এইমাত্র
  • হাদি হত্যাচেষ্টা: মূল অভিযুক্ত ফয়সালের ঘনিষ্ঠ সহযোগী গ্রেপ্তার
  • চট্টগ্রামে ঝুটের গুদামে ভয়াবহ আগুন
  • আজ মহান বিজয় দিবস
  • বিএনপির ৪ নেতা সুখবর পেলেন
  • ভারত থেকে ৫০ হাজার টন চাল কিনবে সরকার
  • দেশের বাজারে আবার বাড়ল সোনার দাম
  • হাদিকে সিঙ্গাপুর জেনারেল হাসপাতালে ভর্তি
  • ইংল্যান্ড মাতাচ্ছেন আরেক বাংলাদেশি বংশোদ্ভুত ফুটবলার
  • জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ে ভিসি ভবনে তালা, শিক্ষকরা অবরুদ্ধ
  • ভোলায় বিএনপি-জামায়াতের মধ্যে দফায় দফায় সংঘর্ষ, আহত ২০
  • আজ মঙ্গলবার, ১ পৌষ, ১৪৩২ | ১৬ ডিসেম্বর, ২০২৫
    দেশজুড়ে

    আড়াই বছর ধরে প্রতিবন্ধী নারীর ভাতা প্রধান শিক্ষকের পকেটে

    আব্দুল মান্নান, নওগাঁ প্রতিনিধি প্রকাশ: ২৭ নভেম্বর ২০২৫, ০২:২৪ পিএম
    আব্দুল মান্নান, নওগাঁ প্রতিনিধি প্রকাশ: ২৭ নভেম্বর ২০২৫, ০২:২৪ পিএম

    আড়াই বছর ধরে প্রতিবন্ধী নারীর ভাতা প্রধান শিক্ষকের পকেটে

    আব্দুল মান্নান, নওগাঁ প্রতিনিধি প্রকাশ: ২৭ নভেম্বর ২০২৫, ০২:২৪ পিএম

    প্রায় আড়াই বছর ধরে এক অসহায় প্রতিবন্ধী নারীর ভাতার টাকা আত্মসাৎ করেছেন এলাকারই এক প্রধান শিক্ষক। যে শিক্ষক নৈতিকতা শেখাবেন, যিনি নতুন প্রজন্মের হাতে মানবতার আলো তুলে দেবেন,তার হাতেই জ্বলে উঠেছে অনিয়মের কালো দাগ।

    মানবিক সমাজে অমানবিকতার এমন নির্মম দৃষ্টান্ত খুব কমই দেখা যায়। বিষয়টি জানাজানির পর বদলগাছীর গ্রাম-মহল্লা থেকে চায়ের দোকান সবখানেই চলছে ক্ষোভের ঝড়।

    জানাগেছে, বদলগাছী উপজেলার পাহাড়পুর ইউনিয়নের পাঁচঘরিয়া গ্রামের প্রতিবন্ধী নারী মোসা. মুক্তা (৪০) প্রতিবন্ধী ভাতা পাওয়ার জন্য স্থানীয় মহিলা সদস্য তহমিনার কাছে প্রয়োজনীয় কাগজপত্র জমা দেন।

    মহিলা সদস্য তহমিনা ও তার স্বামী পাহাড়পুর ইউনিয়ন আওয়ামীলীগের সহ- সভাপতি মিজানুর রহমান ২০২৩ সালের ১ জুলাই তার নামে ভাতার কার্ড করে দেন ঠিকই, কিন্তু সেখানে ভাতাভোগীর মোবাইল নম্বর না দিয়ে তহমিনার স্বামী শেরপুর দ্বিমুখী উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক ও পাহাড়পুর ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সহ-সভাপতি মিজানুর রহমান তার নম্বর বসিয়ে দেন। এরপর থেকেই নিয়মিত ভাতা তুলছেন ওই প্রধান শিক্ষক।

    ভাতাবঞ্চিত মোসা. মুক্তাকে এ বিষয়ে কিছু জানানো হয়নি, টাকাও দেওয়া হয়নি। প্রায় আড়াই বছর ধরে প্রতিমাসেই টাকা তুলেছেন তিনি, অথচ প্রকৃত ভাতাভোগী রয়েছেন অন্ধকারে।

