চট্টগ্রামের আনোয়ারায় খাল পুনঃখননের নামে নির্বিচারে গাছ কাটার অভিযোগ উঠেছে বাংলাদেশ কৃষি উন্নয়ন করপোরেশনের (বিএডিসি) বিরুদ্ধে। ইতোমধ্যে বিভিন্ন প্রজাতির এক হাজারের বেশি গাছ কেটে ফেলা হয়েছে। খাল খননের কাজ শেষ হতে আরও প্রায় দুই হাজার গাছ কাটা পড়তে পারে বলে আশঙ্কা করছেন স্থানীয় বাসিন্দারা। এতে পরিবেশ ও জীববৈচিত্র্যের মারাত্মক ক্ষতির আশঙ্কা করছেন পরিবেশবিদরা।
চট্টগ্রাম ও কক্সবাজার অঞ্চলে ভূ-উপরিস্থ পানির মাধ্যমে সেচ সুবিধা উন্নয়ন প্রকল্পের আওতায় এসব খাল পুনঃখনন করছে বিএডিসি।
বুধবার (২৮ জানুয়ারি) সরেজমিনে দেখা যায়, আনোয়ারা উপজেলার বটতলী ইউনিয়নের বরৈয়া খালে পুনঃখননের কাজে নিয়োজিত ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান এক্সকাভেটর মেশিন চলাচলের সুবিধার্থে খালের দুই পাশের প্রায় এক হাজার গাছ উপড়ে ফেলেছে। কাটা গাছগুলোর অনেকটাই মালিকেরা নিজ খরচে গাড়িতে করে নিয়ে যাচ্ছেন, কেউ কেউ করাতকলে বিক্রি করে দিচ্ছেন।
উপজেলা বিএডিসি সূত্রে জানা গেছে, আনোয়ারার বুক চিরে প্রবাহিত চারটি খালের নাব্যতা ফেরাতে পুনঃখননের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। ২০২৪–২৫ অর্থবছরে প্রায় দেড় কোটি টাকা ব্যয়ে শাহ্ মোহছেন আউলিয়া খালের ৬ কিলোমিটার, বরৈয়া খালের ৫ কিলোমিটার, কুদালা খালের ৪ কিলোমিটার ও গোবাদিয়া খালের ৩ কিলোমিটার অংশ খননের কাজ শুরু হয়। এসব খাল ৩০ ফুট প্রস্থ ও প্রায় সাড়ে ৪ ফুট গভীর করে খনন করা হচ্ছে। চলতি বছর বরৈয়া খালের দুই কিলোমিটার অংশে ২০ লাখ টাকা ব্যয়ে নতুন করে খননকাজ শুরু হয়।
এ বিষয়ে আনোয়ারা উপজেলা বিএডিসির উপসহকারী প্রকৌশলী আজমানুর রহমান বলেন, “২০ লাখ টাকা বরাদ্দে বরৈয়া খালের দুই কিলোমিটার অংশ পুনঃখনন করা হচ্ছে। এক্সকাভেটর চলাচলের সুবিধার জন্য খালের দুই পাশের গাছ কাটা হচ্ছে। এতে কিছু ক্ষতি হলেও খাল খননের জন্য বিকল্প নেই। কাটা গাছ স্থানীয়রাই নিয়ে যাচ্ছেন।”
তবে স্থানীয় বাসিন্দারা এই বক্তব্যের সঙ্গে একমত নন। বরৈয়া এলাকার বাসিন্দা আবদুর রহিম বলেন, “গত এক সপ্তাহেই শতাধিক গাছ কাটা হয়েছে। শুধু এক্সকাভেটর চালানোর সুবিধার জন্য গাছ কাটা হচ্ছে। অথচ গাছ রেখেই খাল খনন করা সম্ভব ছিল।”
কাটা গাছ সংগ্রহের সময় করাতকল মালিক আবদুল আজিজ বলেন, “এখনো কাউকে টাকা দিইনি। পরে কেউ দাবি করলে তখন দেখব।”
পরিবেশকর্মী রিতু পারভীন বলেন, “এত বিপুলসংখ্যক পূর্ণবয়স্ক গাছ কেটে খাল খনন কোনোভাবেই টেকসই উন্নয়ন হতে পারে না। যেকোনো প্রকল্প বাস্তবায়নের আগে পরিবেশগত প্রভাব মূল্যায়ন জরুরি। বৈশ্বিক উষ্ণায়নের এই সময়ে গাছ কাটার ক্ষতি আরও ভয়াবহ। ২০২৬ সালকে বিজ্ঞানীরা চরম উষ্ণ বছরের আশঙ্কা করছেন।”
তিনি আরও জানান, বিষয়টি পরিবেশ উপদেষ্টার নজরে এসেছে বলে তারা জানতে পেরেছেন।
চট্টগ্রাম বিভাগীয় বন কর্মকর্তা (উপবন সংরক্ষক) মোহাম্মদ সোহেল রানা বলেন, “ব্যক্তিমালিকানাধীন কিংবা সরকারি খাস জমির গাছ কাটার ক্ষেত্রেও বিধিনিষেধ রয়েছে। আমরা ঘটনাস্থলে বন বিভাগের একটি টিম পাঠাব।”
আনোয়ারা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) তাহমিনা আক্তার বলেন, “গাছ কাটার বিষয়টি সম্পর্কে জানতে পেরেছি। তবে গাছ বিক্রির বিষয়ে অবগত নই। সংশ্লিষ্ট দপ্তরের সঙ্গে কথা বলে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”
ইখা