প্রশাসনের আশ্বাসের পরও গাজীপুরে থেমে নেই চোরাই জ্বালানি তেলের কারবার। অভিযোগ রয়েছে প্রশাসনের যোগসাজশেই দীর্ঘদিন ধরে এ কারবার চালাচ্ছেন রোমান নামের এক লোক। রাত-দিন ২৪ ঘণ্টাই বালুর গদির আড়ালে এ কারবার চলে রোমানের। যদিও পুলিশ প্রশাসন বিষয়টিকে গুরুত্ব দিয়ে ব্যবস্থা গ্রহণের আশ্বাস দিচ্ছে বার বার। তারপরও মিলছে না কাঙ্ক্ষিত ফল।
বিষয়টি নিয়ে চলতি মাসের ১৭ নভেম্বর সময়ের কণ্ঠস্বরে একটি সংবাদ প্রকাশ করা হয়। “প্রশাসনকে ‘ম্যানেজ’ করে রমরমা চোরাই তেল কারবার, নাশকতার শঙ্কা” এ শিরোনামে প্রকাশিত সংবাদে গাজীপুর মেট্রোপলিটন পুলিশের (জিএমপি) উপ-কমিশনার (ক্রাইম উত্তর) মো. রবিউল হাসান গণমাধ্যমকর্মীদের কাছে চোরাই তেলের দোকানের তথ্য দিয়ে সহযোগিতার কথা জানান। এ বিষয়ে তাৎক্ষণিক আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের কথাও তিনি বলেন। কিন্তু বাস্তবে সে আশ্বাসের ছিটেফোঁটাও নেই। রোমান তার কারবার জারি রেখেছেন এখনও।
নাম প্রকাশ না করার শর্তে চোরাই জ্বালানি তেলের কারবারি রোমানের একজন ঘনিষ্ঠ লোক বলেন, ‘যতই নিউজ হোক রোমানের দোকান বন্ধ হইবো না, তার উপরের লেভেলের লোক আছে।’ আরও বলেন, ‘তার সঙ্গে সবারই সম্পর্ক ভালো। সে সবকিছু ম্যানেজ করে চলে।’
সরেজমিনে দেখা গেছে, ঢাকা- টাঙ্গাইল মহাসড়কের কোনাবাড়ি বাইমাইল এলাকায় বালুর গদির আড়ালে অবস্থিত রোমানের দোকান থেকে প্রতিদিন সকাল থেকে গভীর রাত পর্যন্ত ট্রাক, কাভার্ড ভ্যান ও পণ্যবাহী যানবাহনের চালকরা পাইপের মাধ্যমে সরাসরি গাড়ির ট্যাংক থেকে ডিজেল, অকটেন ও পেট্রোল নামিয়ে নিচ্ছেন। দেশের বর্তমান পরিস্থিতিতে জ্বালানি তেলের পাম্পগুলো সরাসরি বোতল বা খোলামেলা জ্বালানি তেল বিক্রি না করায়, দুষ্কৃতকারীরা এই অবৈধ উৎস থেকে তেল সংগ্রহ করে নাশকতাসহ অবৈধ কাজে ব্যবহার করছে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।
ঢাকা- টাঙ্গাইল মহাসড়কের পাশে গড়ে ওঠা এসব দোকানের নেই কোনো সাইনবোর্ড, নেই বিস্ফোরক অধিদপ্তরের অনুমোদন বা বৈধ লাইসেন্স। স্থানীয়দের দাবি, একটি সংঘবদ্ধ সিন্ডিকেট ব্যাবসাটি নিয়ন্ত্রণ করে। পুলিশকে মাসোহারা দেওয়ার পাশাপাশি কিছু সাংবাদিক, রাজনৈতিক দলের নেতা ও মানবাধিকার কর্মীকেও অর্থ দিয়ে ম্যানেজ করা হয় বলে অভিযোগ রয়েছে।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একজন বলেন, ‘চোর হলো গাড়ির ড্রাইভাররা, আমরা তো কম দামে কিনে ন্যায্য দামে বিক্রি করি। পুলিশ থেকে সাংবাদিক সবাইকে ম্যানেজ করেই ব্যাবসা করতে হয়।’
তিনি আরও বলেন, ‘দোকান খোলা রাখতে থানা পুলিশকে মাসিক নির্দিষ্ট হারে টাকা দিতে হয়। প্রতিদিন টহল পুলিশের জন্যও ১০০ টাকা দিতে হয়, না দিলে ঝামেলায় পড়তে হয়।’
স্থানীয়দের আশঙ্কা, অনুমোদনবিহীনভাবে তেল মজুত ও বিক্রি হওয়ায় যে কোনো সময় বড় ধরনের অগ্নিকাণ্ড বা দুর্ঘটনা ঘটতে পারে। তারা অবিলম্বে এসব অবৈধ ব্যাবসা বন্ধে প্রশাসনের কার্যকর পদক্ষেপ দাবি করেছেন।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক স্থানীয় একজন ব্যবসায়ী বলেন, ‘রাতের বেলায় পুলিশের গাড়ির এদিকে-ওদিকে ঘোরাঘুরি করে টহল দেয়, তাও তাদের কিছু বলে না, আমরা কিছুই বুঝলাম না, আমরা হতাশ!’
গাজীপুর মেট্রোপলিটন পুলিশের (জিএমপি) কোনাবাড়ি থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. সালাহ উদ্দিন আহাম্মেদ বলেন, ‘কেউ যদি দোকান খোলা রাখে বা নাম ভাঙিয়ে টাকা নেয়, সে বিষয়ে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’
এ বিষয়ে গাজীপুর মেট্রোপলিটন পুলিশের (জিএমপি) কমিশনার ইসরায়েল হাওলাদার বলেন, ‘তাদের বিরুদ্ধে খোঁজখবর নিয়ে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’
এসআর