জামালপুর জেলার দেওয়ানগঞ্জ উপজেলার সহকারী কমিশনার (ভূমি) এর কার্যালয়ে ঘুষ গ্রহণ ও হয়রানির অভিযোগ ওঠেছে সার্ভেয়ার মো. রিয়াদুর রহমানের বিরুদ্ধে । অনেক সময় ঘুষ দিয়েও মিলছে না ভূমি সেবা। এতে চরম বিপাকে পড়তে হচ্ছে সেবাগ্রহীতাদের। চাহিদা মতো ঘুষ না দিলে মাসের পর মাস ঘুরতে হচ্ছে। রিয়াদের ঘুষ বাণিজ্যে অতিষ্ঠ হয়ে উঠেছেন সেবাগ্রহীতারা। সার্ভেয়ার রিয়াদ ঘুষ গ্রহণের দায়ে সাবেক কর্মস্থল থেকে দেওয়ানগঞ্জ সহকারী কমিশনার (ভূমি) এর কার্যালয়ে বদলি হয়ে এসেছেন বলেও জানা গেছে। তবে, ঘুষ গ্রহণের অভিযোগ অস্বীকার করেছেন সার্ভেয়ার রিয়াদ।
অভিযোগের প্রেক্ষিতে জানা গেছে, কালিকাপুর এলাকার আইভান বেগম ও খড়মা নয়া পাড়া গ্রামের সবুরা বেগম দুজনেই তাদের বে-দখলকৃত জমির মামলার রায় পেয়েছেন ৪০ বছর পর। খতিয়ান খোলার জন্য ১০ বছর দেওয়ানগঞ্জ সদর ইউনিয়ন ভূমি অফিস ঘুরার পর ফের নয় মাস ধরে ঘুরছেন এসিল্যান্ড অফিসের বারান্দায়। তাদের কাছে সার্ভেয়ার মো. রিয়াদুর রহমান ২ লাখ টাকা ঘুষ চেয়ে বসেন। তারা মিনতি করে ৬০ হাজার টাকা দেন। বাকি টাকা না দেওয়ায় কাজ করছেন না সার্ভেয়ার।
অপর অভিযোগে জানা যায়, চর হাতিভাঙা গ্রামের তায়েব আলীর জমির মিস কেস করার জন্য এসিল্যান্ড অফিসে গেলে সার্ভেয়ার মো. রিয়াদুর রহমানের চাহিদা মতো ১৫ হাজার টাকা ঘুষ দেওয়ার পরও তিন মাসের অধিক সময় ধরে ঘুরাচ্ছেন।
চুকাইবাড়ি এলাকার নজরুল ইসলামসহ নাম প্রকাশ না করার শর্তে একাধিক সেবাগ্রহীতা অভিযোগ করে বলেন, ‘সার্ভেয়ার রিয়াদ মানুষকে জিম্মি করে টাকা নেয় । দিনের পর দিন ঘুরায়, সে এমনই একজন ঘুষখোর। কাউকেই তোয়াক্কা করে না।’
বাহাদুরাবাদ ইউনিয়নের বাসিন্দা রিপন বলেন, ‘আমার জমির মিস কেস করার জন্য কয়েকদিন ধরে সার্ভোয়ার কাছে ঘুরছি কিন্তু সে ঘুরাচ্ছ এতে আমি চরম বিপাকে রয়েছি।’
সার্ভেয়ার রিয়াদের ঘুষ গ্রহণ ও হয়রানির শিকার হয়ে সাবেক উপজেলা পরিষদের মহিলা ভাইস চেয়ারম্যান মুন্নি আক্তার জেলা প্রশাসক (ডিসি) বরাবর একটি লিখিত অভিযোগ দিয়েছেন বলে জানান তিনি।
ঘুষ গ্রহণের অভিযোগের বিষয়ে সার্ভেয়ার মো. রিয়াদুর রহমান বলেন, ‘যদি ঘুষ নেওয়ার তথ্য-প্রমাণ থাকে, তাহলে আপনারা লিখেন। আমি ঘুষ খাই না, সঠিক কাজ করি, তাই আমার নামে বদনাম।’
ইখা