এইমাত্র
  • দেশ ছেড়েছেন প্রধান উপদেষ্টার বিশেষ সহকারী
  • বঙ্গভবন নয়, এবার জাতীয় সংসদের দক্ষিণ প্লাজায় হবে মন্ত্রিসভার শপথ
  • ১৭ ফেব্রুয়ারি সকালে এমপি, বিকেলে মন্ত্রিসভার শপথ
  • মন্ত্রিপরিষদ সচিব হলেন এম সিরাজ উদ্দিন মিয়া
  • ফলাফল বাতিল ও পুনর্নির্বাচন চান বিএনপি সমর্থিত ট্রাক প্রতীকের প্রার্থী
  • মার্চেই শুরু হচ্ছে ইয়ুথ ক্রিকেট লিগ
  • সাইবেরিয়ায় তেলের বড় খনির সন্ধান পেয়েছে রাশিয়া
  • ভবিষ্যতের প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান: মির্জা ফখরুল
  • তারেক রহমানের শপথে শেহবাজ শরিফকে আমন্ত্রণের পরিকল্পনা
  • ডা. শফিকুর রহমান ও নাহিদ ইসলামের বাসায় যাবেন তারেক রহমান
  • আজ রবিবার, ১ ফাল্গুন, ১৪৩২ | ১৫ ফেব্রুয়ারি, ২০২৬
    দেশজুড়ে

    মাতামুহুরীর চরে তরমুজ চাষে নতুন সম্ভাবনা

    মোহাম্মদ রিদুয়ান হাফিজ, চকরিয়া (কক্সবাজার) প্রতিনিধি প্রকাশ: ২৮ জানুয়ারি ২০২৬, ১১:৫২ এএম
    মোহাম্মদ রিদুয়ান হাফিজ, চকরিয়া (কক্সবাজার) প্রতিনিধি প্রকাশ: ২৮ জানুয়ারি ২০২৬, ১১:৫২ এএম

    মাতামুহুরীর চরে তরমুজ চাষে নতুন সম্ভাবনা

    মোহাম্মদ রিদুয়ান হাফিজ, চকরিয়া (কক্সবাজার) প্রতিনিধি প্রকাশ: ২৮ জানুয়ারি ২০২৬, ১১:৫২ এএম

    পার্বত্য জেলা আলীকদম থেকে উৎপন্ন হয়ে চকরিয়ার ওপর দিয়ে বঙ্গোপসাগরে গিয়ে মিশেছে মাতামুহুরী নদী। ঋতুভেদে এই নদীর রূপ বদলায়। বর্ষা মৌসুমে পাহাড়ি ঢলে সৃষ্ট স্রোতের কাছে অনেক সময় অসহায় হয়ে পড়ে নদীপাড়ের মানুষ। আবার শুষ্ক মৌসুমে সেই মাতামুহুরীই হয়ে ওঠে জীবিকা ও কৃষির ভরসা।


    বর্ষায় পাহাড়ি ঢলের সঙ্গে ভেসে আসা পলিমাটি চকরিয়া উপজেলার বিস্তীর্ণ কৃষিজমিতে জমে জমির উর্বরতা বহুগুণ বাড়িয়ে দেয়। ফলে একই জমিতে বছরে দুই থেকে তিন ফসল ফলিয়ে কৃষকেরা পাচ্ছেন রীতিমতো চমকপ্রদ ফলন। সবজি থেকে ধান—সব ক্ষেত্রেই উৎপাদন হচ্ছে আশাব্যঞ্জক।


    চকরিয়া উপজেলা কৃষি অফিসের মাঠপর্যায়ের কর্মকর্তারা জানান, প্রতিবছর উপজেলায় রেকর্ড পরিমাণ খাদ্যশস্য উৎপাদনের পেছনে বড় ভূমিকা রাখছে মাতামুহুরী নদী। এই নদীর মিঠাপানির সেচ সুবিধা কাজে লাগিয়ে কৃষকেরা দীর্ঘদিন ধরে নানা ফসল চাষ করে আসছেন।


    একসময় চকরিয়া উপজেলায় তরমুজ চাষ ছিল পরিচিত দৃশ্য। তবে আবহাওয়ার বৈরী আচরণ ও ভেজাল বীজের কারণে অনিশ্চিত ফলনে দীর্ঘদিন ধরে এ জনপদে তরমুজ চাষ প্রায় বন্ধ হয়ে যায়। এতে আগ্রহ হারান অনেক কৃষক।


