• আজ সোমবার, ১৩ অগ্রহায়ণ, ১৪২৯ ৷ ২৮ নভেম্বর, ২০২২ ৷

বগুড়ায় পুলিশকে মারধরের ঘটনায় ৬ জন গ্রেফতার, থানায় মামলা

Bogura news
❏ বুধবার, নভেম্বর ২৩, ২০২২ রাজশাহী

সাখাওয়াত হোসেন জুম্মা,বগুড়া প্রতিনিধি: বগুড়ার শেরপুরে ওয়ারেন্টমুলে আসামী ধরতে গিয়ে মারধরের শিকার হয়েছে থানা পুলিশের দুই উপ-সহকারি পুলিশ পরিদর্শক(এএসআই) মুকিম উজজামান(নিরস্ত্র) ও হাবিবুর রহমান।

ঘটনাটি ২২ নভেম্বর মঙ্গলবার রাত সাড়ে ১০টার দিকে উপজেলার খানপুর গ্রামে ঘটেছে। খবর পেয়ে থানা পুলিশের অতিরিক্ত ফোর্স ঘটনাস্থল থেকে দুই এসআইকে উদ্ধার ও সরকারি কাজে বাধা ও মারধরের ঘটনায় ৬ জনকে গ্রেফতার করে থানায় আনে। পরে আহত পুলিশের উপ-পুলিশ পরিদর্শক(এএসআই)দ্বয়কে স্থানীয় হাসপাতালে চিকিৎসা প্রদান করা হয়।

এ ঘটনার পরিপ্রেক্ষিতে ৭জনের বিরুদ্ধে থানায় মামলা দায়ের পূর্বক ২৩ নভেম্বর দুপুরে আদালতের মাধ্যমে জেল হাজতে প্রেরণ করা হয়েছে বলে তথ্য নিশ্চিত করেছেন থানার পুলিশ পরিদর্শক(তদন্ত) লাল মিয়া।

গ্রেফতারকৃত হলো, খানগ্রামের আব্দুর রহমানের ছেলে আহম্দ আলী, মোঃ মোহর আলী (৫৮), মোহাম্মদ আলী (৫০), মোঃ মোহর আলীর ছেলে মোঃ আব্দুর রশিদ (২৮), আহাম্মদ আলীর স্ত্রী মোছাঃ বুলি খাতুন (৩৮), মেয়ে মোছাঃ আকলিমা খাতুন (১৯), মোহাম্মাদ্দ আলীর ছেলে মোঃ রেজাউল করিম (২০)। তবে আব্দুর রহমানের ছেলে আহম্দ আলী পলাতক রয়েছে।

থানা সুত্রে জানা যায়, শেরপুর থানা পুলিশের উপ-সহকারি পুলিশ পরিদর্শক(এএসআই) মুকিম উজ্জামান ও হাবিবুর রহমান ২২ নভেম্বর মঙ্গলবার রাত সাড়ে আটটায় ২০০০ সালের নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইন (সংশোধনী/২০০৩) এর ১০ ধারা সংক্রান্তে গ্রেফতারী পরোয়ানা মূলে খানপুর গ্রামে আসামী মৃত আব্দুর রহমানের ছেলে আহাম্মদ আলী (৬০) কে গ্রেফতার করে।

এ সময় আসামীর চিৎকারে পরিবারের লোকজন রাত সাড়ে ১০টার দিকে মো. মোহর আলী, মোহাম্মদ আলী, মো. আব্দুর রশিদ, মোছাঃ বুলি খাতুন, মোছাঃ আকলিমা খাতুন, রেজাউলসহ অজ্ঞাতনামা আরো কয়েক জন আসামী হাতে লাঠিসোটা নিয়ে দলবদ্ধ হয়ে মারপিট করে গ্রেফতারকৃত আসামী আহাম্মদ আলীকে ছিনিয়ে নেওয়ার চেষ্টা করে। এতে দায়িত্বরত পুলিশদ্বয়কে তারা গুরুতর ও রক্তাক্ত জখম করে।

পরে খবর পেয়ে স্থানীয় ইউপি সদস্য মো. মহির উদ্দিনসহ কয়েকজন ও থানার উপ-পুলিশ পরিদর্শক(এসআই) আব্দুস সালামের নেতৃত্বে অতিরিক্ত ফোর্স গিয়ে ঘটনাস্থল থেকে আহত পুলিশদ্বয়কে উদ্ধার করে। এবং সরকারি কাজে বাধা দেয়া ও পুলিশকে মারধরের ঘটনায় ৬জনকে গ্রেফতার করে থানা আনে। পরে আহত পুলিশদ্বয় মকিমউজ্জমান ও হাবিবুর রহমান স্থানীয় হাসপাতালে চিকিৎসা নিয়েছেন বলে জানা গেছে।

আহত পুলিশের এএসআই হাবিবর রহমান বলেন, আদালতের গ্রেফতারী পরোয়ানা মূলে খানপুর গ্রামে আসামী মৃত আব্দুর রহমানের ছেলে আহাম্মদ আলী (৬০) কে গ্রেফতার করতে চাইলে তিনি প্রথমে জামিনে আছেন মর্মে জানান। তবে কোন কাগজপত্র না দেখাতে পারায় তাকে গ্রেফতার করার চেষ্টাকালে পরিবারের মহিলা সদস্যরা আমাদের হ্যান্ডকাপ ছিনিয়ে নিয়ে ছুড়ে ফেলে দেয় এবং চিৎকার দিয়ে কয়েকজন মিলে হামলা চালায় এবং আহত করে।

এ ঘটনায় থানা পুলিশের উপ-সহকারি পুলিশ পরিদর্শক(এএসআই) মুকিম উজ্জামান বাদি হয়ে ৭জন নামীয় ও অজ্ঞাতনামা কয়েকজনকে আসামী করে একটি মামলা দায়ের করেন।

এ ব্যাপারে শেরপুর থানার পুলিশ পরিদর্শক(তদন্ত) লাল মিয়া বলেন, সরকারি কাজে বাধা দেয়া ও পুলিশের উপর হামলা চালানোর ঘটনায় ৬জনকে গ্রেফতার করা হয়েছে। তবে মামলা গ্রহনপূর্বক তাদের আদালতের মাধ্যমে জেল হাজতে প্রেরণ করা হয়েছে।