চট্টগ্রামের সাতকানিয়া উপজেলায় মাস্তুল ফাউন্ডেশনের উদ্যোগে সুবিধাবঞ্চিত মানুষের স্বাবলম্বীকরণ কার্যক্রম অনুষ্ঠিত হয়েছে। মাস্তুল ফাউন্ডেশনের “যাকাত স্বাবলম্বী প্রকল্প”-এর আওতায় আয়োজিত এ কার্যক্রমের আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করেন অন্তর্বর্তী সরকারের ধর্ম বিষয়ক উপদেষ্টা ড. আ ফ ম খালিদ হোসেন।
সাতকানিয়া উপজেলার বাবুনগর গ্রামে অনুষ্ঠিত এই অনুষ্ঠানে ধর্ম উপদেষ্টা নিজ হাতে উপকারভোগীদের মাঝে সহায়তা প্রদান করেন এবং স্বাবলম্বীকরণ কার্যক্রমের প্রতীকী উদ্বোধন করেন।
এছাড়াও অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন, ইসলামিক ফাউন্ডেশন বাংলাদেশের মহাপরিচালক (ডিজি) আব্দুস সালাম খান এবং সাতকানিয়া উপজেলার নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট মাহমুদুল হাসান। অনুষ্ঠানে স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গ, মাস্তুল ফাউন্ডেশনের প্রতিনিধিবৃন্দ এবং উপকারভোগীরা উপস্থিত ছিলেন।
এসমউ ড. আ ফ ম খালিদ হোসেন বলেন, "সহায়তার মাধ্যমে সুবিধাবঞ্চিত মানুষকে আত্মনির্ভরশীল করে তোলাই যাকাতের মূল উদ্দেশ্য, যা মাস্তুল ফাউন্ডেশন সফলভাবে বাস্তবায়ন করে চলেছে। এছাড়া মাস্তুল ফাউন্ডেশন সারাদেশে রান্না করা খাবার বিতরণসহ বিভিন্ন মানবিক সহায়তা কার্যক্রম পরিচালনা করছে। আসন্ন রমজান মাসে যাকাত আদায়ের গুরুত্ব তুলে ধরে তিনি সঠিক হকদারের কাছে যাকাত পৌঁছে দেওয়ার জন্য মাস্তুল ফাউন্ডেশনের মাধ্যমে যাকাত প্রদানের আহ্বান জানান।তার মতে, মাস্তুল ফাউন্ডেশন যাকাতভিত্তিক স্বাবলম্বী প্রকল্প দারিদ্র্য বিমোচন ও সামাজিক পরিবর্তন আনতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে সক্ষম।"
মাস্তুল ফাউন্ডেশন এর প্রতিষ্ঠাতা ও নির্বাহী পরিচালক কাজী রিয়াজ রহমান বলেন, "ইসলামে যাকাত একটি ফরজ ইবাদত, যার মূল উদ্দেশ্য হলো আল্লাহ তায়ালার সন্তুষ্টি অর্জনের পাশাপাশি সমাজ থেকে দারিদ্র্য ও বৈষম্য দূর করা। আমরা বিশ্বাস করি, যাকাত যদি সঠিক পরিকল্পনার মাধ্যমে প্রকৃত হকদারের কাছে পৌঁছায়, তাহলে একজন অসহায় মানুষও স্বাবলম্বী হয়ে সম্মানের সঙ্গে জীবন যাপন করতে পারে। সেই চিন্তা থেকেই মাস্তুল ফাউন্ডেশন যাকাতভিত্তিক স্বাবলম্বী প্রকল্প বাস্তবায়ন করে যাচ্ছে। আমাদের প্রতিটি উদ্যোগে আমরা চেষ্টা করি ইখলাসের সঙ্গে আল্লাহর সন্তুষ্টি অর্জন করতে এবং সমাজের পিছিয়ে পড়া মানুষদের জন্য স্থায়ী পরিবর্তনের পথ তৈরি করতে।"
প্রসঙ্গত, মাস্তুল ফাউন্ডেশন সরকার কর্তৃক নিবন্ধিত একটি স্বনামধন্য ও সেবামূলক জাতীয় প্রতিষ্ঠান। বিগত এক দশকেরও বেশি সময় ধরে মাস্তুল ফাউন্ডেশন দেশের সুবিধাবঞ্চিত মানুষ ও শিশুদের জীবনমান উন্নয়নে নিরলসভাবে কাজ করে আসছে। ২০১২ সাল থেকে মাস্তুল ফাউন্ডেশন দেশ ও ২০২৩ সাল থেকে দেশের বাহিরে মানবিক সেবার অসাধারণ দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছে। ২০২৪ সালে গাজা ও ২০২৫ সালে সুদানের সংকটের সময়ে তারা দ্রুত এবং জরুরি সহায়তা-খাদ্য, পানি ও চিকিৎসা সামগ্রী-পৌঁছে দিয়ে আন্তর্জাতিকভাবে প্রশংসিত হয়েছে। দেশের ভেতরে দারিদ্র্য নিরসনে তাদের সমন্বিত ও টেকসই কার্যক্রম বিশেষভাবে উল্লেখযোগ্য। শিক্ষা, সেলাই প্রশিক্ষণ, কম্পিউটার স্কিলসহ নানামুখী কারিগরি প্রশিক্ষণ এবং মাস্তুল ফাউন্ডেশনের অন্যতম সফল প্রকল্প "যাকাত স্বাবলম্বী" এর মাধ্যমে অসংখ্য অসহায় ব্যক্তি ও যুব সমাজের জন্য স্থায়ী কর্মসংস্থান সৃষ্টি হচ্ছে, যা তাদের আত্মনির্ভরশীল করে তুলছে। রাজধানীর বিভিন্ন প্রান্তে প্রতিদিন বিনামূল্যে অসহায় ও সুবিধাবঞ্চিতদের একবেলার খাবার পৌঁছে দিচ্ছে। এতিম শিশু এবং প্রবীণদের জন্য নির্মাণাধীন শেল্টার হোম কমপ্লেক্স প্রকল্পটি ভবিষ্যতের প্রতি মাস্তুলের দৃঢ় অঙ্গীকারের প্রতিফলন।
উল্লেখ্য, সরকারি নিবন্ধিত ও জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের (এনবিআর) আইন অনুযায়ী, মাস্তুল ফাউন্ডেশনকে প্রদত্ত যেকোনো দান, যাকাত বা সাদাকা আয়করমুক্ত, যা দাতাদের জন্য আয়কর রেয়াত হিসেবে গণ্য হবে।
ইখা