যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে যখন উত্তেজনা চরমে, ঠিক তখনই সমুদ্রের নিচে গড়ে তোলা ক্ষেপণাস্ত্র টানেলের বিশাল নেটওয়ার্ক প্রকাশ করেছে ইরান। এখানে শত শত দীর্ঘপাল্লার ক্রুজ ক্ষেপণাস্ত্র রাখা হয়েছে বলে দাবি করা হচ্ছে। একইসঙ্গে তেহরান সতর্ক করেছে, দেশটির ওপর হামলা হলে হরমুজ প্রণালী দিয়ে জাহাজ চলাচল আর নিরাপদ থাকবে না। যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে ক্রমবর্ধমান উত্তেজনার মধ্যেই তেহরানের পক্ষ থেকে এই ঘোষণা সামনে এলো। খবর নিউ আরব
ইরানের রাষ্ট্রীয় টেলিভিশনে প্রচারিত ভিডিওতে দেখা যায়, ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কর্পস (আইআরজিসি) নৌবাহিনীর প্রধান আলিরেজা তানগসিরি সমুদ্রের নিচে নির্মিত বিশাল ক্ষেপণাস্ত্র ঘাঁটির ভেতরে দাঁড়িয়ে আছেন। সেখানে সারিবদ্ধভাবে রাখা রয়েছে উৎক্ষেপণের জন্য প্রস্তুত ক্ষেপণাস্ত্র।
তানগসিরি বলেন, পারস্য উপসাগর ও ওমান সাগরে টহলরত মার্কিন নৌযান মোকাবিলার জন্য আইআরজিসি নৌবাহিনী সমুদ্রের নিচে একটি বিস্তৃত ক্ষেপণাস্ত্র টানেল নেটওয়ার্ক গড়ে তুলেছে। এসব টানেলে এক হাজার কিলোমিটারের বেশি পাল্লার শত শত ক্রুজ ক্ষেপণাস্ত্র রয়েছে বলে তিনি জানান
তিনি আরও বলেন, আইআরজিসি নৌবাহিনী নির্মিত ‘কাদের ৩৮০ এল’ ক্ষেপণাস্ত্রের পাল্লা এক হাজার কিলোমিটারের বেশি এবং এতে রয়েছে স্মার্ট গাইডেন্স সিস্টেম, যা লক্ষ্যবস্তুতে আঘাত করা পর্যন্ত সেটিকে অনুসরণ করতে পারে।
তানগসিরি বলেন, ‘আমাদের সক্ষমতা প্রতিনিয়ত বাড়ছে’। তিনি জোর দিয়ে বলেন, ইরানি বাহিনী যেকোনও মাত্রার ও যেকোনও অঞ্চলের হুমকি মোকাবিলায় সম্পূর্ণ প্রস্তুত।
ইরানের নিয়ন্ত্রণে হরমুজ প্রণালী
এই টানেল উন্মোচনের সময়ই ইরানের নৌবাহিনী হুমকি দিয়েছে, হরমুজ প্রণালী দিয়ে জাহাজ চলাচল ব্যাহত করা হতে পারে। বিশ্বের দৈনিক তেল পরিবহনের প্রায় এক-পঞ্চমাংশ এই গুরুত্বপূর্ণ প্রণালী দিয়েই যায়। আইআরজিসি নৌবাহিনীর রাজনৈতিক উপপ্রধান মোহাম্মদ আকবরজাদেহ বলেন, আকাশ, পানিপথ ও সমুদ্রের নিচ— সব ক্ষেত্রেই হরমুজ প্রণালীর ওপর ইরানের ‘সম্পূর্ণ আধিপত্য’ রয়েছে।
ফার্স নিউজ এজেন্সিকে দেয়া সাক্ষাৎকারে তিনি বলেন, হরমুজ প্রণালীর আকাশ, পানি ও সমুদ্রতলের পরিস্থিতি সম্পর্কে ইরান রিয়েল-টাইম গোয়েন্দা তথ্য পাচ্ছে এবং এর নিরাপত্তা পুরোপুরি তেহরানের সিদ্ধান্তের ওপর নির্ভর করে।
হরমুজ প্রণালী দিয়ে প্রতিদিন ২ কোটি ১০ লাখের বেশি ব্যারেল তেল পরিবহন হয়, যা বৈশ্বিক তেল পরিবহনের প্রায় ৩৭ শতাংশ।
আকবরজাদেহ বলেন, আধুনিক প্রযুক্তি ব্যবহার করে ইরান বিভিন্ন পতাকাবাহী জাহাজের গতিবিধি নজরে রাখতে সক্ষম। তিনি জানান, ইরান যুদ্ধ চায় না, তবে যুদ্ধ চাপিয়ে দিলে আগের যেকোনও সময়ের চেয়ে কঠোর জবাব দেয়া হবে।
তিনি আরও বলেন, বিশেষ করে আকাশ প্রতিরক্ষায় ইরানের প্রস্তুতি ‘খুবই উচ্চ পর্যায়ের’। পাশাপাশি তিনি সতর্ক করেন, প্রতিবেশী দেশগুলোকে ইরান বন্ধুভাবাপন্ন মনে করে, কিন্তু যদি তাদের আকাশসীমা, স্থলভাগ বা জলসীমা ইরানের বিরুদ্ধে ব্যবহৃত হয়, তবে তাদের শত্রু হিসেবে বিবেচনা করা হবে।
এদিকে আইআরজিসি-ঘনিষ্ঠ ইরানি গণমাধ্যমগুলো মার্কিন বিমানবাহী রণতরী ইউএসএস আব্রাহাম লিংকনসহ অন্যান্য মার্কিন নৌযানের ফুটেজ প্রকাশ করেছে। সেখানে শিরোনাম দেয়া হয়েছে— ‘আব্রাহাম লিংকনের জন্য তাৎক্ষণিক বার্তা’। প্রতিবেদনে ২০১৬ সালে ইরানের জলসীমায় প্রবেশের পর ১০ মার্কিন নাবিক আটক করার ঘটনার কথাও স্মরণ করানো হয় এবং রণতরী লক্ষ্য করে আঘাতের সিমুলেশন দেখানো হয়।
আকবরজাদেহ জানান, ইরানের সতর্কবার্তায় আঞ্চলিক দেশগুলোর প্রতিক্রিয়া ইতিবাচক ছিল এবং উপযুক্ত সময় এলে তেহরান আরও সক্ষমতা প্রকাশ করবে।
এবি