• আজ বৃহস্পতিবার, ১৬ অগ্রহায়ণ, ১৪২৯ ৷ ১ ডিসেম্বর, ২০২২ ৷

পুলিশের সামনেই গণপিটুনির শিকার কুষ্টিয়া জেলা ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক


❏ বুধবার, নভেম্বর ২৩, ২০২২ আলোচিত বাংলাদেশ

কুষ্টিয়া প্রতিনিধি: কুষ্টিয়া জেলা ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক শেখ হাফিজ চ্যালেঞ্জকে অবৈধ কার্যকলাপে লিপ্ত থাকার অভিযোগে আটকের পর গণপিটুনি দিয়েছে স্থানীয়রা।

মঙ্গলবার (২২ নভেম্বর) বিকেল সাড়ে ৩টার দিকে কুষ্টিয়া পৌর এলাকার পিটিআই সড়কে শেখ হাফিজ চ্যালেঞ্জের খালার বাড়িতে এ হামলার ঘটনা ঘটে।

মঙ্গলবার বেলা ৩টার দিকে শহরের পিটিআই রোডের মসজিদ গলির একটি বাসায় এই ঘটনা ঘটে। কুষ্টিয়া মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. দেলোয়ার হোসেন খান এই তথ্য নিশ্চিত করেছেন। ওসি জানান, মঙ্গলবার দুপুরের পর ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক শেখ হাফিজ চ্যালেঞ্জ শহরের পিটিআই রোডের এক নারীর ফ্ল্যাটে যান।

ওই বাসায় তাকে আটকের পর অবৈধ সম্পর্কের অভিযোগে গণপিটুনি দিয়েছে স্থানীয়রা। পরে পুলিশ গিয়ে তাকে উদ্ধার করে হাসপাতালে ভর্তি করে।

হামলাকারীদের অভিযোগ, ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক শেখ হাফিজ চ্যালেঞ্জকে তার খালার বাসায় এক নারীর সাথে আপত্তিকর অবস্থায় পাওয়া যায়। তবে যে নারীকে ঘিরে আপত্তি তিনি চ্যালেঞ্জের খালাত বোন বলে জানা গেছে।

এদিকে জেলা ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক শেখ হাফিজ চ্যালেঞ্জ ফেসবুক লাইভে বলেন, কমিটি নিয়ে দ্বন্দ্বে তার ওপর হামলা হয়েছে।

এ ঘটনায় বাদি হয়ে কুষ্টিয়া মডেল থানায় একটি অভিযোগ দায়ের করেছেন চ্যালেঞ্জের খালাত বোন শবনম মমতাজ যূথী।

হামলার শিকার শেখ হাফিজ চ্যালেঞ্জ জানান, বিকেলে কুষ্টিয়া পৌর এলাকার পিটিআই সড়কে তার খালার বাড়িতে যান তিনি। এসময় ছাত্রলীগেরই প্রতিপক্ষ গ্রুপের কিছু সদস্য তার খালার বাড়ির দরজা ভেঙে হামলা করেন।

পুলিশের উপস্থিতিতেও প্রতিপক্ষ গ্রুপের নেতাকর্মীরা তাকে বেধড়ক মারধর করেন বলে অভিযোগ তার। পরে পুলিশের গাড়িতে তাকে উদ্ধার করে কুষ্টিয়া জেনারেল হাসপাতালে নেওয়া হয়।

শেখ হাফিজের খালা শিরিনা পারভীন বলেন, দুপুরের দিকে শেখ হাফিজ চ্যালেঞ্জ আত্মরক্ষার্থে তার বাড়িতে আশ্রয় নিয়েছিল। তবে এসময় তিনি বাড়িতে ছিলেন না। তার বাসার দরজা ভেঙে তার ভাগ্নেকে মারধর করে বাড়িতে ভাংচুর ও লুটপাট চালানো হয় বলে অভিযোগ করেন তিনি।

এ ব্যাপারে জেলা আওয়ামী লীগ সাধারণ সম্পাদক আজগর আলীর কাছে জানতে চাওয়া হলে তিনি বলেন, এটি একটি ন্যাক্কারজনক ঘটনা, গুটিকয়েক নেতা তাদের ব্যক্তিস্বার্থ চরিতার্থ করার জন্য প্রকাশ্যে জেলা ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদকের ওপর হামলা চালিয়েছে। এটা অবশ্যই দুঃখজনক। কারা দলের মধ্যে ঢুকে এ সমস্ত কাজ করছে তাদের বিষয়ে খোঁজ নিয়ে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

জেলা ছাত্রলীগের সভাপতি আতিকুর রহমান অনিক বলেন, বিস্তারিত কিছু এখনো জানি না, খবর নিয়ে বলতে পারবো। তিনি আরও বলেন, ব্যাপারটি নিয়ে আমি বিব্রত।

দলীয় সূত্র জানায়, কয়েক মাস ধরে কমিটি কুষ্টিয়া সদর উপজেলা, কুষ্টিয়া শহর ও সরকারি কলেজসহ পাঁচ ইউনিটের কমিটি গঠন নিয়ে জেলা ছাত্রলীগ সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদক গ্রুপের মধ্যে ঝামেলা চলে আসছে। এর আগেও হামলা ও মামলার ঘটনা ঘটেছে। দুই সপ্তাহ আগেও শেখ হাফিজ চ্যালেঞ্জের ওপর হামলার ঘটনা ঘটে। সেই দফায় তিনি কৌশলে পালিয়ে রক্ষা পান।

কুষ্টিয়া মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) দেলোয়ার হোসেন খান বলেন, খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থল গিয়ে চ্যালেঞ্জকে উদ্ধার করে হাসপাতালে ভর্তি করেছে। বিষয়টি তদন্ত করে দেখা হচ্ছে। অপরাধীদের ছাড় দেওয়া হবে না। হামলাকারীদের আইনের আওতায় আনা হবে।