আজ ১ ফেব্রুয়ারি, বিশ্ব হিজাব দিবস। প্রতি বছরের মতো এবারও বিশ্বের ১৫০টির বেশি দেশে দিনটি উদযাপিত হচ্ছে দিবসটি। হিজাব এখানে নিছক একটি কাপড় নয়; এটি একটি পরিচয়, অধিকার ও আত্মমর্যাদার প্রতীক। ‘হিজাব’ অর্থ পর্দা। এটি ইসলামের অপরিহার্য বিধান। হিজাব পরপুরুষের দৃষ্টি থেকে নারীকে নিরাপদ রাখে। নারীর এই অঙ্গভূষণ তার জন্য রক্ষাকবচ।
এটি প্রত্যেক নারীর স্বভাবগত বিষয়ের অন্তর্ভুক্ত। ইসলামী পরিভাষায় হিজাব শুধু বাহ্যিক পোশাক নয়; এটি আচরণ, দৃষ্টি ও মননের সংযমকেও অন্তর্ভুক্ত করে।সৃষ্টিগতভাবেই পুরুষ ও নারীর শারীরিক ও মানসিক কাঠামো পৃথক। এই পার্থক্য অস্বীকার করা চৈত্রের খরতাপ ও বসন্তের পেলব-পরশ অস্বীকার করার শামিল। নারীকে আল্লাহ আকর্ষণীয় করে সৃষ্টি করেছেন।
তাই শালীন পোশাক তার নিরাপত্তার জন্য খুবই গুরুত্বপূর্ণ।
পবিত্র কোরআনের অনেকগুলো আয়াতে হিজাব বা পর্দার বিধান দেওয়া হয়েছে। সুতরাং কোনো ঈমানদারের পক্ষে এই বিধান হালকা মনে করার সুযোগ নেই। এখানে কয়েকটি আয়াত তুলে ধরা হলো—
(১). মহান আল্লাহ বলেন, ‘হে নবী! আপনি আপনার স্ত্রীদের, কন্যাদের ও মুমিনের নারীদের বলুন, তারা যেন নিজেদের ওপর চাদর টেনে দেয় (চাদরে আবৃত হয়ে বের হয়)।
এতে তাদের চেনা সহজ হবে। ফলে তাদের উত্ত্যক্ত করা হবে না। আল্লাহ ক্ষমাশীল, পরম দয়ালু।’
(সুরা : আহজাব, আয়াত : ৫৯)
আবদুল্লাহ ইবনে আব্বাস (রা.) উক্ত আয়াতের ব্যাখ্যায় বলেছেন, আল্লাহ তাআলা মুমিন নারীদের আদেশ করেছেন, যখন তারা কোনো প্রয়োজনে ঘর থেকে বের হবে তখন যেন মাথার ওপর থেকে ওড়না/চাদর টেনে নিজ মুখমণ্ডল আবৃত করে। আর (চলাফেরার সুবিধার্থে) শুধু এক চোখ খোলা রাখে।
(ফাতহুল বারি ৮/৫৪, ৭৬, ১১৪)
(২). মহান আল্লাহ বলেন, ‘...তোমরা নবীর স্ত্রীদের কাছে কিছু চাইলে পর্দার আড়াল থেকে চাও। এই বিধান তোমাদের ও তাদের হৃদয়ের জন্য অধিকতর পবিত্রতার কারণ...।’ (সুরা : আহজাব, আয়াত : ৫৩)
এই আয়াত থেকেও বোঝা যায়, নারীর দেহের কোনো অংশই পর্দা-বিধানের বাইরে নয়। প্রিয় নবীর প্রিয় স্ত্রীর কর্মপন্থা দ্বারা বিষয়টি প্রমাণিত।
এই আয়াতে যখন পর্দার বিধানকে সাহাবায়ে কেরাম ও নবীর স্ত্রীর জন্যও অধিকতর পবিত্রতার উপায় বলা হয়েছে, তখন উম্মতের আর কে আছে যে এই বিধানের বাইরে থাকতে পারে?
(৩). মহান আল্লাহ বলেন, ‘(হে নবী!) মুমিন নারীদের বলুন, তারা যেন তাদের দৃষ্টিকে সংযত রাখে ও তাদের লজ্জাস্থানের হেফাজত করে। তারা যেন সাধারণত যা প্রকাশ থাকে তা ছাড়া—নিজেদের আভরণ প্রদর্শন না করে।’ (সুরা : নূর, আয়াত : ৩১)
আবদুল্লাহ ইবনে মাসউদ (রা.) থেকে সহিহ সনদে বর্ণিত আছে যে ‘সাধারণত যা প্রকাশিত’ অর্থ হচ্ছে কাপড়। (তাফসিরে তাবারি ১৮/১১৯)
এই ব্যাখ্যা অনুসারে প্রতীয়মান হয় যে গায়রে মাহরাম পুরুষের সামনে নারীর মুখমণ্ডলসহ পূর্ণ দেহ আবৃত রাখা অপরিহার্য।
(৪). মহান আল্লাহ বলেন, ‘..তারা যেন গ্রীবা ও বক্ষদেশ মাথার কাপড় দ্বারা আবৃত করে। ... (সুরা : নূর : ৩১)
আয়েশা (রা.) বলেন, আল্লাহ তাআলা যখন এই আয়াত নাজিল করলেন তখন তারা নিজেদের চাদর ছিঁড়ে তা দ্বারা নিজেদের মুখমণ্ডল আবৃত করেছিলেন। (সহিহ বুখারি : ২/৭০০)
(৫). মহান আল্লাহ বলেন, ‘...তারা যেন তাদের গোপন আভরণ (ভূষণ) প্রকাশের উদ্দেশ্যে সজোরে ভূমিতে পদক্ষেপ না করে। হে মুমিনরা! তোমরা সবাই আল্লাহর দিকে প্রত্যাবর্তন করো, যাতে তোমরা সফল হতে পারো...।’ (সুরা : নুর : ৩১)
এই আয়াত থেকে বোঝা যায়, পরপুরুষকে আকৃষ্ট করে এমন সব কাজ থেকে বিরত থাকা ঈমানদার নারীর কর্তব্য। কারণ পরপুরুষকে নূপুরের আওয়াজ শোনানোর উদ্দেশ্যে সজোরে পদবিক্ষেপ যখন নিষেধ করা হয়েছে তখন যেসব কাজ, ভঙ্গি ও আচরণ এর চেয়েও বেশি আকৃষ্ট করে তা নিষিদ্ধ হওয়া তো সহজেই বোঝা যায়। মুসলিম নারীদের জন্য এটি মহান আল্লাহর একটি গুরুত্বপূর্ণ শিক্ষা।
এইচএ