ডাক্তার বলেছে ছেলেকে বাঁচাতে লাগবে ৮ লক্ষ টাকা। কিন্তু এই টাকার অংক নাজমুলের মায়ের কাছে তো স্বপ্নে মত ব্যাপার। তবু তিনি স্বপ্ন দেখেন মহান আল্লাহ চাইলে ৮ লক্ষ টাকা তিনিই যোগাড় করে দেবেন।
শিশু নাজমুল (১০) আজ জীবন-মৃত্যুর সন্ধিক্ষণে। দুরারোগ্য ব্যাধি মোটর নিউরন ডিজিজ (Motor Neuron Disease–MND/ALS)-এ আক্রান্ত হয়ে ধীরে ধীরে নিভে যেতে বসেছে তার ছোট্ট জীবন। শিশু নাজমুলের বাড়ি কুড়িগ্রামের নাগেশ্বরী উপজেলার কালিগঞ্জ ইউনিয়নের শালমারা গ্রামে।
নার্ভ শুকিয়ে যাওয়া ও শরীরের মাংস ক্ষয় হওয়ার কারণে প্রতিদিনই অবনতি ঘটছে নাজমুলের শারীরিক অবস্থার। ইতোমধ্যে কোমর থেকে পা পর্যন্ত প্রায় সম্পূর্ণ অসাড় হয়ে পড়েছে তার শরীর। একসময় যে শিশুটি মাঠে-ঘাটে ছুটে বেড়াত, আজ সে শুয়ে আছে বিছানায়—ব্যথা আর অসহায়ত্ব নিয়ে।
রংপুরের ডাক্তার বলেন দ্রুত নাজমুলকে নিয়ে যেতে হবে ঢাকা নিউরো সাইন্সে। ৮০ হাজার টাকা হলেই হবে চিকিৎসা। কিন্তু ঢাকার নিউরো সায়েন্স হাসপাতালে নেওয়া হলে চিকিৎসকরা জানান, বাংলাদেশে তার এই রোগের কার্যকর কোনো চিকিৎসা নেই। উন্নত ও তুলনামূলক কম খরচে চিকিৎসা পেতে হলে তাকে দ্রুত ভারতে নিতে হবে। চিকিৎসার জন্য প্রয়োজন হবে প্রায় ৮ লক্ষ টাকা।
অথচ দিনমজুর বাবার পক্ষে এত টাকা জোগাড় করা একেবারেই অসম্ভব। ছেলের চিকিৎসার আশায় পথে পথে ঘুরছেন অসহায় মা নাজমা বেগম। চোখের পানি লুকিয়ে তিনি বলেন, “আমি কিছু চাই না, শুধু আমার ছেলেটাকে বাঁচিয়ে দিন। ও বাঁচলে আমিও বাঁচবো।”
শরীর ভেঙে গেলেও নাজমুলের স্বপ্ন এখনো বেঁচে আছে। নিভু নিভু কণ্ঠে সে বলে,“আল্লাহ আমার পায়ে শক্তি দিলে আমি মাদ্রাসায় যাবো, কোরআনে হাফেজ হবো।”
একটি নিষ্পাপ শিশুর এই কথায় চোখ ভিজে আসে যে কারও।
প্রতিটি মুহূর্ত এখন নাজমুলের জন্য শেষ মুহূর্ত হয়ে উঠতে পারে। সময়মতো চিকিৎসা না পেলে যে কোনো সময় নিভে যেতে পারে একটি প্রাণ, ভেঙে যেতে পারে একটি স্বপ্ন।
একটি শিশুর এই নিষ্পাপ স্বপ্ন যেন অর্থের অভাবে থেমে না যায়—এই আকুতিই এখন তার পরিবারের। ইতিমধ্যে ২৯ জানুয়ারি ২০২৬ নাজমুল ও তার বাবা- মায়ের পাসপোর্ট করতে দেয়া হয়েছে।
প্রতিটি মুহূর্ত নাজমুলের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। সময়মতো চিকিৎসা না হলে যে কোনো সময় নিভে যেতে পারে একটি নিষ্পাপ প্রাণ। এই অবস্থায় দেশবাসী ও প্রবাসী বাংলাদেশিদের মানবিক সহায়তাই পারে নাজমুলের জীবন ও স্বপ্ন দুটোই বাঁচিয়ে রাখতে।
নাজমুলের চিকিৎসার জন্য সহায়তা পাঠানো যাবে তার মা নাজমা বেগমের বিকাশ অথবা নগদ (পার্সোনাল) নম্বরে— 01759262343
অথবা নাজমুলের মায়ের ব্যাংক অ্যাকাউন্টে:অ্যাকাউন্ট নম্বর: 20507770231597486 অ্যাকাউন্টের নাম: নাজমা বেগম ব্যাংকের নাম: ইসলামী ব্যাংক লিমিটেড শাখার নাম: কুড়িগ্রাম।
ভিডিও কলে নাজমুলকে দেখতে চাইলে, হোয়াটসঅ্যাপ নম্বর— 01713200091
আপনারা সাহায্য না করলে হয়তো দেরি হয়ে যাবে। শেষ হয়ে যাবে একটি শিশুর জীবন, একটি মায়ের স্বপ্ন—সবকিছুই আজ আপনাদের সহানুভূতি ও দয়ার অপেক্ষায়।
সবশেষ ১২ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ (বৃহস্পতিবার) সন্তানের চিকিৎসার আশায় নাজমুলের মায়ের মোবাইল ব্যাংকিংয়ে জমা হয়েছে মাত্র ৩১,৯২০/- টাকা। প্রয়োজনের তুলনায় যা এখনো অপ্রতুল—সবার সহযোগিতা একান্ত কাম্য।
এফএস