চলতি মাসেই ভারত ও শ্রীলঙ্কায় হাইব্রিড মডেলে মাঠে গড়াবে ২০২৫ নারী ওয়ানডে বিশ্বকাপ। আসন্ন এই টুর্নামেন্টের জন্য রেকর্ড প্রাইজমানি ঘোষণা করেছে আন্তর্জাতিক ক্রিকেট কাউন্সিল (আইসিসি)। আগের আসরের তুলনায় এবার প্রাইজমানি বেড়েছে চার গুণ, যা পুরুষদের সর্বশেষ ওয়ানডে বিশ্বকাপের চেয়েও বেশি।
আইসিসির ঘোষণা অনুযায়ী, এবারের নারী বিশ্বকাপের মোট প্রাইজমানি নির্ধারণ করা হয়েছে ১৩.৮৮ মিলিয়ন ডলার, যা বাংলাদেশি মুদ্রায় প্রায় ১৬৮ কোটি ৩৭ লাখ টাকা। সবশেষ ২০২২ সালে নিউজিল্যান্ডে অনুষ্ঠিত নারী বিশ্বকাপে মোট প্রাইজমানি ছিল মাত্র ৩.৫ মিলিয়ন ডলার (প্রায় ৪২ কোটি টাকা)।
এবারের বিশ্বকাপে প্রতিটি অংশগ্রহণকারী দল আড়াই লাখ ডলার করে পাবে, এমনকি কোনো ম্যাচ না জিতলেও। অর্থাৎ বাংলাদেশও যদি জয়বিহীন থাকে, তবু পাবে প্রায় তিন কোটি টাকা। শুধু তাই নয়, গ্রুপ পর্বে প্রতিটি জয়ের জন্য নির্ধারণ করা হয়েছে ৩৪ হাজার ৩১৪ ডলার করে।
সপ্তম ও অষ্টম স্থান অর্জনকারী দল পাবে ২ লাখ ৮০ হাজার ডলার, পঞ্চম ও ষষ্ঠ দল পাবে ৭ লাখ ডলার করে। সেমিফাইনালে হেরে যাওয়া দুই দল পাবে ১.১২ মিলিয়ন ডলার করে, যা আগের আসরের তুলনায় প্রায় ২৭৩ শতাংশ বেশি।
সবচেয়ে বড় অঙ্কটা বরাদ্দ রাখা হয়েছে ফাইনালের জন্য। রানার্সআপ দল পাবে ২.২৪ মিলিয়ন ডলার (প্রায় ২৭ কোটি টাকা), আর চ্যাম্পিয়ন দল পাবে ৪.৪৮ মিলিয়ন ডলার (প্রায় ৫৪ কোটি টাকা)। এটি ২০২২ সালের চ্যাম্পিয়ন পুরস্কারের তুলনায় ২৩৯ শতাংশ বেশি।
আইসিসির চেয়ারম্যান জয় শাহ বলেছেন, ‘নারী ক্রিকেটের অগ্রগতিতে এ ধরনের আর্থিক পৃষ্ঠপোষকতা গুরুত্বপূর্ণ। পুরুষ ও নারীদের সমান দৃষ্টিতে দেখা আমাদের দায়িত্ব, আর এই পদক্ষেপ সে লক্ষ্যেই নেয়া হয়েছে।’
প্রসঙ্গত, আগামী ৩০ সেপ্টেম্বর গুয়াহাটিতে ভারত-শ্রীলঙ্কা ম্যাচ দিয়ে শুরু হবে এবারের নারী ওয়ানডে বিশ্বকাপ। বাংলাদেশ, ভারত, শ্রীলঙ্কা, পাকিস্তান, অস্ট্রেলিয়া, দক্ষিণ আফ্রিকা, ইংল্যান্ড ও নিউজিল্যান্ড- এই আট দল রাউন্ড রবিন লিগ পদ্ধতিতে লড়বে। প্রথম রাউন্ডে ২৮, সঙ্গে দুটি সেমিফাইনাল ও ফাইনালসহ মোট ৩১ টি ম্যাচ অনুষ্ঠিত হবে এবারের আসরে। খেলাগুলো হবে মোট পাঁচটি ভেন্যুতে- কলম্বো, ডিওয়াই পাতিল, ইন্দোরের হোলকার, গুয়াহাটির বর্ষাপাড়া ও বিশাখাপত্তনমের ওয়াই এস রাজাশেখর রেড্ডি স্টেডিয়ামে।
আরডি