আগামীকাল বৃহস্পতিবার (২৭ নভেম্বর) থেকে শুরু হতে যাওয়া ৪৭তম বিসিএসের লিখিত পরীক্ষা বর্জনের ঘোষণা দিয়েছে আন্দোলনরতরা। বুধবার (২৬ নভেম্বর) বিকেলে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের মধুর ক্যান্টিনের সামনে এই ঘোষণা দেন তারা।
আন্দোলনকারীরা জানান, দীর্ঘদিন ধরে তারা সমাধানের আশা করলেও সরকারের উচ্চপর্যায়ের আশ্বাস কোনো ফল বয়ে আনেনি। তারা বলেন, ‘আমরা প্রতারিত হয়েছি। শুধু সময়ক্ষেপণ করা হয়েছে, সমাধান দেওয়া হয়নি। তাই আমরা ৪৭তম বিসিএসের লিখিত পরীক্ষা বর্জন করছি।’
তারা আরও বলেন, পরীক্ষায় কতজন অংশ নেন তা পর্যবেক্ষণ করা হবে। যদি অধিকাংশ পরীক্ষার্থী অনুপস্থিত থাকে, তাহলে নির্বাচন পরবর্তী নতুন সরকার গঠনের পর পরীক্ষাটি পুনরায় আয়োজনের দাবি জানানো হবে।
এর আগে বুধবার সকাল ১১টা পর্যন্ত লিখিত পরীক্ষা পিছিয়ে দেওয়ার আল্টিমেটাম দিয়েছিলেন আন্দোলনকারীরা। দাবি উপেক্ষা করা হলে ব্লকেডসহ কঠোর কর্মসূচি দেওয়ার কথাও জানানো হয়।
গত মঙ্গলবার দুপুরে জাতীয় শহীদ মিনার থেকে শোভাযাত্রা নিয়ে যমুনা অভিমুখে রওনা দিয়েছিলেন পরীক্ষার্থীরা। শাহবাগে পুলিশের বাধায় তাদের অগ্রযাত্রা থামে। একপর্যায়ে সেখানে ধাওয়া–পাল্টাধাওয়া, লাঠিচার্জ, টিয়ারশেল ও জলকামান ছোড়ার ঘটনা ঘটে। এতে কয়েকজন পরীক্ষার্থী আহত হন। ঘটনার নিন্দা জানিয়ে বিভিন্ন রাজনৈতিক দল ও সংগঠন বিবৃতি দেয়।
আন্দোলনকারীদের দাবি, পূর্ববর্তী বিসিএসগুলোতে লিখিত পরীক্ষার জন্য সাধারণত ছয় মাস থেকে এক বছর সময় পাওয়া যেত। কিন্তু এই পরীক্ষায় প্রস্তুতির জন্য দেওয়া হয়েছে দুই মাসেরও কম সময়—যা তাদের মতে অযৌক্তিক ও অমানবিক।
নোটিশ অনুযায়ী, ৪৭তম বিসিএসের লিখিত পরীক্ষা বৃহস্পতিবার (২৭ নভেম্বর) থেকে শুরু হবে। ঢাকা, চট্টগ্রাম, রাজশাহী, খুলনা, বরিশাল, সিলেট, রংপুর ও ময়মনসিংহ—এই আট কেন্দ্রেই পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হবে। কারিগরি ও পেশাগত ক্যাডারের বিষয়ভিত্তিক লিখিত পরীক্ষা চলবে ১৮ ডিসেম্বর পর্যন্ত।
আরডি