নির্বাচন মানেই যেখানে কোটি কোটি টাকার ছড়াছড়ি আর কালো টাকার দাপট, সেখানে এক ব্যতিক্রমী দৃষ্টান্ত স্থাপন করছে বাংলাদেশের সমাজতান্ত্রিক দল (বাসদ)। আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে সামনে রেখে বরিশালে ‘মাটির ব্যাংক’ ভেঙে সংগৃহীত টাকায় নির্বাচনী ব্যয় নির্বাহের উদ্যোগ নিয়েছেন দলটির প্রার্থীরা।
শুক্রবার (৩০ জানুয়ারি) সকালে বরিশাল নগরীর ফকিরবাড়ি রোডে বাসদ জেলা কার্যালয়ে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে এ তথ্য জানানো হয়। “জনগণের টাকায় নির্বাচন করবেন জনগণের প্রার্থী” এই প্রতিপাদ্যকে সামনে রেখে বরিশাল-৫ আসনে বাসদ মনোনীত প্রার্থী ও জেলা সমন্বয়ক ডা. মণীষা চক্রবর্তী এই প্রচারণার বিস্তারিত তুলে ধরেন।
সংবাদ সম্মেলনে জানানো হয়, নির্বাচনী খরচ জোগাতে মাসখানেক আগে নগরীর বিভিন্ন রিকশা গ্যারেজ, ক্ষুদ্র দোকান, হোটেল ও সাধারণ মানুষের বাসাবাড়িতে কয়েকশ মাটির ব্যাংক বিতরণ করা হয়েছিল। খেটে খাওয়া মানুষ তাদের প্রতিদিনের যৎসামান্য সঞ্চয় থেকে ২ টাকা, ৫ টাকা বা ১০ টাকা করে এই ব্যাংকে জমা করেছেন।
আজ আনুষ্ঠানিকভাবে সেই ব্যাংকগুলো সংগ্রহ ও খোলা শুরু হয়েছে। ডা. মণীষা চক্রবর্তী বলেন, “বর্তমানে নির্বাচন ব্যবসায় পরিণত হয়েছে। পুঁজিপতিরা কোটি কোটি টাকা বিনিয়োগ করে নির্বাচিত হন এবং পরে ১০ গুণ টাকা লুটপাট করেন। আমরা এই বৃত্ত ভাঙতে চাই। আমরা কোনো বড় ব্যবসায়ীর টাকায় নয়, বরং সাধারণ মানুষের ২-৫ টাকার ঘাম ঝরানো অর্থে নির্বাচন করতে চাই। এতে জনগণের প্রতি আমাদের দায়বদ্ধতা বজায় থাকে।”
লিখিত বক্তব্যে আরো বলা হয়, মাটির ব্যাংকের পাশাপাশি বিকাশ, নগদ এবং ব্যাংক অ্যাকাউন্টের মাধ্যমেও শুভাকাঙ্ক্ষীদের কাছ থেকে ক্ষুদ্র অনুদান গ্রহণ করা হচ্ছে। দলের কর্মীরা কোনো পারিশ্রমিক ছাড়াই স্বেচ্ছাশ্রমে নির্বাচনী প্রচার চালাচ্ছেন। যেটা সবচেয়ে বড় পাওয়া। ২৪-এর গণঅভ্যুত্থান পরবর্তী এই বাংলাদেশে সংসদকে ‘কোটিপতিদের আড্ডাখানা’ বানানোর পরিবর্তে গণমানুষের ক্ষমতায়নের কেন্দ্র হিসেবে গড়ে তোলার আহ্বান জানান নেতৃবৃন্দ। সংবাদ সম্মেলনে বাসদ বরিশাল জেলা শাখার বিভিন্ন পর্যায়ের নেতাকর্মী ও গণমাধ্যমকর্মীরা উপস্থিত ছিলেন। সাধারণ মানুষের স্বতঃস্ফূর্ত অংশগ্রহণে জমানো এই অর্থ দিয়েই পোস্টার ছাপানো ও প্রচারণার আনুষঙ্গিক কাজ করা হচ্ছে বলে দলটি নিশ্চিত করেছে।
এসআর