নবম পে-স্কেলের গেজেট প্রকাশসহ সাত দফা দাবিতে মোংলায় সরকারি চাকরিজীবীরা দ্বিতীয় দিনের মতো দুই ঘণ্টার কর্মবিরতি ও বিক্ষোভ সমাবেশ করেছেন। সোমবার (২ ফেব্রুয়ারি) সকালে পৌর মার্কেটের সামনে এ কর্মসূচি পালন করা হয়।
বিক্ষোভ সমাবেশে বক্তারা বলেন, গত সাত বছর ধরে শান্তিপূর্ণ আন্দোলন চালিয়ে আসলেও সরকার কর্মচারীদের ন্যায্য দাবি আমলে নিচ্ছে না। গত ৫ ডিসেম্বর লক্ষাধিক কর্মচারীর অংশগ্রহণে মহাসমাবেশের পর ১৫ ডিসেম্বরের মধ্যে গেজেট প্রকাশের আশ্বাস দেওয়া হলেও তা এখনো বাস্তবায়ন হয়নি।
বক্তারা অভিযোগ করেন, ২১ জানুয়ারি কমিশনের প্রতিবেদন জমা দেওয়ার পর অর্থ উপদেষ্টা গেজেট প্রকাশ না করে নতুন কমিটি গঠনের মাধ্যমে সময়ক্ষেপণ করছেন। এ ছাড়া জ্বালানি উপদেষ্টার এক বক্তব্যে ‘বর্তমান সরকার পে-স্কেল বাস্তবায়ন করবে না এবং আন্দোলন স্তিমিত রাখতেই কমিশন গঠন করা হয়েছিল’—এমন মন্তব্য প্রজাতন্ত্রের কর্মচারীদের মধ্যে তীব্র ক্ষোভ ও হতাশার সৃষ্টি করেছে।
চাকরিজীবীদের সাত দফা দাবির মধ্যে উল্লেখযোগ্য হলো—২০১৫ সালের পে-স্কেলের গেজেটে বাতিল হওয়া তিনটি টাইম স্কেল ও সিলেকশন গ্রেড পুনর্বহাল, বেতন জ্যেষ্ঠতা সংরক্ষণ, স্বায়ত্তশাসিত প্রতিষ্ঠানে গ্রাচুইটির পাশাপাশি পেনশন চালু এবং গ্রাচুইটির হার ৯০ শতাংশের পরিবর্তে ১০০ শতাংশ নির্ধারণ।
এদিকে আন্দোলনকারীরা জানান, নির্ধারিত সময়ের মধ্যে দাবি বাস্তবায়ন না হলে আগামী ৬ ফেব্রুয়ারি শুক্রবার সকাল ১০টায় কেন্দ্রীয় শহীদ মিনার থেকে প্রধান উপদেষ্টার বাসভবন ‘যমুনা’ অভিমুখে ‘ভূখা মিছিল’ কর্মসূচি পালন করা হবে।
কর্মসূচিতে মোংলা পোর্ট পৌরসভা কর্মচারী সংসদের সভাপতি মো. নিজাম উদ্দিনের সভাপতিত্বে বক্তব্য দেন সংগঠনের সেক্রেটারি ও খুলনা বিভাগীয় কর্মচারী ফেডারেশনের পরিবেশবিষয়ক সম্পাদক মো. শাহিন, মোংলা বন্দর কর্তৃপক্ষ কর্মচারী সংঘের সাবেক অতিরিক্ত সাধারণ সম্পাদক জামাল উদ্দিন চৌধুরী জাহিদ, এডহক কমিটির সদস্য মো. আল আমিন, বাংলাদেশ আদর্শ শিক্ষক ফেডারেশন বাগেরহাট জেলা সেক্রেটারি অধ্যাপক কহিনুর সরদারসহ বিভিন্ন দপ্তরের কর্মচারী নেতারা। কর্মসূচিতে মোংলা পোর্ট পৌরসভার বিভিন্ন পর্যায়ের কর্মচারীরা অংশ নেন।
ইখা