    হয়তো আরও কয়েক বছর এভাবেই চলত। কিন্তু চলতি নভেম্বরের মাঝামাঝি নতুন ভাতার আবেদন নিতে সমাজসেবা অফিস থেকে ঘোষণা দেওয়ার পর মোসা. মুক্তা অফিসে গিয়ে জানতে পারেন। তার নামে আড়াই বছর ধরে ভাতা দেওয়া হচ্ছে। এ কথা শুনে তার চোখে-মুখে নিস্তব্ধতা। ঘটনা জানাজানি হলে এলাকাজুড়ে শুরু হয় তীব্র সমালোচনা।

    মুক্তা বলেন “প্রায় আড়াই বছর আগে মেম্বার তহমিনা আমার কাগজপত্র নিয়েছিলো। বারবার জিজ্ঞেস করলে বলতো হয়ে যাবে। কিন্তু আমি কোনো টাকা পাইনি। সমাজসেবা অফিসে কয়েকদিন আগে গিয়ে শুনলাম, আমার নামে ভাতা তো হয়েছে অনেক আগে, মোবাইল নম্বরও আমার না মেম্বারের স্বামীর।”

    তিনি আরও জানান,“এলাকায় বিষয়টি জানাজানি হওয়ার পর মিজানুর মাস্টার আমাকে ১০ হাজার টাকা দিতে চেয়েছে। কয়েকদিন পর পাহাড়পুর ইউনিয়ন বিএনপির সভাপতি জিল্লুর মাস্টার ও মাসুদ মেম্বার আমার বাড়ি এসে ১০ হাজার টাকা দিয়েছেন। কিন্তু আড়াই বছরের টাকা তো প্রায় ৩০ হাজার টাকা হয়। আমার প্রতিবন্ধী ভাতার বাকী টাকা দিলো না কেন?

    স্থানীয় মুক্তিযোদ্ধা আফসার আলী ক্ষোভ নিয়ে বলেন, “এক প্রতিবন্ধী নারীর ভাতার টাকা আত্মসাৎ কোনো সাধারণ অন্যায় নয়। এটি তার বেঁচে থাকার আশাকে চুরি করা।”

    আরেক বাসিন্দা নুরুল হোসেন বলেন, “যে শিক্ষক তার ছাত্রদের মানুষের মতো মানুষ তৈরি করবেন, তিনিই যদি এমন করেন তাহলে সমাজ কোথায় যাবে।”

    এ বিষয়ে প্রধান শিক্ষক ও পাহাড়পুর ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সহ-সভাপতি মিজানুর রহমানকে মুঠোফোনে পাওয়া গেলেও তিনি শুধু বলেন“মুঠোফোনে কিছু বলা যাবে না, সাক্ষাতে কথা বলবো। তারপর সংযোগ বিচ্ছিন্ন করেন।

    অপরদিকে মহিলা সদস্য তহমিনা দাবি করেন, “ভুল করে এমনটি হয়েছে। এখন সংশোধন হয়েছে। তাছাড়া আমার স্বামী মুক্তার সঙ্গে বিষয়টি মিমাংসা করেছে।”

    উপজেলা সমাজসেবা অফিসার রাজিব আহমেদ বলেন,“এটি স্পষ্ট অনিয়ম। আমরা মোবাইল নম্বর সংশোধন করেছি। আবেদনকারীকে নিজের নগদ নম্বর ব্যবহারের পরামর্শ সবসময় দেই।”

    উপজেলা নির্বাহী অফিসার ইসরাত জাহান ছনি জানান,“এ বিষয়ে এখনো লিখিতভাবে কোন অভিযোগ পাই নি। আপনার কাছ থেকে প্রথম শুনলাম। যদি সত্য হয় তাদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”

    এলাকাবাসী মনে করছেন একজন শিক্ষক আড়াই বছর ধরে ভাতা তুলে থাকলে, এমন ঘটনা আরও থাকতে পারে। তদন্ত শুরু হলে চাঞ্চল্যকর তথ্য বেরিয়ে আসতে পারে। তাই দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানাচ্ছেন তারা।

    এসআর

    সম্পর্কিত:

    সম্পর্কিত তথ্য খুঁজে পাওয়া যায়নি

    Loading…