• আজ শনিবার, ১৮ অগ্রহায়ণ, ১৪২৯ ৷ ৩ ডিসেম্বর, ২০২২ ৷

মায়ের কোল থেকে চিকিৎসার কথা বলে নিয়ে দুই দিন বয়সী নবজাতককে বেচলেন বাবা!


❏ রবিবার, নভেম্বর ২০, ২০২২ আলোচিত বাংলাদেশ, রাজশাহী

রাজশাহী প্রতিনিধি : দুই দিন বয়সী মেয়েকে মাত্র ২৪ হাজার টাকার বিনিময়ে বিক্রি করে দিয়েছিলেন এক বাবা। রাজশাহীতে মো. রহিদুল (৪০) নামের এক ব্যক্তির বিরুদ্ধে এমন অভিযোগ উঠেছে। ঐ বাবার দাবি অভাবের তাড়নায় তিনি তার সন্তানকে বিক্রি করে দিয়েছিলেন।

আজ রোববার অভিযোগ পেয়ে রাজশাহী নগরীর রাজপাড়া থানা-পুলিশ বাচ্চাটিকে উদ্ধার করেছে। বাচ্চা কেনাবেচায় জড়িত থাকার অভিযোগে পুলিশ রহিদুলসহ তিনজনকে আটক করেছে। মো. রহিদুল (৪০) রাজশাহী নগরীর সিলিন্দা এলাকায় তাঁর বাড়ি। পেশায় তিনি একজন দিনমজুর। গত ১২ নভেম্বর তিনি মেয়েকে বিক্রি করে দেন বলে অভিযোগ উঠে । পরে আরেক দফা বাচ্চাটি বিক্রি হয়েছিল ৩০ হাজার টাকায়।

পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, গত ১০ নভেম্বর রহিদুলের স্ত্রী জান্নাতুল খাতুন নগরীর লক্ষ্মীপুর এলাকার একটি বেসরকারি ক্লিনিকে একটি কন্যাসন্তান প্রসব করেন।

১২ নভেম্বর রহিদুল নার্সিং হোমে তাঁর স্ত্রীকে বলেন, উন্নত চিকিৎসার জন্য বাচ্চাটিকে শিশু হাসপাতালে নিতে হবে। এ কথা বলে তিনি বাচ্চা নিয়ে গিয়ে তরিকুল ইসলাম নামের এক দালালের কাছে যান। এরপর গোলাম শাহানুর নামের এক ব্যক্তির কাছে বিক্রি করে দেন।

প্রাথমিক অনুসন্ধানে জানা যায়, শাহানুর তাঁর বোনের জন্য বাচ্চাটি কিনেছিলেন। কিন্তু দত্তক দেওয়ার মতো কোনো কাগজপত্র করে না দেওয়ায় দুই দিন পর তিনি বাচ্চাটি আবার তরিকুলকে ফেরত দেন। পরে ৩০ হাজার টাকায় তরিকুল আবার বিউটি খাতুন নামের এক নিঃসন্তান নারীর কাছে বাচ্চাটি বিক্রি করেন। বিউটি খাতুনের বাড়ি রাজশাহীর গোদাগাড়ী উপজেলার কাঁকনহাটে। আজ রোববার বিকেলে কাঁকনহাট গিয়ে বিউটির কাছ থেকেই বাচ্চাটি উদ্ধার করে পুলিশ।

এর আগে আজ সকালে বাচ্চার বাবা রহিদুল, তরিকুল ও বিউটিকে আটক করা হয়। থানায় আটক অবস্থায় রহিদুল জানিয়েছেন, অভাবের তাড়নায় তিনি বাচ্চাটি বিক্রি করে দিয়েছিলেন। বিকেলে বাচ্চাটি উদ্ধার করে এনে মা জান্নাতুল খাতুনের কাছে দেওয়া হয়। এ সময় তিনি কাঁদতে কাঁদতে বলেন, ‘আমাকে মিথ্যা কথা বলে আমার স্বামী বাচ্চা বিক্রি করে দিয়েছিলেন। বুকের ধন ফিরে পেয়ে তিনি এখন খুশি।’

এ নিয়ে জানতে চাইলে রাজপাড়া থানার উপপরিদর্শক (এসআই) কাজল নন্দী জানান, নার্সিং হোম থেকে খালি হাতে বাড়ি ফেরার পর জান্নাতুলের কান্না থামছিল না। একজন প্রতিবেশী তখন বিষয়টি থানায় জানান। এরপরই রহিদুলকে থানায় তুলে জিজ্ঞাসাবাদ করলে বাচ্চা বিক্রির বিষয়টি নিশ্চিত হওয়া যায়।

এ ঘটনায় বাবা রহিদুল, দালাল তরিকুল এবং ক্রেতা বিউটিকে আটক করা হয়েছে। তাঁদের বিরুদ্ধে একটি মামলা হবে। বাচ্চার মা মামলার বাদী হবেন। আইনগত প্রক্রিয়া শেষে বাচ্চাটি মায়ের কাছে হস্তান্তর করা হবে বলেও জানান এ এসআই।