• আজ সোমবার, ১৩ অগ্রহায়ণ, ১৪২৯ ৷ ২৮ নভেম্বর, ২০২২ ৷

আজ শনিবার গাজীপুর মহানগর আ’লীগের সম্মেলন

Gazipur news
❏ শনিবার, নভেম্বর ১৯, ২০২২ ঢাকা

স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, সময়ের কণ্ঠস্বর: আজ শনিবার (১৯ নভেম্বর) গাজীপুর মহানগর আওয়ামী লীগের ত্রি-বার্ষিক সম্মেলন অনুষ্ঠিত হচ্ছে। রাজধানী ঢাকার লাগোয়া দেশের গুরুত্বপূর্ণ এ মহানগরের সরকারি দল আওয়ামী লীগের সম্মেলন নিয়ে সবার মধ্যে রয়েছে যথেষ্ঠ উৎসুক্য। অপরদিকে এ সম্মেলনকে ঘিরে দলীয় নেতা-কর্মীদের মধ্যে বিরাজ করছে ব্যাপক উৎসাহ উদ্দীপনা, সবার মধ্যে দেখা দিয়েছে উৎফুল্ল ভাব।

আয়তনের দিক দিয়ে দেশের মধ্যে বৃহত্তম গাজীপুর মহানগর আওয়ামী লীগের নেতৃত্বে কারা আসছেন এ নিয়ে এলাকাবাসীদের মধ্যে চলছে নানান জল্পনা-কল্পনা। বিশেষ করে সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদক পদে কে কে আসছেন তা নিয়ে দলের তৃনমূল পর্যায়ে চলছে নানা জলপনা-কল্পনা চলছে আলোচনা-পর্যালোচনা, মহানগরের ৫৭টি ওয়ার্ড থেকে সর্বস্তরে দলীয় নেতাকর্মী, সমর্থক এমনকি রাজনৈতিক সংশ্লিষ্ঠদের মধ্যেও এ দুটি শীর্ষ পদে কারা আসছেন তা নিয়ে যেমন চলছে হিসেব-নিকেশ, তেমনি সম্ভাব্য পুরাতন নতুন প্রার্থিতা নেতাদের অতীত-বর্তমান কর্মকান্ড ও আমলনামা নিয়েও আলোচনা-পর্যালোচনার কমতি নেই। তাছাড়া এদের মধ্যে থেকে কারা নেতৃত্বে এলে মহানগর আওয়ামী লীগ বর্তমানের চেয়ে অধিকতর শক্তিশালী এবং সাংগাঠনিক কিছু দুর্বলতা ও গ্রুপিং কাটিয়ে সুসংগঠিত হবার পাশাপাশি নেতা-কর্মীরা আরো বেশি উজ্জীবিত ও প্রানবন্ত হবেন তা নিয়েও চলছে নানান সমীকরণ ও বিচার-বিশ্নেষণ।

তবে মহানগর আওয়ামী লীগের কয়েকজন বিশিষ্ঠ নেতা আসন্ন সম্মেলনে নতুন কমিটির ব্যাপারে অভিমত ব্যক্ত করে বলেন, ’সভাপতি’ ও সাধারণ সম্পাদক পদে কারা আসছেন তা নিশ্চিত করে কেউ বলতে পারছেন না। বিষয়টি সম্পূর্ন ভাবে নির্ভর করে দলীয় সভাপতি ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার উপর। তিনি যাকে মহানগর আওয়ামী লীগের সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদক পদে যোগ্য মনে করবেন তারাই হবেন সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদক। এ ক্ষেত্রে দলে নতুন নেতৃত্ব আসতে পারে নতুবা পুরাতন কমিটির নেতৃত্বই বহাল থাকতে পারে। ব্যাপারটি সম্পুর্নভাব্ দলীয় সভাপতির উপর নির্ভর করে।

এদিকে ১৯ নভেম্বর সম্মেলন সফল ও সার্থক করতে ও বিপুল সংখ্যক নেতা-কর্মী সম্মেলনে উপস্থিত নিশ্চিত করেত মহানগরের বিভিন্ন থানা ও ওয়ার্ড পর্যায়ে প্রস্তুতিমূলক সভা-সমাবেশের আয়োজন করা হয়েছে। এসব সভা-সমাবেশ প্রায় প্রতিদিনই মন্ত্রী-প্রতিমন্ত্রী ও এমপিগন যোগ দিয়ে সম্মেলন সার্থক ও সফল করতে দিক-নির্দেশনামূলক বক্তব্য রেখেছেন।

