চট্টগ্রামের বাঁশখালীতে পুলিশ হেফাজত থেকে হাতকড়াসহ পালিয়ে যাওয়া আওয়ামী লীগ নেতা জিয়াউল হক চৌধুরীকে (৪৫) ঘটনার ২২ দিন পার হলেও গ্রেপ্তার করতে পারেনি পুলিশ। এ ছাড়া পুলিশের কাছ থেকে আসামিকে ছিনিয়ে নেওয়ার ঘটনায় সরকারি কাজে বাধা দেওয়ার অভিযোগে এখনো কোনো মামলা হয়নি।
গত ৫ জানুয়ারি বিকেলে বাঁশখালী উপজেলার খানখানাবাদ ইউনিয়নের কদমরসুল এলাকার বটতলী বাজারে এ ঘটনা ঘটে। জিয়াউল হক চৌধুরী খানখানাবাদ ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সহসভাপতি এবং বাঁশখালী উপজেলা ছাত্রলীগের সাবেক যুগ্ম আহ্বায়ক।
সরেজমিনে ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, ৫ আগস্টের রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর জিয়াউলের বিরুদ্ধে নাশকতার মামলা হয়। এর পর ৫ জানুয়ারি বিকেলে গোপন সংবাদের ভিত্তিতে বাহারছড়া পুলিশ ফাঁড়ির ইনচার্জ মজনু মিয়ার নেতৃত্বে পুলিশের একটি দল বটতলী বাজারে অভিযান চালায়। এ সময় একটি চায়ের দোকান থেকে জিয়াউলকে গ্রেপ্তার করে হাতকড়া পরানো হয়। তবে পুলিশের গাড়িতে তোলার সময় তাঁর অনুসারীরা জড়ো হয়ে হট্টগোল সৃষ্টি করে এবং পুলিশের ওপর চড়াও হয়ে তাঁকে ছিনিয়ে নিয়ে যায়।
ঘটনার পর ২২ দিন পেরিয়ে গেলেও আসামিকে গ্রেপ্তার করতে না পারা এবং ছিনিয়ে নেওয়ার ঘটনায় জড়িতদের বিরুদ্ধে কোনো ব্যবস্থা না নেওয়ায় স্থানীয়দের মধ্যে উদ্বেগ ও ক্ষোভ দেখা দিয়েছে। পুলিশের ভূমিকা নিয়েও জনমনে প্রশ্ন উঠেছে।
রাষ্ট্রীয় কাজে বাধা দেওয়া এবং আসামি ছিনতাইয়ের মতো গুরুতর অপরাধে অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে মামলা হয়েছে কি না—এমন প্রশ্নের জবাবে বাঁশখালী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. সাইফুল্লাহ খালেদ বলেন, ‘যারা জিয়াউলকে ছিনিয়ে নিয়ে গেছে, তারা সবাই নারী। এখন তাদের কীভাবে গ্রেপ্তার করব? এ ঘটনায় কোনো মামলা হয়নি। কাউকেও স্পষ্টভাবে শনাক্ত করা যায়নি।’
তবে ঘটনার দিন ওসি সাইফুল্লাহ খালেদ জানিয়েছিলেন, পলাতক আসামিকে পুনরায় গ্রেপ্তারে অভিযান চলছে এবং যারা পুলিশের কাজে বাধা দিয়েছে, তাদের শনাক্ত করে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে। কিন্তু দীর্ঘ ২২ দিনেও সেই ঘোষণার কোনো বাস্তব প্রতিফলন দেখা যায়নি।
পলাতক জিয়াউল হক চৌধুরী খানখানাবাদ ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনে দুবার চেয়ারম্যান পদে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেছিলেন। আওয়ামী লীগ সরকার আমলে তিনি এলাকায় বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব পালন করেন। বর্তমানে তিনি পলাতক থাকলেও তাঁকে গ্রেপ্তারে পুলিশের কোনো দৃশ্যমান তৎপরতা নেই বলে অভিযোগ স্থানীয়দের।
ইখা