্থী ছিল। কিন্তু এই সরকার এবং নির্বাচনের অধীনে কোনো নির্বাচন সুষ্ঠু হবে না। সে কারণে আমরা এই নির্বাচনে অংশগ্রহণ করব না। এটা দলীয় সিদ্ধান্ত।

তিনি আরও বলেন, নির্বাচনের দিন আমাদের নেতাকর্মীরা ঘরে বসে থাকবে। তারা ভোট দিতেও যাবে না। সরকার নীল নকশা নির্বাচনের পায়তারা করছে। এই সরকারের অধীনে নির্বাচনের সুষ্ঠু পরিবেশ কোথাও ছিল না। তাই বিএনপি রংপুর সিটি করপোরেশন নির্বাচনে অংশ নিচ্ছে না।
রসিক নির্বাচনে বিএনপি অংশ না নিলে এবং শেষ পর্যন্ত জামায়াতে ইসলামীর প্রার্থী ভোটযুদ্ধে থাকলে নির্বাচনকে ঘিরে তৈরি হতে পারে নতুন মেরুকরণ। প্রতিদ্বন্দ্বিতার লড়াইয়ে আওয়ামী লীগ ও জাতীয় পার্টির প্রার্থীকে বেকায়দায় ফেলতে স্বতন্ত্র বেশে মাঠে নামা জামায়াতে ইসলামীর ভোটের সংখ্যা বাড়াতে পারে বিএনপি। যদিও জামায়াতে ইসলামীর প্রার্থী নিয়ে চিন্তিত নন সরকারি ও বিরোধী দল।

জামায়াতে ইসলামীর রংপুর মহানগরের সাবেক আমির অধ্যাপক মাহাবুবার রহমান বেলাল বলেন, আমি জামায়াতে ইসলামীর রাজনীতির সঙ্গে জড়িত থাকলেও সিটি নির্বাচনে স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে অংশগ্রহণ করব। খুব দ্রুত আনুষ্ঠানিকভাবে প্রচারণায় নামব। আশা করি সুষ্ঠু নির্বাচন হলে আমি বিজয়ী হব। নির্বাচিত হলে পরিচ্ছন্ন ও সুন্দর নগরী উপহার দিতে পারবেন বলে আশাবাদ ব্যক্ত করেন তিনি।

বিএনপি যখন এই সরকারের অধীনে নির্বাচন করবে না বলে ঘোষণা দিয়েছে, তখন জোট মিত্র নেতা হয়েও কেন প্রার্থী হবেন জানতে চাইলে তিনি বলেন, আমি নাগরিক সমাজের মনোনীত প্রতিনিধি হিসেবে প্রার্থী হব। এটি স্থানীয় সরকার নির্বাচন, এই নির্বাচন জাতীয় নির্বাচন নয়। আমি ইতোমধ্যে মেয়র পদে নির্বাচন করার ব্যাপারে ভালো সাড়া পাচ্ছি।

নির্বাচক বিশ্লেষকদের মতে ২০১৭ সালে রংপুর সিটি করপোরেশন নির্বাচনে বিএনপির প্রার্থী ৩৭ হাজার ভোট পেয়েছিলেন। এবার বিএনপি এই নির্বাচনে অংশগ্রহণ না করলে তাদের সব ভোট পড়বে জোটের শরীক জামায়াতে ইসলামীর পক্ষে। বিএনপির ছায়া সমর্থন নিয়ে জামায়াত এগিয়ে যেতে পারে। এছাড়া রংপুরে জামায়াতের নিজস্ব ভোট ব্যাংক রয়েছে। ফলে নির্বাচনে জামায়াতে ইসলামীর প্রার্থী ফ্যাক্ট হতে পারে বলে অনেকে মনে করছেন। আবার কারও মতে, জাতীয় পার্টিতে জামায়াত-শিবির অনুসারী অনেক নেতাকর্মী রয়েছেন। তাদের একটি অংশের ভোটও জামায়াতের পক্ষে যেতে পারে।

