পার্শ্ববর্তী দেশ মিয়ানমারের বিদ্রোহী গোষ্ঠী আরাকান আর্মির বেপরোয়া তাণ্ডবে কক্সবাজার টেকনাফের সাগরে মাছ শিকারে যাওয়া জেলেরা ভয় ও আতঙ্কের মধ্যে দিন কাটাচ্ছেন। পরিবারের জীবন-জীবিকা নির্বাহ করতে প্রতিনিয়ত ঝুঁকি নিয়ে মাছ শিকারে যেতে হচ্ছে তাদের।
কারণ, গত কয়েক মাস ধরে মিয়ানমার বিদ্রোহী গোষ্ঠী আরাকান আর্মির সদস্যদের বেপরোয়া তাণ্ডবে সাগরে মাছ শিকারে যাওয়া বাংলাদেশি জেলেদের জলসীমা অতিক্রম করার অভিযোগ এনে অস্ত্রের মুখে জিম্মি করে ফিশিং ট্রলারসহ জেলেদের ধরে নিয়ে যাচ্ছে।
তারই ধারাবাহিকতায় বুধবার (১০ সেপ্টেম্বর) বিকালের দিকে সেন্টমার্টিনের অদূরে গভীর বঙ্গোপসাগর থেকে পাঁচটি ফিশিং ট্রলারসহ ৩০ জন জেলেকে অস্ত্রের মুখে জিম্মি করে ধরে নিয়ে গেছে।
ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করেছেন টেকনাফ পৌরসভা ৭নং ওয়ার্ড জালিয়াপাড়া এলাকার বাসিন্দা মাছ ব্যবসায়ী মো. রফিক।
তিনি জানান, বুধবার বিকাল সাড়ে ৫টার দিকে টেকনাফ উপজেলার সেন্টমার্টিন দ্বীপের দক্ষিণ-পূর্ব সাগর থেকে দফায় দফায় ৫টি ফিশিং ট্রলারসহ ৩০ জেলেকে ধরে নিয়ে গেছে।
এরপর জীবনের ঝুঁকি নিয়ে উপকূলে ফেরত আসা ফিশিং ট্রলারে থাকা জেলেরা ঘটে যাওয়া ঘটনার বিষয়টির বর্ণনায় বলেছেন, দেশীয় জলসীমা অনুপ্রবেশ করে জোরপূর্বক ফিশিং ট্রলারসহ এই ৩০ জেলেকে ধরে নিয়ে গেছে আরাকান আর্মি।
৫টি ট্রলারের মধ্যে ৩টির মালিক টেকনাফ পৌর এলাকার বাসিন্দা এবং অপর ২টির মালিক সাবরাং ইউনিয়নের শাহপরীরদ্বীপের বাসিন্দা।
এদিকে ঘটে যাওয়া ঘটনাটি চারিদিকে ছড়িয়ে পড়ার সাথে সাথে জেলেদের পরিবারের মধ্যে বিরাজ করছে চরম আতঙ্ক।
এ বিষয়ে বাংলাদেশ কোস্ট গার্ডের টেকনাফ স্টেশনের ইনচার্জ লেফটেন্যান্ট কমান্ডার সালাহউদ্দিন রশীদ তানভীর গণমাধ্যম কর্মীদের জানিয়েছেন, তিনি ঘটে যাওয়া বিষয়টি নানান মাধ্যমে জেনেছেন। সঠিক তথ্য সংগ্রহ করার জন্য উক্ত বাহিনী কাজ করছে বলে জানান।
উল্লেখ্য, গত ৫ আগস্ট থেকে ৩১ আগস্ট পর্যন্ত ১৩টি ফিশিং ট্রলারসহ সর্বমোট ৮১ জনকে ধরে নিয়ে গেছে আরাকান আর্মি। সেই ৮১ জন জেলে এখনো ফেরত আসতে পারেনি। তারা আরাকান আর্মির হাতে কোন অবস্থায় রয়েছে, সেই বিষয়টি জানেনা ভুক্তভোগী জেলে পরিবারের সদস্যরা।
বিজিবির তথ্যসূত্রে দেখা যায়, বিগত বছরের ডিসেম্বর থেকে ১০ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত টেকনাফের নাফ নদী ও বঙ্গোপসাগরের বিভিন্ন পয়েন্ট থেকে আরাকান আর্মির কবলে পড়েছে ৩২৫ বাংলাদেশি জেলে। এর মধ্যে সীমান্ত প্রহরী বিজিবির বাহিনীর দূরদর্শী প্রচেষ্টায় বেশ কয়েক দফায় ১৮৯ জন জেলে এবং ২৭টি ফিশিং ট্রলার ফেরত আনা হয়েছিল।
এআই