• আজ রবিবার, ১২ অগ্রহায়ণ, ১৪২৯ ৷ ২৭ নভেম্বর, ২০২২ ৷

শিক্ষার্থীকে বলাৎকারের অভিযোগে মাদ্রাসা শিক্ষক ও সুপার আটক


❏ বৃহস্পতিবার, নভেম্বর ১৭, ২০২২ আলোচিত বাংলাদেশ

লক্ষ্মীপুর প্রতিনিধি : লক্ষ্মীপুরের রায়পুর উপজেলায় এক মাদ্রাসাছাত্রকে (১৩) বলাৎকার করার ঘটনায় একজনকে এবং ঘটনা ধাপাচাপা দেওয়ার অভিযোগে অন্য আরও এক শিক্ষকসহ মোট দুজন মাদ্রাসাশিক্ষককে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ।

‘শুধু এবারই প্রথম নয়, এর আগেও ঐ শিশু শিক্ষার্থী মাদ্রাসার শিক্ষক আবদুর রশিদের হাতে একাধিকবার যৌন নিপীড়নের শিকার হয়েছে বলেও জানা গেছে।’

গতকাল বুধবার সন্ধ্যার দিকে তাঁদের আটকের পর দিবাগত রাত ১২টার দিকে রায়পুর থানায় এই দুজনকে আসামি করে মামলা করেন ওই ছাত্রের বাবা।

গ্রেপ্তার শিক্ষকেরা হলেন—মাদ্রাসার সুপার আবদুল ওয়াজের (৩৫) ও শিক্ষক আবদুর রশিদ (২৬)। আজ বৃহস্পতিবার সকালে তাঁদের আদালতে পাঠানো হয়

নির্যাতনের অভিযোগ করা ছেলেটির একাধিক স্বজন জানান, সে মাদ্রাসার আবাসিক ছাত্র। শিক্ষক আবদুর রশিদ নানা অজুহাতে ছেলেটিকে তার কক্ষে ডেকে নিয়ে হত্যার ভয় দেখিয়ে দীর্ঘদিন ধরে যৌন নিপীড়ন করে আসছিলেন। ভয়ে সে কাউকে কিছু বলেনি। বুধবার বিকেলে ওই মাদ্রাসা থেকে পালিয়ে এসে বিষয়টি পরিবারকে জানায় সে।

মামলার এজাহারে ওই ছাত্রের বাবা অভিযোগ করেন, ছয়-সাত দিন আগে রাতে মাদ্রাসার সবাই ঘুমিয়ে পড়লে শিক্ষক আবদুর রশিদ ওই ছাত্রকে ডেকে নিয়ে বলাৎকার করেন। পরে ঘটনাটি মাদ্রাসার সুপারকে জানায় ওই ছাত্র। কিন্তু বিষয়টি ধামাচাপা দিতে সুপার ছাত্রের অভিভাবককে কিছু জানাননি। সুপার ওই ছাত্রকে চিকিৎসকের কাছে পাঠিয়ে ওষুধ কিনে দেন।

তবে পুলিশের হাতে আটক হওয়ার আগে মাদ্রাসার সুপার আবদুল ওয়াজের একটি গণমাধ্যমে দেয়া সাক্ষাতকারে বলেন, বিষয়টি জানার পর শিক্ষক রশিদকে জিজ্ঞাসাবাদ করেন তিনি। একপর্যায়ে আবদুর রশিদ দোষ স্বীকার করেন। পরে তাঁর কাছ থেকে একটি লিখিত নেন মাদ্রাসার সুপার। ঘটনার সঙ্গে জড়িত থাকায় ওই শিক্ষককে মাদ্রাসা থেকে বের করে দেন তিনি।

বিষয়টি নিশ্চিত করে রায়পুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) শিপন বড়ুয়া বলেন, প্রাথমিক তদন্তে ঘটনার সত্যতা পাওয়া গেছে। এ ঘটনায় মাদ্রাসাছাত্রের বাবা ওই দুই শিক্ষকের বিরুদ্ধে থানায় মামলা করেছেন। ‘মাদ্রাসার সুপার আবদুল ওয়াজের ও শিক্ষক আবদুর রশিদকে এই মামলায় গ্রেপ্তার দেখিয়ে বৃহস্পতিবার দুপুরে আদালতের মাধ্যমে জেলহাজতে পাঠানো হয়েছে।

শিক্ষক আবদুর রশিদের নিপীড়নে মাদ্রাসা সুপার সহযোগিতা করতেন উল্লেখ করে ওসি আরও বলেন, ‘ছাত্রদের যৌন নিপীড়নের ঘটনা ধাপাচাপা দিতে একাধিকবার শিশুটিকে চিকিৎসার ব্যবস্থা করেছিলেন মাদ্রাসা সুপার আবদুল ওয়াজের।’

ওসি বলেন,‘তাদের আদালতের মাধ্যমে জেলহাজতে পাঠানো হয়েছে। জিজ্ঞাসাবাদের জন্য রিমান্ডের আবেদন করা হবে। এ বিষয়ে কাউকে ছাড় দেয়া হবে না।’