যুক্তরাষ্ট্রের মিনিয়াপোলিস শহরে বড় পরিসরে অভিবাসবিরোধী অভিযানের প্রতিবাদে আন্দোলন চলাকালে গুলি করে এক নারীকে হত্যা করেছে ইমিগ্রেশন অ্যান্ড কাস্টমস এনফোর্সমেন্টের (আইসিই) এক কর্মকর্তা। হোমল্যান্ড সিকিউরিটি অবশ্য দাবি করেছে, আইসিই কর্মকর্তা আত্মরক্ষার্থে গুলি ছুড়েছেন। খবর আল জাজিরার।
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া ঘটনার একটি ভিডিও ক্লিপে দেখা যায়, একটি গাঢ় রঙের এসইউভি গাড়ি সড়কে যান চলাচল আটকে দাঁড়িয়েছিল। এসময় আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যরা গাড়িটি ঘিরে ফেলেন। এরপর গাড়িটি অল্প সময়ের জন্য পেছনে সরে যায় এবং আবার সামনে এগোতে শুরু করলে এক কর্মকর্তা গুলি চালান।
হোমল্যান্ড সিকিউরিটি বিভাগের (ডিএইচএস) মুখপাত্র ট্রিসিয়া ম্যাকলাফলিন নিহত নারীকে ‘অভিযুক্ত’ করে বলেন, সে নিজের গাড়িটিকে অস্ত্রে পরিণত করেছিল।
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে দেয়া এক পোস্টে ম্যাকলাফলিন লিখেছেন, ‘একজন আইসিই কর্মকর্তা নিজের জীবন, সহকর্মীদের জীবন এবং জনসাধারণের নিরাপত্তা শঙ্কা থেকে আত্মরক্ষামূলক গুলি চালান।’
তবে শহরের মেয়র জ্যাকব ফ্রে এই বর্ণনার তীব্র বিরোধিতা করেন। তিনি বলেন, আইসিই কর্মকর্তা ‘বেপরোয়াভাবে’ ওই নারীকে গুলি করেছেন। অভিবাসনবিরোধী এজন্সির কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধে শহরে ‘বিশৃঙ্খলা সৃষ্টির’ অভিযোগ করছেন মেয়র।
এক সংবাদ সম্মেলনে ফ্রে বলেন, ‘তারা পরিবারগুলোকে ছিন্নভিন্ন করে দিচ্ছে। তারা আমাদের রাস্তায় বিশৃঙ্খলা ছড়াচ্ছে এবং আক্ষরিক অর্থেই মানুষ হত্যা করছে।’
তিনি আরও বলেন, ‘তারা ইতোমধ্যে এটিকে আত্মরক্ষার ঘটনা হিসেবে উপস্থাপন করার চেষ্টা করছে। আমি নিজে ভিডিওটি দেখেছি এবং সবাইকে সরাসরি বলতে চাই—এটা সম্পূর্ণ বাজে কথা।’
এক পৃথক সংবাদ সম্মেলনে মিনেসোটা অঙ্গরাজ্যের গভর্নর টিম ওয়ালজও ঘটনাটির নিন্দা জানিয়ে বলেছেন, এই হত্যাকাণ্ড ‘সম্পূর্ণরূপে এড়ানো সম্ভব ছিল’।
এবি