এদিকে তফসিল ঘোষণার আগের দিন ৬ নভেম্বর পর্যন্ত নিজেদের সর্বোচ্চ শক্তিমত্তা প্রদর্শনের আপ্রাণ চেষ্টা করেছেন আওয়ামী লীগের সম্ভাব্য প্রার্থীরা। সম্প্রতি নগরজুড়ে নৌকা তোরণ নির্মাণের পর ১০০ পিকআপের নৌকা র‌্যালির শোডাউন দিয়ে দলের হাইকমান্ডের দৃষ্টি কাড়ার চেষ্টা করেন মহানগর আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক তুষার কান্তি মণ্ডল। তিনি বলেন, রংপুর এখন নৌকার নগরী। নেত্রী আমাকে নৌকা প্রতীক দেবেন। নৌকা নিয়ে মেয়র নির্বাচিত হলে রংপুরের ব্যাপক উন্নয়ন করার আশা ব্যক্ত করেন তিনি।

অন্যদিকে দুই বছরেরও বেশি সময় ধরে পাড়া-মহল্লায় শত শত সভা-সমাবেশ করেছেন রংপুর মহানগর আওয়ামী লীগের সভাপতি সাফিউর রহমান সফি। এবার তিনি সুপরিকল্পিত উন্নয়ন করতে রংপুর সিটিতে মেয়র পদে দলীয় মনোনয়ন আশা করছেন। গত ৬ নভেম্বর রংপুর পাবলিক লাইব্রেরি মাঠে তিনি নাগরিক সমাবেশ করেছেন।

এখন পর্যন্ত জাতীয় পার্টির একক প্রার্থী হিসেবে মাঠে সরব থাকা বর্তমান মেয়র মোস্তাফিজার রহমান মোস্তফা বলেন, ব্যাপক উন্নয়ন করেছি। বিশেষ করে বর্ধিত এলাকার রাস্তাঘাটের উন্নয়ন করা হয়েছে। নগরবাসীর ব্যাপক সমর্থনে গত সাড়ে চার বছরেরও বেশি সময় ধরে সততা, স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতার সঙ্গে নাগরিক সেবা ও কল্যাণে সার্বক্ষণিক সেবক হিসেবে দায়িত্ব পালন করে আসছি। ইতোমধ্যে নির্বাচনী অঙ্গীকার ও প্রতিশ্রুতি পূরণে দৃশ্যমান উন্নয়ন কর্মকাণ্ড এবং জনসেবা সকল মহলে প্রশংসিত হয়েছে। আশা করছি অবাধ, সুষ্ঠু ও গ্রহণযোগ্য নির্বাচন হলে আবারও আমি নির্বাচিত হব।

এদিকে নির্বাচনকে ঘিরে আওয়ামী লীগের প্রায় অর্ধ ডজন প্রার্থী প্রচার-প্রচারণা চালিয়ে যাচ্ছেন। এছাড়া ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ, খেলাফত মজলিশ, জাসদ, বাসদসহ বিভিন্ন দলের মোট ১৫ জনেরও বেশি মেয়র পদের জন্য প্রচারণা চালাচ্ছেন। এদিকে ৩৩টি ওয়ার্ড এবং ১১টি সংরক্ষিত মহিলা কাউন্সিলরের জন্য প্রায় ২০০ প্রার্থী বিভিন্নভাবে প্রচারণা চালাচ্ছেন। সব মিলিয়ে জমজমাট নির্বাচন হবার আশা করছেন নগরবাসী।

প্রসঙ্গত, নির্বাচন কমিশন ঘোষিত তফসিল অনুযায়ী আগামী ২৭ ডিসেম্বর রংপুর সিটির ভোটগ্রহণ। নির্বাচনে মনোনয়ন দাখিলের শেষ দিন ২৯ নভেম্বর। ১ ডিসেম্বর মনোনয়নপত্র বাছাই এবং ৮ ডিসেম্বর মনোনয়নপত্র প্রত্যাহারের শেষ তারিখ। প্রতীক বরাদ্দ দেওয়া হবে পরের দিন ৯ ডিসেম্বর।

প্রার্থীরা সতেরো দিন প্রচার-প্রচারণার সুযোগ পাবেন। এরপর ২৭ ডিসেম্বর ইলেকট্রনিক ভোটিং মেশিনের (ইভিএম) মাধ্যমে সকাল সাড়ে আটটা থেকে বিকেল সাড়ে চারটা পর্যন্ত একটানা ভোটগ্রহণ চলবে। এছাড়া সব ভোটকেন্দ্রে সিসিটিভি ক্যামেরা স্থাপন করা হবে। রংপুর সিটি করপোরেশন নির্বাচনে ইসির যুগ্ম সচিব নির্বাচনী প্রশিক্ষণ ইনস্টিটিউটের (ইটিআই) মহাপরিচালক আবদুল বাতেনকে রিটার্নিং কর্মকর্তার দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে।