🕓 সংবাদ শিরোনাম
  • আজ শুক্রবার, ২৪ অগ্রহায়ণ, ১৪২৯ ৷ ৯ ডিসেম্বর, ২০২২ ৷

মানিকগঞ্জে সংকটের দোহাই দিয়ে বেশি দামে সার বিক্রি!

Manikgonj news
❏ সোমবার, নভেম্বর ২১, ২০২২ ঢাকা

দেওয়ান আবুল বাশার, স্টাফ করেসপন্ডেন্ট: মানিকগঞ্জের হরিরামপুরে কারসাজির মাধ্যমে সার সংকট তৈরি করে বেশি দামে সার বিক্রির অভিযোগ উঠেছে ডিলারদের বিরুদ্ধে। সরকারি নির্দেশনা উপেক্ষা করে কৃত্রিম সংকট তৈরি করে পটাশ সারের দাম প্রতি বস্তায় ৫০০ থেকে ৬০০ টাকা পর্যন্ত বেশি নেওয়া হচ্ছে। পাশাপাশি ইউরিয়া ও ডিএপি সার বেচাকেনাতেও নেওয়া হচ্ছে বাড়তি টাকা।

কৃষকদের কাছে বিক্রিত সারের কোনো রশিদ দেওয়া হচ্ছে না। কোন কৃষক সার ক্রয়ের রশিদ চাইলে তার কাছে সার বিক্রি করছেনা কোন ডিলার। কৃষকদের অভিযোগ, বাজারে পটাশ সার পাওয়া যায়না। বাড়তি টাকায় সার পাওয়া গেলেও তার সাথে অতিরিক্ত কিনতে হচ্ছে দস্তা এবং বিভিন্ন ধরনের কিটনাশক।

সরেজমিনে দেখা যায়, হরিরামপুর উপজেলার বিভিন্ন ইউনিয়ন ও ওয়ার্ডের ১৩ জন সারের ডিলার সিন্ডিকেটের মাধ্যমে কৃত্রিম সংকট তৈরী করেছে। প্রকাশ্যেই কৃষকদের কাছ থেকে বেশি টাকায় সার বিক্রি করছে তারা। উপজেলা কৃষি কর্মকর্তার মাধ্যমে এ সিন্ডিকেটের নেতৃত্বে দিচ্ছেন সার ডিলার সমিতির সভাপতি মো. খবির সিকদার।

সরকারি নিয়ম অনুযায়ী গালা ইউনিয়নে ১জন পাইকারী ডিলার ও প্রতি ওয়ার্ডে ১ জন করে খুচরা ডিলার থাকার কথা। অথচ গালা ইউনিয়নের ঝিটকা বাজারেই ১৩ জন পাইকারি ও খুচরা ডিলার রয়েছে। এতে বিপাকে পরেছে বিভিন্ন ইউনিয়নের কৃষকেরা। ইউনিয়ন ভিন্ন হলেও সার কিনতে ঝিটকা আসতে বাধ্য হচ্ছেন তারা। এরফলে বাড়তি টাকার পাশাপাশি অতিরিক্ত সময় নষ্ট হচ্ছে তাদের। রবিবার ঝিটকা বাজারে সরকারের তালিকাভুক্ত ১৩ টি সারের দোকানে সকাল ১০টা থেকে বেলা ৫টা পর্যন্ত বাজার অনুসন্ধানে এসব তথ্য উঠে এসেছে।

কৃষক সামাদ মিয়া বলেন, আমাদের আজিমনগরের ডিলার নিজ ইউনিয়ন বাদ দিয়ে ঝিটকা বাজারে সার বিক্রি করছে। বিষয়টি কৃষি অফিসে জানিয়েও কোন প্রতিকার পাইনি। এর ফলে প্রতি বস্তায় অতিরিক্ত ৬০ টাকা খরচ হচ্ছে। একসপ্তাহ ঘুরেও পটাস পাইনি।

লেছরাগঞ্জ ইউনিয়ন থেকে ঝিটকা আসা মজিবর রহমান বলেন, দুই বস্তা পটাশ নিয়েছি ২৫০০ টাকা দিয়ে এবং অন্যান্য সারও বেশি দামে কিনতে হয়েছে। রশিদ চাইলে সার বিক্রি করবেনা বলে সাফ জানিয়ে দেয় ডিলাররা।

সার বেচাকেনায় অনিয়মের বিষয়ে ডিলার সমিতির সভাপতি খবির শিকদার বলেন, আমার এই বাজারে যদি কেউ বেশী দামে সার বিক্রি করে অবশ্যই তার বিরুদ্ধে ব্যাবস্থা নেয়া হবে। তিনি নিজে বেশি দামে সার বিক্রীর বিষয়টি অস্বীকার করেন।

উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা মো. আব্দুল গফফার বলেন, আমি আসার আগে থেকে ঝিটকা বাজারে একাধিক ডিলাররা ব্যবসা করছে। দাম বেশি নেওয়ার প্রমান পেলে ব্যবস্থা নেব।