সম্মেলনকে কেন্দ্র করে মহানগর আওয়ামী লীগের সভাপতি ও সম্পাদক পদে ’পছন্দের প্রার্থী’কে নির্বাচিত করার অনুরোধ জানিয়ে প্রচুর সংখ্যক রঙিন পোষ্টার-ব্যানার-ফেস্টুন-বিলবোর্ড নগরীর বিভিন্ন স্থানে শোভা পাচ্ছে। তবে প্রার্থী নিজে নন তার অনুসারী নেতা-কর্মী-সমর্থকরা তাদের পছন্দের নেতা’র পক্ষে সমর্থন ও দোয়া চেয়ে পোষ্ট দিচ্ছেন। এ ক্ষেত্রে সভাপতি পদের চেয়ে সাধারণ সম্পাদকের পদে পছন্দের প্রার্থী’র অনুরোধকারীর সংখ্যাই বেশি।

এ বারের সম্মেলনে বড় ধরনের চমক দেখা দিচ্ছে সভাপতি পদ নিয়ে। গাজীপুর-২ আসনে বার বার নির্বাচিত সংসদ সদস্য যুব ও ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রী মো. জাহিদ আহসান রাসেলের নাম সভাপতি পদে জোরে শোরে শোনা যাচ্ছে। ইতোমধ্যে তাঁকে মহানগর আওয়ামী লীগের সম্মেলন প্রস্তুতি কমিটির আহবায়কের দায়িত্ব দেয়া হয়েছে। পাশাপাশি বর্তমান সভাপতি সাবেক টঙ্গী পৌরসভার মেয়র বীর মুক্তিযোদ্ধা মো. আজমত উল্লা খানের নামও ঘুরে ফিরে বার বার আসছে। এছাড়া মহানগর আওয়ামী লীগের সিনিয়র সহ-সভাপতি বীরমুক্তিযোদ্ধা কাজী আলিমউদ্দিন বুদ্দিনের নামও নেতা-কর্মীদের মুখে জোরালো ভাবে শোনা যাচ্ছে।

অপরদিকে সাধারণ সম্পাদক পদে আসছেন এমন বেশ কয়েকজনের নাম ইতোমধ্যে মহনগরের সর্বত্র ছড়িয়ে পড়েছে। এদের মধ্যে রয়েছে বর্তমান ভারপ্রাপ্ত সাধারণ সম্পাদক মো. আতাউল্লাহ মন্ডল, যগ্ম সাধারণ সম্পাদক মতিউর রহমান মতি, ভাওয়াল বদরে আলম সরকারি কলেজ ছাত্র সংসদের সাবেক ভিপি ও মহানগর আওয়ামী লীগের সহ-সভাপতি আফজাল হোসেন সরকার রিপন, একই কমিটির প্রভাবশালী সদস্য জেলা ছাত্র লীগের সাবেক সভাপতি এড. আবদুল হাদী শামীম ভাওয়াল কলেজের সাবেক ভিপি আবদুল হালিম সরকার, মহানগর যুবলীগের বর্তমান সাধারণ সম্পাদক কামরুল আহসান সরকার রাসেল, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্র লীগের সাবেক সভাপতি ব্যারিস্টার সাজ্জাদ হোসেন প্রমুখের নামও মহানগরের সর্বত্র শোনা যাচ্ছে। এদের মধ্যে দৌড়ে কে কতটা এগিয়ে আছেন তা নিয়ে তর্কের শেষ নেই। তবে এরা সবাই রাজনৈতিক কর্মকান্ডে সক্রিয় রয়েছেন।

’পছন্দের প্রার্থী’ এ হিসেবে এদের সবার পোষ্টার, ব্যানার-ফেস্টুন-বিলবোর্ড সম্মেলনের আমেজ অনেকটা বাড়িয়ে দিয়েছে।
তবে নির্বাচন বা সম্মেলন যাই হোক এ সময় গাজীপুরে অঞ্চলভিত্তিক দুটি বিভাজন অনেকটাই সামনে চলে আসে। ২০১৩ সালে গাজীপুর পৌরসভা(জয়দেবপুর) ও টঙ্গী পৌরসভা নিয়ে গাজীপুর সিটি কর্পোরেশন গঠিত হয়। একই সিটি কর্পোরেশন হলেও বিভাজনের অদৃশ্য রেখাটা থেকেই যায়। তাই দু অঞ্চলের বাসিন্দারা চায় তাদের এলাকা থেকেই জনপ্রতিনিধি বা নেতা নির্বাচিত হোক। এ ক্ষেত্রে অলিখিত একটা সমঝোতাও শেষ পর্যন্ত হতে দেখা যায়। এক অঞ্চল থেকে এমপি হলে অন্য অঞ্চল থেকে মেয়র অথবা এক এলাকা থেকে সভাপতি হলে অন্য অঞ্চল থেকে সাধারণ সম্পাদক ব্যাপারটা শেষ পর্যন্ত সাধারণত এমন ভাবে গড়ায়। অবশ্য সব সময় এটা কার্যকর হয় এমনটিও নয়। এবারের সম্মেলনে নেতা নির্বাচন কোন ধাঁচে হবে তা বলা কঠিন।