    তবে নতুন করে আশার আলো দেখাচ্ছে কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের বীজ গবেষণা ইনস্টিটিউট কর্তৃক উন্নতমানের স্বীকৃত হাইব্রিড জাতের তরমুজ ‘এশিয়া প্লাস’। প্রতিকূল আবহাওয়াতেও ভালো ফলন পাওয়ায় কৃষকেরা আবার তরমুজ চাষে ফিরছেন।


    চকরিয়া উপজেলার কাকারা ইউনিয়নের কামালউদ্দিন মাস্টারঘাটা এলাকায় মাতামুহুরী নদীসংলগ্ন উর্বর জমিতে চলতি মৌসুমে এশিয়া প্লাস জাতের তরমুজ চাষ করেছেন কৃষক নুরুল কবির। তিনি বলেন, ‘ছয় কানি জমিতে নভেম্বরের শুরুতে চারা রোপণ করেছি। জমি প্রস্তুত, সেচ ও শ্রমিক মজুরি মিলিয়ে প্রায় এক লাখ টাকা খরচ হয়েছে। মৌসুম শেষে পাঁচ থেকে ছয় লাখ টাকার তরমুজ বিক্রির আশা করছি।’


    পাশের পাহাড়ি জনপদ লামার ইয়াংছা এলাকায় একই জাতের তরমুজ চাষ করেছেন আবদুস সালাম মেম্বার। তিনি জানান, দুই কানি জমিতে নভেম্বর মাসে চারা রোপণ করেছেন। তিন মাসের মধ্যেই প্রতিটি গাছে ভালো ফলন এসেছে।


    নাইক্ষ্যংছড়ির কুতুপালং এলাকার কৃষক মাহাবুব আলম বলেন, ‘অক্টোবরের শুরুতে তিন কানি জমিতে ১ হাজার ৭৫০টি চারা রোপণ করেছি। এখন পর্যন্ত প্রায় ৮০ হাজার টাকা খরচ হয়েছে। মৌসুম শেষে খরচ হবে আনুমানিক এক লাখ ২০ হাজার টাকা। তরমুজ বিক্রি করে সাড়ে তিন লাখ টাকার বেশি আয় হবে বলে আশা করছি।’


    চকরিয়া উপজেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপসহকারী কৃষি কর্মকর্তা মো. আরিফুল ইসলাম জানান, চলতি মৌসুমে উপজেলার বিভিন্ন এলাকায় প্রায় সাড়ে সাত হেক্টর (১৯ একর) জমিতে তরমুজ চাষ হয়েছে। মাঠপর্যায়ের কর্মকর্তারা নিয়মিত ক্ষেত তদারকি করছেন।


    বীজ বাজারজাতকারী প্রতিষ্ঠান শহীদ এগ্রোসীড ফার্মের চকরিয়া উপজেলা ব্যবস্থাপক মেহেদী হাসান বলেন, ‘এশিয়া প্লাস জাতের তরমুজ চাষ করে কৃষকেরা ভালো ফলন পাচ্ছেন। এতে অন্য কৃষকরাও আগ্রহী হয়ে উঠছেন।’


    প্রতিষ্ঠানটির ব্যবস্থাপনা পরিচালক মো. শহিদুল ইসলাম বলেন, ‘এশিয়া প্লাস রোগসহনশীল, আবহাওয়াসহিষ্ণু এবং ৬৫ দিনের মধ্যে ফলন দেয়। আকারে বড় ও স্বাদে মিষ্টি হওয়ায় বাজারে এর চাহিদাও বেশি।’


    চকরিয়া উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা শাহনাজ ফেরদৌসী বলেন, ‘কৃষি বিভাগের নিয়মিত পরামর্শ ও তদারকির কারণে তরমুজ চাষে ভালো ফলন এসেছে। আগামীতে এ উপজেলায় তরমুজ চাষের পরিধি আরও বাড়বে বলে আমরা আশাবাদী।’

    ইখা

    সম্পর্কিত:

    সম্পর্কিত তথ্য খুঁজে পাওয়া যায়নি

    Loading…