নির্বাচন যত ঘনিয়ে আসছে, ততই টাঙ্গাইল-৫ (সদর) আসনে রাজনৈতিক সমীকরণ স্পষ্ট হচ্ছে। মাঠপর্যায়ের বাস্তবতায় ধীরে ধীরে এগিয়ে যাচ্ছেন ধানের শীষের প্রার্থী, বিএনপির কেন্দ্রীয় প্রচার সম্পাদক সুলতান সালাউদ্দিন টুকু। নেতাকর্মীদের অবস্থান পরিবর্তন, ভোটারদের অংশগ্রহণ এবং দলীয় ঐক্যের প্রতিফলন, সব মিলিয়ে সদর রাজনীতিতে এখন আলোচনার কেন্দ্রবিন্দু টুকু।
মাঠপর্যায়ের চিত্রে দেখা গেছে, স্বতন্ত্র প্রার্থী অ্যাডভোকেট ফরহাদ ইকবালের অনেক নেতাকর্মী ধীরে ধীরে তার থেকে সরে এসে দলীয় প্রতীক ধানের শীষের পক্ষে কাজ করতে শুরু করেছেন। স্থানীয় রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, দলীয় সিদ্ধান্তের বাইরে নির্বাচনে অংশ নেওয়ায় ফরহাদ ইকবাল সংগঠনের পূর্ণ সমর্থন ধরে রাখতে পারছেন না। ফলে নেতাকর্মীদের বড় একটি অংশ টুকুর শিবিরে যুক্ত হচ্ছে।
এই অবস্থান পরিবর্তনের প্রভাব নির্বাচনী প্রচারণাতেও পড়ছে। আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে টাঙ্গাইল-৫ আসনে সুলতান সালাউদ্দিন টুকু বিজয়ী হলে প্রকৃত অর্থে জিতে যাবে টাঙ্গাইলবাসী—এমনটাই দাবি তার সমর্থকদের। এই বিশ্বাস থেকেই সদর ও চরাঞ্চলজুড়ে দিন-রাত এক করে জোর প্রচারণা চালিয়ে যাচ্ছেন তিনি। নির্বাচনী প্রচারণায় ক্রমেই যুক্ত হচ্ছেন বিভিন্ন শ্রেণি ও পেশার মানুষ। উল্লেখযোগ্য হলো, একজন ছাড়া সদর আসনের বিএনপির সব মনোনয়ন প্রত্যাশী প্রকাশ্যে টুকুর পক্ষে অবস্থান নিয়ে ভোট প্রার্থনা শুরু করেছেন।
চরাঞ্চলে টুকুর প্রচারণা বিশেষভাবে দৃশ্যমান। প্রবাদপুরুষ প্রয়াত মেজর জেনারেল মাহমুল হাসানের ছেলে, ইঞ্জিনিয়ার রাশেদ হাসান বাবু বিভিন্ন নির্বাচনী সমাবেশে অংশ নিয়ে ধানের শীষে ভোট দেওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন। টুকু আশ্বস্ত করেছেন চরবাসীকে, নির্বাচিত হলে যমুনা ও ধলেশ্বরী নদীর ভাঙন রোধে বেড়িবাঁধ নির্মাণ, ধলেশ্বরী নদীর ওপর মাহমুদনগর সেতু নির্মাণসহ চরের মানুষের দীর্ঘদিনের সমস্যাগুলো সমাধান করা হবে।
তিনি আরও জানিয়েছেন, সদর এলাকায় কোনো সন্ত্রাস, চাঁদাবাজি বা কিশোর গ্যাং থাকবে না। বেকারত্ব দূর করতে কার্যকর উদ্যোগ নেওয়া হবে। তিনি নিজে কোনো অন্যায় করবেন না এবং কোনো অন্যায়কে প্রশ্রয় দেবেন না বলেও আশ্বাস দিয়েছেন।
স্থানীয়রা মনে করছেন, টুকু শুধু একজন রাজনৈতিক নেতা নন; তিনি সদরের মানুষদের সুখ-দুঃখে পাশে দাঁড়ানোর পাশাপাশি সমস্যা সমাধানে কার্যকর নেতৃত্ব দিতে সক্ষম। ভোটাররা বলছেন, 'টুকু একজন জাতীয় নেতা এবং জিয়া পরিবারের বিশ্বস্ত সৈনিক। তিনি সদর ও চরবাসীর উন্নয়নে এমন নেতৃত্ব দিতে পারবেন যা অন্য কেউ দিতে পারবে না।'
