ভাতা দিয়ে মানুষকে পরনির্ভরশীল না করে কর্মসংস্থান ও উদ্যোক্তা সৃষ্টির মাধ্যমে আত্মনির্ভরশীল করে গড়ে তোলাই ১১ দলীয় ঐক্য জোটের মূল লক্ষ্য বলে জানিয়েছেন জাতীয় নাগরিক পার্টির মুখপাত্র আসিফ মাহমুদ সজিব ভূঁইয়া। তিনি বলেন, বিএনপি বিভিন্ন জায়গায় ভুয়া ফ্যামিলি কার্ডের কথা বলে ভাতার প্রলোভন দেখিয়ে দেশের প্রান্তিক মানুষকে বিভ্রান্ত করার চেষ্টা করছে। অথচ একজন মানুষকে আজীবন কিছু টাকা দিয়ে নির্ভরশীল করে রাখার চেয়ে তাকে কাজের সুযোগ সৃষ্টি করে নিজের পায়ে দাঁড় করানোই প্রকৃত উন্নয়ন।
মঙ্গলবার (২৭ জানুয়ারি রাত সোয়া ৯টার দিকে কুমিল্লা নগরের টাউন হল মাঠে ১১ দলীয় ঐক্য জোটের নির্বাচনী পদযাত্রা উপলক্ষে আয়োজিত সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। এনসিপির নির্বাচন পরিচালনা কমিটির চেয়ারম্যান হিসেবে সভায় বক্তব্য দেন আসিফ মাহমুদ সজিব ভূঁইয়া।
তিনি বলেন, নারীদের প্রতি সহিংসতা কোনোভাবেই মেনে নেওয়া হবে না। যদি নারীদের জন্য নিরাপদ পরিবেশ নিশ্চিত করা না যায় কিংবা কোনো দল পরিকল্পিতভাবে নারীদের টার্গেট করে, তাহলে তাদেরকে সকল পর্যায়ে প্রতিহত করা হবে। অতীতে বিভিন্ন শাসনামলে অনেক অন্যায় ঘটলেও নানা বাস্তবতার কারণে বিরোধী দলগুলো কথা বলতে পারেনি। কিন্তু এখন আর সেই সময় নেই। বাংলাদেশের জনগণ জবাব দিতে শিখেছে এবং নিজেদের অধিকার আদায় করে নেবে। সেই সংগ্রামে নেতৃত্ব দেবে ১১ দলীয় ঐক্য জোটের নেতাকর্মীরা।
নিজের অভিজ্ঞতার কথা তুলে ধরে তিনি বলেন, তিনি যখন স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয়ের দায়িত্বে ছিলেন তখন কুমিল্লা সিটি কর্পোরেশনের নগর ভবন নির্মাণের জন্য ১২৫ কোটি টাকার একটি বরাদ্দ দেওয়া হয়েছিল। কিন্তু সেই প্রকল্প বাস্তবায়নে বাধা সৃষ্টি করেন যিনি বর্তমানে ধানের শীষের মনোনয়ন পেয়েছেন। তিনি তখনকার সিটি কর্পোরেশনের প্রশাসকের ওপর চাপ দেন নগর ভবন তার বাড়ির সামনে নির্মাণ করার জন্য। অথচ নগর ভবন এমন জায়গায় হওয়া উচিত যেখানে পুরো নগরীর মানুষ সহজে সেবা নিতে পারে। ব্যক্তিস্বার্থের কারণে সেই প্রকল্প আটকে যাওয়ায় আজও নগর ভবনের নির্মাণ কাজ শুরু হয়নি। তিনি প্রশ্ন রাখেন, এমন কাউকে কি কুমিল্লার মানুষ নির্বাচিত করতে চায়, যিনি বরাদ্দ পাওয়া উন্নয়ন প্রকল্প বাস্তবায়নে বাধা সৃষ্টি করেন।
আসিফ মাহমুদ বলেন, ১১ দলীয় ঐক্যের পক্ষ থেকে কুমিল্লা ৬ আসনে কাজী দ্বীন মোহাম্মদকে জনগণের কাছে আমানত হিসেবে উপস্থাপন করা হয়েছে। তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করেন, কুমিল্লার মানুষ তাকে বিপুল ভোটে নির্বাচিত করবেন।
তিনি আরও বলেন, যদি কুমিল্লা ৬ আসনসহ সারা দেশে ১১ দলীয় ঐক্য জোট নির্বাচিত হয়ে সরকার গঠন করতে পারে, তাহলে প্রথম এক মাসের মধ্যেই কুমিল্লা বিভাগ বাস্তবায়ন করা হবে। অতীতে কুমিল্লাকে যেভাবে বঞ্চিত করা হয়েছে, সেই বঞ্চনার অবসান ঘটানো হবে। অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের আমলে নেওয়া প্রকল্পগুলোর বাস্তবায়নের পাশাপাশি নতুন নতুন উন্নয়ন প্রকল্প হাতে নেওয়া হবে।
তরুণদের প্রসঙ্গে তিনি বলেন, জুলাই গণঅভ্যুত্থানে স্কুল কলেজ বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র তরুণদের সক্রিয় অংশগ্রহণ দেশ দেখেছে। অথচ অনেক রাজনৈতিক দল তরুণদের নীতিনির্ধারণ বা রাষ্ট্র গঠনের অংশ হিসেবে গুরুত্ব দেয় না। ১১ দলীয় ঐক্য জোট নির্বাচিত হলে ১৬ বছর বয়স থেকে তরুণদের ভোটাধিকার নিশ্চিত করা হবে। তরুণদের রাষ্ট্র বিনির্মাণে সক্রিয় অংশগ্রহণ নিশ্চিত করার পাশাপাশি তাদের জন্য কর্মসংস্থান সৃষ্টি করা হবে। তরুণদের ভাতা দিয়ে পরনির্ভরশীল না করে সরকারি সহায়তার মাধ্যমে আত্মনির্ভরশীল করে গড়ে তোলাই এই জোটের লক্ষ্য বলে তিনি জানান।
সভায় বক্তব্য রাখেন কুমিল্লা ৬ আসনে জামায়াতে ইসলামীর প্রার্থী কাজী দ্বীন মোহাম্মদ, কুমিল্লা ৮ আসনের প্রার্থী শফিকুল আলম হেলাল, এনসিপির নির্বাচন পরিচালনা কমিটির সেক্রেটারি মনিরা শারমিন, মুখ্য সমন্বয়ক তরিকুল ইসলাম, যুগ্ম সদস্য সচিব আকরাম হোসেন, কেন্দ্রীয় যুগ্ম মুখ্য সমন্বয়ক নাভিদ নওরোজ শাহ এবং কুমিল্লা মহানগর জামায়াতে ইসলামীর সেক্রেটারি মাহবুবুর রহমানসহ অন্যান্য নেতৃবৃন্দ।
এসআর