এইমাত্র
  • গাজায় হামলা চলছেই, ৭৩৮ বার যুদ্ধবিরতি লঙ্ঘন করেছে ইসরায়েল
  • চলছে দানের টাকা গোনা, হুমায়ুনের জন্য হায়দ্রাবাদ থেকে 8 নিরাপত্তারক্ষী
  • সংবাদ সম্মেলন ডেকেছেন উপদেষ্টা আসিফ মাহমুদ
  • বিমানবাহিনীতে যুক্ত হচ্ছে যুদ্ধবিমান ‘ইউরোফাইটার টাইফুন’
  • সেনাবাহিনীতে সৈনিক পদে আবেদনে বয়স বাড়ল
  • দেশত্যাগের আগে ওমর সানীর ভিডিও বার্তা, যা বলে গেলেন
  • চীনে এনভিডিয়ার চিপ রপ্তানির অনুমতি দিচ্ছেন ট্রাম্প
  • যুক্তরাষ্ট্রের মুসলিম অধিকার সংগঠনকে ‘সন্ত্রাসী সংগঠন’ ঘোষণা
  • পান্ডিয়ার ব্যাটিং তাণ্ডবে ভারতের চ্যালেঞ্জিং স্কোর
  • প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শীতকালীন ছুটি বাতিল
  • আজ বুধবার, ২৬ অগ্রহায়ণ, ১৪৩২ | ১০ ডিসেম্বর, ২০২৫
    দেশজুড়ে

    নিহতের বাবার আর্তি: ‘মৃত্যুর আগে বিচার দেখতে চাই’

    চট্টগ্রামে আইনজীবী সাইফুল হত্যা: এক বছরেও ধরা পড়েনি ১৭ আসামি

    গাজী গোফরান, স্টাফ করেসপন্ডেন্ট (চট্টগ্রাম) প্রকাশ: ২৬ নভেম্বর ২০২৫, ০৬:০৭ পিএম
    গাজী গোফরান, স্টাফ করেসপন্ডেন্ট (চট্টগ্রাম) প্রকাশ: ২৬ নভেম্বর ২০২৫, ০৬:০৭ পিএম

    চট্টগ্রামে আইনজীবী সাইফুল হত্যা: এক বছরেও ধরা পড়েনি ১৭ আসামি

    গাজী গোফরান, স্টাফ করেসপন্ডেন্ট (চট্টগ্রাম) প্রকাশ: ২৬ নভেম্বর ২০২৫, ০৬:০৭ পিএম

    চট্টগ্রামে আইনজীবী সাইফুল ইসলাম ওরফে আলিফ হত্যার এক বছর পার হলেও ১৭ আসামির কাউকেই গ্রেপ্তার করতে পারেনি পুলিশ। ফলে আলোচিত এ হত্যাকাণ্ডের বিচার প্রক্রিয়া শুরু করা যাচ্ছে না। দীর্ঘসূত্রিতা ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর ব্যর্থতায় হতাশ ও ক্ষুব্ধ নিহতের পরিবার এবং আইনজীবী সমাজ।

    আজ বুধবার (২৬ নভেম্বর) মামলার এক বছর পূর্তিতে চট্টগ্রাম জেলা আইনজীবী সমিতি আদালত ভবনের সামনে মানববন্ধন এবং বিকেলে স্মরণসভার আয়োজন করেছে।

    হত্যা মামলাটি বর্তমানে চট্টগ্রাম মহানগর ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে বিচারাধীন। আগামী ১ ডিসেম্বর মামলার পরবর্তী তারিখ রয়েছে। সরকারি কৌঁসুলি মো. রায়হানুল ওয়াজেদ চৌধুরী সময়ের কন্ঠস্বর-কে জানান, সাইফুল হত্যা মামলায় মোট ৩৯ জনের বিরুদ্ধে আদালত অভিযোগপত্র গ্রহণ করেছেন। এর মধ্যে ২১ জন ইতোমধ্যে গ্রেপ্তার হলেও ১৭ জন এখনও পলাতক।

    তিনি বলেন, “পলাতকদের বিরুদ্ধে আদালত মালামাল ক্রোকের নির্দেশ ও হুলিয়া জারি করেছেন। তাদের গ্রেপ্তারসংক্রান্ত প্রতিবেদন আদালতে দাখিল হলে মামলাটি দায়রা জজ আদালতে বদলি হবে। সেখানে অভিযোগ গঠন শেষে বিচার শুরু হবে।”