জেলা বিএনপির সাবেক দপ্তর সম্পাদক মির্জা শাহীন বলেন, শিক্ষা, ত্যাগ ও রাজনৈতিক অভিজ্ঞতায় টাঙ্গাইল সদরের সব প্রার্থীর চেয়ে সুলতান সালাউদ্দিন টুকু অনেক এগিয়ে। আগামী ১২ ফেব্রুয়ারি টাঙ্গাইলের মানুষ বিপুল ভোটে তাকে সংসদে পাঠাবে।
জেলা ছাত্রদলের সভাপতি দুর্জয় হোড় শুভ বলেন, টাঙ্গাইলবাসী ভাগ্যবান টুকু ভাইয়ের মতো একজন প্রার্থী পেয়েছে। তিনি সংসদ সদস্য হলে সদর এলাকায় ব্যাপক উন্নয়ন সম্ভব।
জেলা যুবদলের সদ্য বহিস্কৃত সদস্য সচিব তৌহিদুল ইসলাম বাবু বলেন, আগামী ১২ ফেব্রুয়ারি নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে। সেই নির্বাচনে আমরা সবাই সুলতান সালাউদ্দিন টুকুকে জয়ী করতে ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করছি। যে মানুষটা সবার সুখ-দুঃখে পাশে থাকতে পারবে, তিনি সুলতান সালাউদ্দিন টুকু।
জেলা যুবদলের আহ্বায়ক খন্দকার রাশেদুল আলম আরও বলেন, টাঙ্গাইল সদর জেলার সবচেয়ে মর্যাদাপূর্ণ আসন। এই আসনে টুকুর মতো একজন যোগ্য নেতা সংসদ সদস্য হবেন, এটা টাঙ্গাইলের মানুষ বোঝে।
সাধারণ ভোটারদের একটি অংশ মনে করেন, বিএনপি ক্ষমতায় গেলে তারেক রহমান প্রধানমন্ত্রী হবেন এবং টুকু তার ঘনিষ্ঠ আস্থাভাজন হওয়ায় সদর এলাকার উন্নয়নে তিনি সবচেয়ে কার্যকর ভূমিকা রাখতে পারবেন।
সুলতান সালাউদ্দিন টুকু বলেন, ২০১৪, ২০১৮ ও ২০২৪ সালের নির্বাচনে জনগণ ভোট দিতে পারেনি। দীর্ঘ সংগ্রামের পর ধানের শীষ প্রতীকে ভোট দেওয়ার সুযোগ এসেছে। শত শহীদের রক্তের বিনিময়ে অর্জিত এই নির্বাচন আমাদের কাছে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। ধানের শীষ আমার ব্যক্তিগত মার্কা নয়, এটি শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমান, নেত্রী বেগম খালেদা জিয়া এবং তারেক রহমানের মার্কা। সেই ঐতিহাসিক মার্কার পক্ষে আজ টাঙ্গাইলে গণজোয়ার সৃষ্টি হয়েছে। কারণ মানুষ বিএনপিকে ভালোবাসে, আর বিএনপিও সবসময় মানুষের পাশে থেকেছে।
তিনি আরও যোগ করেন, নির্বাচিত হলে সদরের অসমাপ্ত কাজগুলোকে সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দেব। ভোটাররা আমাকে পাশে রাখলে, আগামী পাঁচ বছরে আমি তাদের খেদমত করবো ইনশাআল্লাহ। তাদের সুবিধা-অসুবিধার কথা বলতে আমার কাছে আসতে হবে না, আমিই নিজে তাদের কাছে ছুটে যাব।
এসকে/আরআই