• আজ রবিবার, ১৯ অগ্রহায়ণ, ১৪২৯ ৷ ৪ ডিসেম্বর, ২০২২ ৷

বিদ্যুৎ-জ্বালানি খাতে ভর্তুকি প্রত্যাহারের উদ্যোগ


❏ শুক্রবার, নভেম্বর ২৫, ২০২২ প্রধান খবর

সময়ের কন্ঠস্বর ডেস্ক: দেশে বিদ্যুতের দাম গত এক দশকে অন্তত ১২ বার বেড়েছে। কয়েক দফা বেড়েছে জ্বালানি তেল ও গ্যাসের দাম। তারপরও এ খাতে সরকারের ভর্তুকি অব্যাহত আছে। বাংলাদেশ বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ড (পিডিবি), বাংলাদেশ তেল গ্যাস খনিজসম্পদ করপোরেশন (পেট্রোবাংলা) ও বাংলাদেশ পেট্রোলিয়াম করপোরেশনকে (বিপিসি) বছরে প্রায় ৫০ হাজার কোটি টাকা ভর্তুকি দেয় সরকার। ভর্তুকির কারণেই বিদ্যুৎ ও গ্যাসের দাম ‘সহনীয়’ পর্যায়ে আছে। ভর্তুকি তুলে নিলে দাম আরও বাড়বে। তবে দাম বাড়ার আশঙ্কা থাকলেও তেল, গ্যাস ও বিদ্যুতের ভর্তুকি থেকে সরে আসার উদ্যোগ নিতে যাচ্ছে বিদ্যুৎ ও জ্বালানি মন্ত্রণালয়।

মন্ত্রণালয় থেকে ইতোমধ্যে জ্বালানি পণ্যের বাজার আন্তর্জাতিক বাজারের সঙ্গে সমন্বয় করে পরিচালনার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। বাইরে দাম বাড়লে দেশের বাজারেও বাড়বে, আবার দাম কমলে দেশের বাজারেও কমবে। অনেক দেশেই এভাবে দাম সমন্বয় হয়। সূত্র: আমাদের সময়।

গত ২১ নভেম্বর পাইকারি পর্যায়ে বিদ্যুতের দাম বাড়ে। তারপরও বছরে অন্তত ১৭ হাজার কোটি টাকা ভর্তুকি দিতে হবে। অন্যদিকে চলতি বছরই জ্বালানি তেলের দাম দেশের ইতিহাসে সর্বোচ্চ বাড়ানো হয়েছে। তারপরও লোকসানের কথা জানিয়েছে বিপিসি। গত কয়েক বছরে একাধিকার বেড়েছে গ্যাসের দামও। তারপরও আমদানি করা এলএনজি সরবরাহ করতে সরকারকে খরচের প্রায় অর্ধেক টাকা ভর্তুকি দিতে হচ্ছে।

এসব বিষয়ে বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজসম্পদ প্রতিমন্ত্রী নসরুল হামিদ বলেন, ‘অনেক দেশ আন্তর্জাতিক বাজারের সঙ্গে সমন্বয় করে জ্বালানির দাম নির্ধারণ করে। দাম বাড়লে বা কমলে সেটা তারা প্রতিনিয়ত সমন্বয় করে।’

প্রতিমন্ত্রী বলেন, ‘এখন আস্তে আস্তে ভর্তুকি থেকে সরে আসতে হবে। আমরা ওপেন মার্কেটে কবে নাগাদ যেতে পারব, সে বিষয়ে ভাবছি। বিভিন্ন দেশের তথ্যউপাত্ত সংগ্রহ করে যাচাই-বাছাই করছি।‘‘

তিনি জানান, ‘বিদ্যুৎ যারা উৎপাদন করবেন, তারা বিতরণ কোম্পানির কাছে বিক্রি করবেন। বিতরণ কোম্পানি কত দামে বিক্রি করবে, সেটা রেগুলেটরি অথরিটি ঠিক করে দেবে। এখানে আস্তে আস্তে ভর্তুকি থেকে সরে আসতে হবে।’

নসরুল হামিদ বলেন, ‘ওপেন মার্কেটের একটা সুবিধা হলো, যখন বিশ্ববাজারে দাম কমে যায়, তখন দেশেও কমে যায়। ওপেন মার্কেট থাকলে সরকারের সাধারণত ভর্তুকির বিষয় আসে না। দায়-দায়িত্ব তখন সরকারের কাঁধে সেভাবে থাকে না। প্রতি ব্যারেল তেলের দাম এক সময় ছিল ৭০ ডলার। এখন ১৪০ ডলার। এই দাম সমন্বয় করতে গিয়ে সরকারকে সমালোচনার শিকার হতে হচ্ছে। ফলে মার্কেটের ওপর ছেড়ে দেওয়া ভালো হবে।

প্রতিমন্ত্রী মনে করেন, ‘জ্বালানি পণ্যের দাম সমন্বয় হওয়া উচিত বাজারের সক্ষমতার ও চাহিদা ভিত্তিতে। তবে বিশেষ ক্ষেত্রে যদি সরকারের কোনো কোনো জায়গায় ভর্তুকি দিয়ে দামটা কমাতে হয়, সেটা পরবর্তীকালের বিষয়। কিন্তু এখানে প্রতিনিয়ত দাম বাড়াচ্ছি, কমাচ্ছি না, নানা প্রশ্ন তৈরি হচ্ছে। এ রকম একটা পরিস্থিতি নিয়ে আমরা যাচাই-বাছাই করছি।

প্রতিমন্ত্রী বলেন, ‘আমরা আগামী মাসে বৈঠক করব। অন্যদেশগুলো কীভাবে চলছে, সেসব তথ্য পর্যালোচনা করা হচ্ছে।

নসরুল হামিদ বলেন, ‘বিতরণ কোম্পানি যদি মনে করে যে তারা সোলার কোম্পানির কাছ থেকে বিদ্যুৎ কিনবে, তাহলে সেটা কিনবে। তবে একটা নীতিমালা করে দিতে হবে। জ্বালানি তেল ও বিদ্যুতের বাজার প্রতিযোগিতামূলক হলে বাজারব্যবস্থা সহনীয় থাকবে।’

আইএমএফের কাছ থেকে সাড়ে চারশ কোটি ডলার ঋণ পাওয়ার চেষ্টা করছে সরকার। ঋণ দেওয়ার ক্ষেত্রে কিছু শর্ত ও পরামর্শ দিয়েছে আইএমএফ। এর মধ্যে জ্বালানি খাতে ভর্তুকি কমিয়ে আনার বিষয়ও আছে।

এ বিষয়ে পলিসি রিসার্স ইনস্টিটিউটের (পিআরআই) নির্বাহী পরিচালক ড. আহসান এইচ মনসুর বলেন, ‘ভর্তুকি তুলে দেওয়াই ভালো। আমদানি করা অনেক পণ্য মানুষ বাজার দরে কিনে অভ্যস্ত। এলপিজির দাম প্রতিমাসে বাংলাদেশ এনার্জি রেগুলেটরি কমিশন ঘোষণা দিচ্ছে, মানুষ সে দামেই ব্যবহার করছে। ফলে জ্বালানি তেল বা গ্যাসের দামও বাজার দরে ছেড়ে দিলেই ভালো। অনেক দেশেই জ্বালানি তেলের দাম বাজার দরের সঙ্গে হালনাগাদ হচ্ছে।