কলকাতার দিশা আই হসপিটালের একজন মানবিক চিকিৎসকের গল্প


❏ বৃহস্পতিবার, নভেম্বর ১৭, ২০২২ মুক্তমত

এস এম ফয়সাল শামীম, স্টাফ রিপোর্টার:- এই গল্পের কথক প্রতিবেদক নিজেই।

চিকিৎসাসেবা একটি অনন্য শিল্প। একে প্রায়োগিকভাবে রপ্ত করতে হয়। জানতে হয় বিস্তর। আত্মস্থ করতে হয় ষষ্ঠ ইন্দ্রিয় দিয়ে। সব কাজের মধ্যে যেমন প্রথম, দ্বিতীয়, তৃতীয় শ্রেণি আছে, তেমনি চিকিৎসা পদ্ধতির মধ্যেও তাই। সবকিছু ছাপিয়ে চিকিৎসকের উত্তম ব্যবহার, হাতের যশ, রোগ নির্ণয়, তার সঠিক চিকিৎসা প্রয়োগ, চিকিৎসার অনাবিল মুন্সিয়ানা হয়ে উঠে সোনালি।

অনেক চিকিৎসক আছেন যাদের কোনো আবেগ ও হৃদয়ের ভাবাবেগ থাকে না। এ যেন রোবটিক ফাঁপা, নিষ্প্রাণ চিকিৎসার জন্য চিকিৎসা করা। এ রকম চিকিৎসকদের সাধারণ মানুষ মোটেই পছন্দ করেন না। চিকিৎসা করতে হয় রোগের ধরন বুঝে আর বাস্তবতা দিয়ে। তাহলেই রোগ দূরীভূত হবে।

সম্মানিত পাঠক, আজ আপনাদের কলকাতার একজন হৃদয়বান চিকিৎসকের গল্প শোনাব। তার নাম ডা. মৃন্ময় দাস। তিনি কলকাতার দিশা আই হসপিটালের সিনিয়র কনসাল্ট্যান্ট। তার কাছে সকল রোগী গিয়ে শান্তির পরশ নিয়ে ফেরে।

ডা. মৃন্ময় দাস চোখের চিকিৎসায় ফ্রন্টলাইনার হিসেবে প্রথম থেকেই নিয়মিত রোগী দেখেছেন। তিনি রোগীকে খুব যন্তসহকরে মনযোগ দিয়ে দেখেন। কোন তাড়াহুড়ো না করে ধৈয্য নিয়ে রোগীর সকল অসুবিধার কথা শুনে উত্তম পরামর্শ দেন।

ডা. মৃন্ময় দাসের কাছে নিজের চোখের সমস্যা নিয়ে দেখা করতে যাই আমি। ডা. মৃন্ময় দাসের কাছে যাবার পর তিনি পুরো ঘটনা শোনেন এবং কিছু পরীক্ষার পর আশস্থ করেন যে আল্লাহ চাইলে আপনি আবার ভালমত দেখতে পাবেন। এরপর তিনি দেখানোর পরদিনই একটা অপারেশন করেন। এবং অপারেশনের আগে আমাকে ডেকে টাকা আছে কিনা জানতে চান। এবং তিনি নিজে থেকেই ৪০% ডিসকাউন্ট দিতে বলেন।

তার অপারেশনের পরে আল্লাহ রহমতে আমি ঠিক আগের মতই দেখতে পাচ্ছি।

শুধু বাংলাদেশ নয় ডা. মৃন্ময় দাসের কাছে যে কোন অসহায় রোগী গেলে তিনি তার চিকিৎসার অধিকাংশ খরচ নিজের থেকে দিয়ে দেবার বা ডিসকাউন্ট দেবার ব্যাবস্থা করে দেন বলে জানা যায়।

বাংলাদেশ থেকে কলকাতার দিশায় চিকিৎসা করতে যাওয়া নিলফামারীর মো: আব্দুল কাদের বলেন, আমি চোখের চিকিৎসায় চেন্নাই গিয়েছিলাম। কিন্তু আমি সেখানে কোন ফল পাইনি। কিন্তু ডা. মৃন্ময় দাসের চিকিৎসা পদ্ধতি ও সুন্দর ব্যবহারে আমি সন্তুষ্ট। আমি এখন আগের চেয়ে অনেক ভাল দেখি।

কথা হলে এই প্রতিবেদককে চিকিৎসক ডা. মৃন্ময় দাস বলেন, মানুষ অসহায় হয়েই ডাক্তারের কাছে আসে। তখন মানুষের পাশে দাড়ানো উচিত। অসহায়ত্বের সুযোগ নিয়ে ব্যবসা করা ঠিক না। তাই মানুষের বিপদ-আপদে দুর্দিনে পাশে থাকা আমার নৈতিক দায়িত্ব ও কর্তব্য।

চোখ অমূল্য সম্পদ। বিনামুল্যে চোখের চিকিৎসা সংক্রান্ত যে কোন ভাল পরামর্শ পেতে যোগাযোগ করতে পারেন এ প্রতিবেদকের সঙ্গে-০১৭১৩২০০০৯১।