    এই প্রসঙ্গে জানতে চাইলে নগর পুলিশের সহকারী কমিশনার (গণমাধ্যম) আমিনুর রশিদ বলেন, “প্রতিটি ঠিকানায় অভিযান চালানো হলেও পলাতকদের পাওয়া যায়নি। তাদের গ্রেপ্তারে অভিযান অব্যাহত রয়েছে।”

    মামলা সূত্র বলছে, ২০২৪ সালের ২৬ নভেম্বর জাতীয় পতাকা অবমাননার অভিযোগে রাষ্ট্রদ্রোহ মামলায় সনাতনী জাগরণ জোটের মুখপাত্র চিন্ময় দাসের জামিন শুনানিকে কেন্দ্র করে আদালতপাড়া এলাকায় উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে। উত্তপ্ত পরিস্থিতির মধ্যেই সংঘর্ষের ঘটনা ঘটলে হামলার লক্ষ্যবস্তু হন আইনজীবী সাইফুল ইসলাম।

    অভিযোগপত্র অনুযায়ী, চিন্ময় দাসের উসকানি ও নির্দেশে সংঘবদ্ধ হামলাকারীরা সাইফুলের ওপর চড়াও হয়। রিপন দাস তাঁর ঘাড়ে বঁটি দিয়ে দুটি কোপ দেন এবং চন্দন দাস কিরিচ দিয়ে আঘাত করেন। পরে লাঠি, বাটাম, ইট, কিরিচ ও বঁটি দিয়ে এলোপাতাড়ি পিটিয়ে তাকে হত্যা করা হয়।

    হত্যার পর তাঁর বাবা জামাল উদ্দিন ৩১ জনকে নাম উল্লেখ করে মামলা করেন। ভিডিওফুটেজসহ অন্যান্য প্রমাণের ভিত্তিতে পরে মোট ৩৯ জনকে অভিযুক্ত করে পুলিশ। এ বছরের ২৫ আগস্ট আদালত অভিযোগপত্র গ্রহণ করেন।

    ঘটনার আগের অক্টোবর মাসে চিন্ময় কৃষ্ণ দাসের বিরুদ্ধে জাতীয় পতাকা অবমাননার অভিযোগে রাষ্ট্রদ্রোহ মামলা হয়। ওই মামলায় ২৫ নভেম্বর ঢাকায় গ্রেপ্তার হন তিনি। তাঁর জামিন শুনানিকে কেন্দ্র করে সংঘর্ষের সময়ই নিহত হন সাইফুল ইসলাম। পরবর্তী সময়ে হত্যা মামলাতেও তাঁকে গ্রেপ্তার দেখানো হয়। বর্তমানে তিনি সহ ২২ আসামি কারাগারে এবং শুভ কান্তি দাশ, সুকান্ত দত্ত, রিপন দাস, পপি দাস, সকু দাস, শিবা দাস, দ্বীপ দাসসহ ১৭ জন পলাতক রয়েছেন।

    চট্টগ্রাম জেলা আইনজীবী সমিতির সভাপতি আবদুস সাত্তার বলেন, “দেশব্যাপী আলোচিত একটি মামলার ১৭ আসামি এক বছরেও গ্রেপ্তার না হওয়া অত্যন্ত দুঃখজনক। আদালতপাড়ায় একজন আইনজীবী খুন হন, এটি বিচারব্যবস্থার জন্য বড় ধাক্কা। দ্রুত বিচার শুরুর মাধ্যমে আইনের প্রতি আস্থা ফিরিয়ে আনতে হবে।”

    এক বছর পার হলেও বিচার শুরু না হওয়ায় হতাশ নিহত আইনজীবীর বাবা জামাল উদ্দিন। তিনি সময়ের কন্ঠস্বর-কে বলেন, “আমার ছেলেকে আর ফিরে পাব না। কিন্তু যারা তাকে হত্যা করেছে, তাদের শাস্তি যেন দেখি। পলাতক আসামিদের দ্রুত গ্রেপ্তার করা হোক। মামলাটি দ্রুত বিচার ট্রাইব্যুনালে পাঠানোর অনুরোধ করছি।”

    এসএম

    সম্পর্কিত:

    সম্পর্কিত তথ্য খুঁজে পাওয়া যায়নি

    চলতি সপ্তাহে সর্বাধিক পঠিত

    সর্বশেষ প্রকাশিত

    Loading…