• আজ বুধবার, ২২ অগ্রহায়ণ, ১৪২৯ ৷ ৭ ডিসেম্বর, ২০২২ ৷

সেই উপস্থাপিকার অভিযোগ নিয়ে অবশেষে মুখ খুললেন মীর সাব্বির


❏ বুধবার, নভেম্বর ১৬, ২০২২ বিনোদন

বিনোদন ডেস্ক: সম্প্রতি অনুষ্ঠিত হওয়া ‘মিসেস ইউনিভার্স বাংলাদেশ ২০২২’-এর মঞ্চে অভিনেতা ও নির্মাতা মীর সাব্বিরের করা একটি মন্তব্য নিয়ে অভিযোগ তুলেছেন অনুষ্ঠানটির উপস্থাপিকা ইসরাত পায়েল। যা এরই মধ্যে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ভাইরাল।

ভাইরাল হওয়া ভিডিওতে দেখা গেছে, মঞ্চ থেকে নেমে যাচ্ছেন অনুষ্ঠানের বিচারক অভিনেতা মীর সাব্বির। ঠিক তখন পেছন থেকে তাকে ডেকে থামান উপস্থাপিকা ইসরাত পায়েল। ফিরে আসার পর পায়েল বলেন, ‘বরিশালের আঞ্চলিক ভাষায় কোনো নাটকের একটি সংলাপ শুনতে চাই।’

সে সময় মাইক্রোফোন হাতে নিয়ে মীর সাব্বির বলেন, ‘আমার নাটকের সংলাপ মনে থাকে না।’ এরপর খানিকটা সময় নিয়ে এ অভিনেতা বরিশালের আঞ্চলিক ভাষায় পায়েলকে উদ্দেশ্য করে বলেন, ‘এই মাতারি তুমি এইরহম উদলা গাইয়ে দাঁড়ায় আছো কিয়ের লাইগ্যা।’

‘মিসেস ইউনিভার্স বাংলাদেশ ২০২২’-এর মঞ্চে বিষয়টি হেসে উড়িয়ে দিলেও পরে সাব্বিরের মন্তব্য নিয়ে আপত্তি তোলেন ওই উপস্থাপিকা। এক ভিডিও বার্তায় তিনি বলেছেন, ‘আন্তর্জাতিক একটি মঞ্চে এসে পোশাক নিয়ে কথা বলাটা কুরুচির লক্ষণ। এই বিষয়ে তাকে ক্ষমা চাওয়া উচিত।’

বিষয়টি নিয়ে শুরুতে নীরব থাকলেও এবার সরব হয়েছেন মীর সাব্বির। আত্মপক্ষ সমর্থন করে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে মত প্রকাশ করেছেন তিনি।

আজ বুধবার নিজের ফেসবুকে সাব্বির লিখেছেন, ‘এক দেশের গালি আরেক দেশের বুলি। গত ১১ নভেম্বর মিসেস ইউনিভার্সের একটি প্রতিযোগিতায় আমি অতিথি হয়ে গিয়েছিলাম। সেখানে একটি কথা নিয়ে প্রসঙ্গক্রমে উপস্থাপিকা দুই-একটি কথা বলেছেন। মঞ্চে আমার সঙ্গে কথা বলার পর দেখলাম, ওই উপস্থাপিকা তার বরাত দিয়ে দুই একটি অনলাইনে সংবাদ প্রকাশ করেছেন। এ কারণে অনেক সাংবাদিক আমাকে ফোনও করেছেন।’

এরপর সাব্বির লেখেন, ‘মূল বিষয়টা ছিল, মানে বলতে পারেন তেমন কিছুই না। একটা ছোট্ট বিষয়কে হঠাৎ করে বড় করার চেষ্টা করা হয়েছে। উপস্থাপিকা মজার ছলে আমার বরিশালের আঞ্চলিক ভাষায় কথা শুনতে চেয়েছেন। যেহেতু আমি বরিশালের ছেলে। আমি যে কথাটা বলেছিলাম, সেটা উপস্থাপিকা চমৎকারভাবে হেসে রিসিভ করেছেন এবং দর্শকরা তখন মজা পেয়েছেন। আমি যেটা বলেছি সেটা তাৎক্ষণিক এবং এর পেছনে কোনো উদ্দেশ্য ছিল না। কাউকে হেয় করার জন্য কিছু বলিনি। সেটা নিশ্চয়ই সকলেই অর্থাৎ যারা দেখেছেন তারা বুঝতে পেরেছেন।’

এ সময় এই অভিনেতা লিখেছেন, ‘উপস্থাপিকা যে আমার ছোট বোনের মত। তিনি যদি কষ্ট পেয়ে থাকেন তাহলে আমি দুঃখ প্রকাশ করতেই পারি। সেটা নিয়ে এভাবে ফেসবুক কিংবা বিভিন্ন মাধ্যমে বক্তৃতা দিয়ে ছড়ানোর কিছু নেই। আমাকে বললেই পারত, দাদাভাই কিংবা ভাইয়া আপনাকে আমি রেসপেক্ট করি। আপনার কথায় আমি কষ্ট পেয়েছি। আমি তখন হয়তো বলতাম, সরি তুমি কষ্ট পেও না। আমি তোমাকে কষ্ট দেয়ার জন্য কথাটা বলিনি। কারণ তুমি আমার শব্দের মানে বুঝতে পারোনি। বিষয়টা শেষ হয়ে যেত।’

সবশেষে সাব্বির আশা করেন, অন্যদের মতো আমার ইশরাত পায়েল তার সম্পর্কে ধারণা বদলাবেন। বরিশালের আঞ্চলিক ভাষার ক্ষেত্রে ইশরাতে যত অভিমান আছে সেসবও ভুলে যাবেন।

এ সময় সাব্বির তার ভক্ত অনুরাগীদের প্রতিও কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন।