রাজধানীর কড়াইল বস্তিতে লাগা ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডে সব হারিয়ে হাজারো মানুষের জীবনে নেমে এসেছে চরম হাহাকার। আগুনের লেলিহান শিখা মুহূর্তেই শত শত ঘর পুড়িয়ে ছাই করে দিয়েছে। ধ্বংসস্তূপের পাশে দাঁড়িয়ে অসহায় মানুষের আর্তনাদ 'গায়ের কাপড় ছাড়া আর কিছুই অবশিষ্ট নাই, সবকিছু পুড়ে ছাই।' এমন দুর্বিষহ পরিস্থিতিতে ক্ষতিগ্রস্ত মানুষের পাশে দাঁড়িয়েছেন বিশিষ্ট ব্যবসায়ী ও সমাজসেবক মো. মেহেদী হাসান বিপ্লব।
মঙ্গলবার (২৫ নভেম্বর) সন্ধ্যায় হঠাৎ লেগে যাওয়া আগুন মুহূর্তে পুরো বস্তিজুড়ে ছড়িয়ে পড়ে। অধিকাংশ পরিবার ঘর থেকে কিছুই বের করতে পারেনি। শীতের এই সময়ে খোলা আকাশের নিচে আশ্রয় নেওয়া হাজারো মানুষ খাবার, পোশাক-সবকিছুর তীব্র সংকটে পড়েন। প্রায় দেড় হাজার ঘর পুড়ে যাওয়ায় ধ্বংসস্তূপের মধ্যে নিজের শেষ সম্বলটুকু দিনভর খুঁজে বেড়াচ্ছিলেন অসংখ্য মানুষ।
এই মানবিক সংকটের খবর পেয়ে সহায়তা নিয়ে এগিয়ে আসেন তরুণ ব্যবসায়ী মেহেদী হাসান বিপ্লব। তাঁর উদ্যোগে কড়াইল বস্তির ক্ষতিগ্রস্তদের মাঝে রান্না করা ভাত ও গরুর মাংসের প্যাকেট বিতরণ করা হয়। উদ্যোগটি সরাসরি তদারকি করেন মজার টিভির সিইও ও কনটেন্ট ক্রিয়েটর মাহসান স্বপ্ন।
জানা গেছে, রাজধানীর আগারগাঁও এলাকার জনপ্রিয় খাবারের দোকান ‘ভাইরাল মিজান’-এর এ দিনের সমস্ত রান্না করা খাবার কড়াইল বস্তির ক্ষতিগ্রস্তদের জন্য পাঠিয়ে দেওয়া হচ্ছে।
সরজমিনে বুধবার সন্ধ্যা ৬টার দিকে দেখা যায়, পিকআপ ভ্যানে খাবার পৌঁছানোর সঙ্গে সঙ্গে ছুটে আসছে মানুষ। যে-ই আসছেন, তাঁকে একটি করে খাবারের প্যাকেট দেওয়া হচ্ছে। এখন পর্যন্ত প্রায় ১২ শতাধিক মানুষকে খাবার বিতরণ করা হয়েছে।
জানতে চাইলে সময়ের কণ্ঠস্বরকে মেহেদী হাসান বিপ্লব জানান, 'আমার বাসায় চারজন কাজের বুয়া আছেন, তারা সবাই কড়াইল বস্তিতে থাকেন। সকালে তাদের দু’জন এসে হাউমাউ করে কান্না করতে লাগলেন। বললেন তাদের সবকিছু পুড়ে গেছে। তারা ছিল সম্পূর্ণ ক্ষুধার্ত। প্রথমে তাদের শান্ত করি, ঘরের খাবার দিয়ে খাওয়াই। পরে বাইরে থেকে তাদের পরিবারের জন্য কাপড়চোপড় কিনে আনি এবং তাৎক্ষণিক কিছু নগদ টাকা দেই।'
তিনি আরও বলেন, বুয়ারা জানালেন তাদের মতো অসংখ্য মানুষ না খেয়ে আছে। তখনই সিদ্ধান্ত নিলাম, সবাইকে কিছু না কিছু দিতে হবে। সঙ্গে সঙ্গে ভাইরাল মিজানের হোটেলে ফোন করে বললাম, 'আজ যত পারেন রান্না করেন; সব খাবার আমি কিনে নেব।'
এরপর হোটেলের সব রান্না করা খাবার কড়াইল বস্তিতে পাঠানো হয়। খাবার পৌঁছানোর পর চারপাশে মানুষের ভিড় দেখে তিনি আরও বেশি উপলব্ধি করেন বিপর্যয়ের গভীরতা।
মেহেদী হাসান বিপ্লব বলেন, 'মানুষগুলো অসহায়; কেউ সারা দিন কিছু খেতে পারেনি। এমন সময় পাশে দাঁড়ানোই মানবতার বড় পরিচয়। যতটুকু পারি, বস্তিবাসীর এই দুঃসময়ে পাশে থাকব।'
এসকে/আরআই