• আজ বৃহস্পতিবার, ১৬ অগ্রহায়ণ, ১৪২৯ ৷ ১ ডিসেম্বর, ২০২২ ৷

প্রেমের ফাঁদে ফেলে ব্লাকমেইল, তিন নারীসহ আটক ৫


❏ বুধবার, নভেম্বর ২৩, ২০২২ আলোচিত বাংলাদেশ

মেহেরপুর প্রতিনিধি : গোপন ক্যামেরায় অপত্তিকর ছবি ও ভিডিও তুলে ব্লাকমেইল ও আপহরনের মাধ্যমে চাঁদা আদায়ের অভিযোগে মুল অভিযুক্ত নাজনীন খান প্রিয়াসহ ৫ জনকে আটক করেছে মেহেরপুর সদর থানা ও ডিবি পুলিশের একটি দল।

সুনির্দিষ্ট অভিযোগের ভিত্তিতে মেহেরপুর জেলা গোয়েন্দা পুলিশ (ডিবি) সদর থানা ও সাইবার টিম যৌথভাবে অভিযান চালিয়ে মঙ্গলবার (২২ নভেম্বর) দিবাগত রাতে শহরের হোটেল বাজার এলাকার ভাড়া বাসা থেকে তাকে গ্রেফতার করেছে।

এসময় তাদের কাছ থেকে নগদ ১৭ হাজার টাকা ও ৫টি মোবাইল সেট উদ্ধার করা হয়। গতকাল মঙ্গলবার রাত্রে আভিযান চালিয়ে তাদের আটক করেছে। আটককৃতরা হলেন নাটুদাহ গ্রামের নাজমুল হোসেন খানের মেয়ে নাজনিন খান প্রিয়া, মেহেরপুর শহরের ঘোষপাড়ার শফিকুল ইসলামের স্ত্রী মোছা: রুমানা ইয়াসমিন, দুলাল আলির ছেলে মো: শাহাজাহান আলী, আখের আলীর ছেলে হাসান আলী ও চুয়াডাঙ্গা জেলার চারুলিয়া গ্রামের রাসেল আহমেদের মেয়ে বিলকিস রাবেয়া টুম্পা।

এর আগে এক ভুক্তভোগী মঙ্গলবার ওই নারীকে আসামি করে প্যানাল কোড ৪১৭/৩৮৫/৩৮৬/৫০৬ ধারায় একটি মামলা করেন (মামলা নং ৩২, তারিখ ২২/১১/২০২২ইং)।

মেহেরপুর সদর থানার ভাপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) রফিকুল ইসলাম জানিয়েছেন, নাজনীন খান প্রিয়া চুয়াডাঙ্গার দামুড়হুদা উপজেলার দুলালনগর গ্রামের নাজমুল হোসেনের মেয়ে। বর্তমানে মেহেরপুর শহরের হোটেল বাজার এলাকায় একটি বাসা ভাড়া নিয়ে সেখানে বসবাস করতেন।

ওসি বলেন, নাজনিন খান প্রিয়া মেহেরপুর সদর উপজেলার আমঝুপি গ্রামের মোনায়ার হোসেনের আপত্তিকর ছবি ধারন করে তাকে ব্লাকমেইল করে ২ লাখ টাকা চাঁদা দাবি করে বলে অভিযোগ পায়।

পরে তার কাছ থেকে ২০ হাজার টাকা নেয়। অপর দিকে বিলকিস রাবেয়া টুম্পাসহ চার জন চুয়াডাঙ্গা জেলার আলি হোসেনকে টুম্পার বাড়িতে আটকিয়ে রেখে ২ লাখ টাকা চাঁদা দাবি করে। টুম্পার বাড়ি থেকে আলি হোসেনকে উদ্ধার করা হয় ও এ মামলার প্রধান আসামী টুম্পাসহ চারজনকে আটক করাহয়। আটক কৃতদের আদালতের মাধ্যমে জেলহাজতে প্রেরণ করা হয়েছে।

প্রাথমিক তদন্ত ও অভিযোগের বরাত দিয়ে তিনি আরও জানান, ওই নারী শহরের বিত্তশালীদের প্রেমের ফাঁদে ফেলে তাদের সঙ্গে শারীরিক সম্পর্ক গড়ে তা ভিডিও করে রাখতেন। পরে সেই ভিডিও দেখিয়ে ব্লাকমেইলের মাধ্যমে চাঁদাবাজি করতেন।

পুলিশের একটি সূত্র জানিয়েছেন, নাজনীন খান প্রিয়ার দলে ৯ জন সুন্দরী নারী আছেন। তারা বিভিন্ন সময়ে পুরুষদের প্রেমের ফাঁদে ফেলে আসামাজিক কাজে লিপ্ত হয়।

জানা গেছে, ওই নারী বেশ কয়েক বছর আগে মানব উন্নয়ন কেন্দ্র মউকের মাঠ কর্মী ছিলেন। পরে তিনি প্রতিষ্ঠানটির একটি ফেসবুক পেজের অ্যাঙ্কর হিসেবে কাজ করেছেন। শহরে নিজেকে সাংবাদিক পরিচয় দিতেন।