পঞ্চগড়ের দেবীগঞ্জে বালুবোঝাই ট্রাকের চাপায় এক মোটরসাইকেল আরোহী নিহত হয়েছেন। রবিবার (১ ফেব্রুয়ারি) রাত ৯টার দিকে দেবীগঞ্জ পৌরসভার পাকড়িতলা এলাকায় বোদা–দেবীগঞ্জ মহাসড়কের মদিনা কোল্ড স্টোরেজের সামনে এ দুর্ঘটনা ঘটে।
নিহত ব্যক্তির নাম সমেশ চন্দ্র বর্মন (৩৮)। তিনি দেবীগঞ্জ উপজেলার পামুলী ইউনিয়নের কাটনহারী আরাজী এলাকার হরি কিশোর বর্মনের ছেলে। সমেশ দেবীগঞ্জ পৌর শহরের মায়ের হাসি স্মার্ট ডায়াগনস্টিক সেন্টারে ল্যাব টেকনিশিয়ান হিসেবে কর্মরত ছিলেন।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, প্রতিদিনের মতো রোববার রাতেও কর্মস্থল থেকে মোটরসাইকেলে করে বাড়ির পথে রওনা দেন সমেশ। পথে পাকড়িতলা এলাকায় পৌঁছালে দেবীগঞ্জ শহরমুখী একটি বালুবোঝাই ট্রাক তাঁকে ধাক্কা দেয়। ট্রাকটি তাঁকে চাপা দিয়ে প্রায় ১৫ ফুট দূর পর্যন্ত টেনে নিয়ে যায়। এতে ঘটনাস্থলেই তাঁর মৃত্যু হয়।
দুর্ঘটনায় মোটরসাইকেলটি তেমন ক্ষতিগ্রস্ত না হলেও ট্রাকের নিচে পিষ্ট হন সমেশ। খবর পেয়ে স্থানীয়রা দেবীগঞ্জ থানা পুলিশ ও ফায়ার সার্ভিসকে জানায়। পরে পুলিশ ঘটনাস্থল থেকে মরদেহ উদ্ধার করে সুরতহাল সম্পন্ন করে আইনি প্রক্রিয়া শেষে পরিবারের কাছে হস্তান্তর করে।
দুর্ঘটনার পরপরই ট্রাকটি জব্দ করা হয়। স্থানীয়দের সহায়তায় ট্রাকচালক সাদ্দাম হোসেন (৩৬) কে আটক করে পুলিশ। তিনি ঝিনাইদহ জেলার কালীগঞ্জ উপজেলার বলিদাহপাড়া এলাকার বাসিন্দা।
এ ঘটনায় নিহতের বড় ভাই আপন চন্দ্র রায় বাদী হয়ে দেবীগঞ্জ থানায় একটি মামলা দায়ের করেছেন।
দেবীগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) কে এম মনিরুজ্জামান চৌধুরী বলেন, নিহতের মরদেহ সুরতহাল শেষে পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে। এ ঘটনায় রবিবার দিবাগত রাতেই মামলা রেকর্ড করা হয়েছে।
স্থানীয়দের অভিযোগ, পাকড়িতলা এলাকার মোড়টি সড়কের অন্য অংশের তুলনায় প্রশস্ত হওয়ায় ভারী যানবাহন সেখানে অতিরিক্ত গতিতে ওভারটেকিংয়ের চেষ্টা করে। কিন্তু মোড় পার হওয়ার পর সড়ক হঠাৎ সংকুচিত হয়ে যাওয়ায় দুর্ঘটনার ঝুঁকি বেড়ে যায়।
তারা আরও বলেন, ওই স্থানে চালকদের সতর্ক করতে রাম্বল স্ট্রিপস থাকলেও তা মূলত ছোট যানবাহনের গতি কমাতে কার্যকর। ভারী ট্রাকের ক্ষেত্রে এসব ব্যবস্থা তেমন ফলপ্রসূ নয়, ফলে প্রায়ই দুর্ঘটনার আশঙ্কা তৈরি হয়।
ইখা