গাজীপুরের সদর উপজেলার কাশিমপুরের লোহাকৈর মৌজায় সরকারি খাস খতিয়ানভুক্ত জমি দখল করে স্থানীয় ভূমিদস্যুরা প্লট আকারে বিক্রি করছে বলে অভিযোগ উঠেছে। এতে একদিকে সরকারের মূল্যবান সম্পত্তি বেহাত হচ্ছে, অন্যদিকে সাধারণ ক্রেতারা প্রতারণার শিকার হচ্ছেন।
অভিযোগে জানা যায়, সদর উপজেলার ৫৩৫ নং লোহাকৈর মৌজার সাবেক ১নং রায়তী খতিয়ানভুক্ত সি.এস ও এস.এ ২১১/২৫২, আর.এস ২৭৮ দাগের মোট ৪ একর ০৬ শতাংশ জমি খাস খতিয়ানভুক্ত। ১৯৮৭ সালে মো. সাজ্জাদ আলম, শহিদুল হোসেন মিয়া ও আঃ জলিল আকন্দ নামে কয়েকজনকে কৃষি জমি বন্দোবস্ত দেওয়া হলেও পরবর্তীতে উপজেলা প্রশাসন ও মাঠ পর্যায়ের কর্মকর্তাদের তদন্তে অনিয়ম প্রমাণিত হয়।
বন্দোবস্তের প্রায় ৫ মাস পর বিগত ২২/০৭/১৯৮৭ তারিখের ১০৯১/১(২)/রেভ/৮৭ নং স্মারকে উপরোল্লিখত নথিদ্বয় বাতিল করা হয়। এছাড়াও সীমানা নির্ধারণী ১৩৩/২০১৫ (এস.এ শাখা) নং মামলায় বিগত ০৯/০৭/২০১৫ তারিখের সীমানা সংক্রান্ত বিবিধ মোকদ্দমা নং-১৩৩/২০১৫-১২৬৬/১(২) এর স্মারক অনুযায়ী লোহাকৈর মৌজাস্থিত সাবেক ১নং রায়তী খতিয়ানভুক্ত সি.এস ও এস.এ ২১১/২৫২, আর.এস ২৭৮ নং দাগের মোট জমি ৪ একর ০৬ শতাংশ ভূমিকেই খাস জমি হিসেবে দেখানো হয়।
পরবর্তীতে ২০১৫ সালের সীমানা নির্ধারণী মামলায়ও জমিটি সরকারি খাস জমি হিসেবে চিহ্নিত হয়। কিন্তু সম্প্রতি ওই জমি প্লট আকারে বিক্রি করে লাখ লাখ টাকা হাতিয়ে নিচ্ছে স্থানীয় একটি চক্র। অভিযোগ রয়েছে, এ কাজে ভূমি অফিস ও সেটেলমেন্ট বিভাগের কিছু অসাধু কর্মকর্তা-কর্মচারীও জড়িত রয়েছে। ফলে সাধারণ মানুষ খাস জমি কিনে প্রতারিত হচ্ছেন।
এ বিষয়ে অলিল মিয়া নামের এক ক্রেতার সাথে কথা বলে তিনি জানান, 'আমি এখানে ১২ শতাংশ জমি ক্রয় করেছি শহিদুল ইসলামের কাছ থেকে। আর তাদের খাস খতিয়ানের লিজকৃত দলিল বাতিল হয়েছে, সেটা আমাদেরকে কেউ জানায়নি। যদি দলিল বাতিল হয়ে থাকে, তাহলে তো তারা আমাদের সাথে প্রতারণা করেছে। আর ৪ একর সম্পত্তির মাঝে সব সম্পত্তি গুলো তারা বিভিন্ন লোকের কাছে প্লট করে বিক্রি করে দিয়েছে।'
এ ব্যাপারে গাজীপুরের টঙ্গী রাজস্ব সার্কেল এর সহকারী কমিশনার (ভূমি) মোহাম্মদ মাজহারুল হক বলেন, 'বিষয়টি আমি খোঁজ-খবর নিয়ে অতি দ্রুতই ব্যবস্থা গ্রহণ করতেছি। আর আমি এখানে নতুন এসেছি, তো তার কারণে বিষয়টি আমার জানা নেই।'
এ বিষয়ে গাজীপুরের অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (রাজস্ব ও এলএ) মোহাম্মদ কায়সার খসরু জানান, 'সরকারি খাস খতিয়ানের সম্পত্তি বিক্রির কোন সুযোগ নেই। তবে কেউ যদি বিভিন্ন লোকের কাছে সম্পত্তি বিক্রি করে থাকে, তাহলে তারা প্রতারণা করছেন। আর বিষয়টি খতিয়ে দেখে বিধি মোতাবেক তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।'
এদিকে এলাকাবাসীর দাবি, সরকারি খাস খতিয়ানের সম্পত্তি দখল করে দালাল চক্র অবৈধভাবে বিক্রি করছে। এ বিষয়ে তারা জেলা প্রশাসকের হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন। এছাড়াও খাস জমি রক্ষায় প্রশাসনের পক্ষ থেকে জরুরি ব্যবস্থা না নিলে সরকারি সম্পত্তি বেহাত হয়ে যাবে এবং প্রতারণার শিকার হবে আরও অনেক সহজ-সরল মানুষ।
পিএম