ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বাগেরহাট-৩ নির্বাচনী আসন রামপাল-মোংলার চার রাজনৈতিক দলের পাঁচ প্রার্থী রাতদিন চষে বেড়াচ্ছে নির্বাচনী মাঠ। সব প্রার্থী ভোটারদের দৃষ্টি আকর্ষণ করে প্রচারে গুরুত্ব দিচ্ছেন রামপাল-মোংলাকে সন্ত্রাস, চাঁদাবাজমুক্ত করে শান্তি ও সমৃদ্ধির জনপদে পরিণত করার। সংখ্যালুঘু পরিবারসমূহকে অভয় দান করে আশ্বস্ত করছেন তাদের জানমালের নিরাপত্তায় কঠোর হবেন। যেকোনো মূল্যে রামপাল-মোংলাকে অসম্প্রদায়িক চেতনা বজায় রেখে সব ধর্মবর্ণের মানুষের জন্য রামপাল-মোংলাকে নিরাপদ ঠিকানায় পরিণত করবেন।
এই আসনে বিএনপির ধানের শীষ প্রার্থী লায়ন ডক্টর শেখ ফরিদুল ইসলাম। তার সঙ্গে সতন্ত্র ঘোড়া প্রতীকের বাগেরহাট-২ আসনের সাবেক এমপি বাগেরহাট জেলা বিএনপির সাবেক সভাপতি বীর মুক্তিযোদ্ধা এম এ এইচ সেলিম। প্রতিদ্বন্দ্বিতায় আছেন জামায়াতে ইসলামীর দাঁড়িপাল্লার প্রার্থী, অ্যাডভোকেট মোহাম্মদ আব্দুল ওয়াদুদ, ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের হাতপাখা প্রতীকের অধ্যক্ষ শেখ জিল্লুর রহমান এবং জাসদ মনোনীত তাঁরা প্রতীকের মো. হাবিবুর রহমান মাস্টার।
মাঠ পর্যায়ে ঘুরে সাধারণ মানুষের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, নির্বাচনী এলাকার সাধারণ মানুষের মাঝে ভোট নিয়ে তেমন কৌতূহল নেই। অনেকেই বলেছেন দেশের বর্তমান পরিবেশ পরিস্থিতি দেখে বোঝা যাচ্ছে না আদৌও ভোট হবে কি না। আবার কেউ কেউ বলেছেন রামপাল-মোংলায় নির্বাচন নিয়ে অতীত অভিজ্ঞতার কথা। বলেছেন বিগত সময়ে রামপাল-মোংলায় কয়েকটি নির্বাচনে মানুষ কেন্দ্রে গিয়ে ভোট দিতে পারেনি। পছন্দের প্রার্থীকে ভোট দিতে গিয়ে অনেকেই মারধরের শিকার হয়েছেন। ছাড়তে হয়েছে এলাকা। আগের নির্বাচনগুলোর অভিজ্ঞতা যাদের রয়েছে তারা এখনো ভোট দেওয়ার কথা ভাবছে না। পরিবেশ পরিস্থিতি দেখে হয়তো সিদ্ধান্ত নেবে।
উপজেলা নির্বাচনী কর্মকর্তার কার্যালয় সূত্রে জানা গেছে, এই নির্বাচনী আসনে ভোটার সংখ্যা দুই লাখ ৬৬ হাজার ৮৬৪। এরমধ্যে এক লাখ ৩২ হাজার ৩৫১ পুরুষ ও এক লাখ ৩৪ হাজার ৫০৯ জন নারী ভোটার এবং ৪ জন তৃতীয় লিঙ্গের। এই আসনের একটি পৌরসভা ও উপজেলার ১৬টি ইউনিয়নের মধ্যে ভোট কেন্দ্র রয়েছে ১০৬টি। বিভিন্ন কেন্দ্রে মানুষ ভোটাধিকার প্রয়োগ করবে ৫২১টি কক্ষে।
আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বিভিন্ন সংস্থা সূত্রে জানা গেছে, রামপাল-মোংলা নির্বাচনী এলাকায় ২২টি কেন্দ্রকে ঝুঁকিপূর্ণ কেন্দ্রের তালিকায় রাখা হয়েছে।
এই আসনে নির্বাচনী প্রার্থীদের প্রচার প্রসঙ্গে কথা বলতে গিয়ে স্থানীয়রা বলেছেন, লায়ন ড. শেখ ফরিদুল ইসলাম বাগেরহাট জেলা বিএনপির অন্যতম সহ-সভাপতি এবং সেভ দ্য সুন্দরবন ফাউন্ডেশন-এর চেয়ারম্যান হিসেবে দীর্ঘ দিন ধরে এলাকায় আর্তসামাজিক ও পরিবেশ রক্ষায় কাজ করে আসছেন। এলাকায় তার বিশেষ জনপ্রিয়তা ও গ্রহণযোগ্যতাও রয়েছে। রামপাল-মোংলাব্যাপী তার রয়েছে রাজনৈতিক প্রভাববলয়।
রামপাল-মোংলায় বিএনপিতে আগে যে কোন্দল ছিল তাও মিটে গেছে। সবাইকে মাঠে দেখা যাচ্ছে ধানের শীষের প্রচারে। সেদিক থেকে ভালো অবস্থানে আছেন বিএনপি প্রার্থী। তবে ভোটের মাঠে বিএনপি প্রার্থীর সঙ্গে সমান পাল্লা দিয়ে প্রচারে আছেন বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর দাঁড়িপাল্লার প্রার্থী অ্যাডভোকেট মোহাম্মদ আব্দুল ওয়াদুদ। এই দুই প্রার্থীর প্রচার কৌশল দেখে অনেকেই বলেছেন এবারের নির্বাচনী সমীকরণ মিলানো কঠিন হবে।
মাঠ পর্যায়ে ঘুরে সাধারণ মানুষের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, দাঁড়িপাল্লার প্রার্থী নেতাকর্মীদের সঙ্গে নিয়ে হিন্দু, মুসলিম, বৌদ্ধ সম্প্রদায়ের নানা সামাজিক ও মানবিক কর্মসূচিতে অংশ নিচ্ছেন, মাঠে, ঘাটে, পাড়ামহল্লায় গিয়ে দল ও নিজের পক্ষে জনমত গড়ে তুলেছেন।
একই কায়দায় প্রচার মাঠ চষে বেড়াচ্ছেন ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের হাতপাখা প্রতীকের অধ্যক্ষ শেখ জিল্লুর রহমান। তার পক্ষে নেতাকর্মীরা হাতপাখা প্রতীক হাতে নিয়ে শোডাউন করে গ্রামে গ্রামে গিয়ে ভোট চাচ্ছেন। এই আসনের অপর প্রার্থী জাসদ মনোনীত মো. হাবিবুর রহমান মাস্টার। তার প্রতীক তাঁরা।
যদিও এই প্রতীকটি এ অঞ্চল তথা রামপাল-মোংলার মানুষের কাছে তেমন পরিচিত নয়। সে-কারণে প্রতীক পরিচয় ভোটারদের কাছে স্পষ্ট করতে প্রার্থী ও দলের নেতাকর্মীরা ভোটারদের দুয়ারে দুয়ারে যাচ্ছেন।
প্রগতিশীল ধারার রাজনীতিতে থাকা এই প্রার্থীরা নির্বাচনী প্রচারে ও তারদের ইশতেহারও নতুন। রাজনৈতিক বন্দোবস্ত, বেকারত্ব দূর, সন্ত্রাস, নৈরাজ্যমুক্ত সমাজ প্রতিষ্ঠায় তাদের দলের নিজের ভাবনার কথা তুলে ধরে ভোটারদের আস্থা অর্জনের চেষ্টা করছেন।
ইখা