চট্টগ্রামের পটিয়া থানায় আদালতের নিষেধাজ্ঞা বাস্তবায়নকে কেন্দ্র করে অর্থ দাবির অভিযোগ উঠেছে থানার এক সহকারী উপপরিদর্শকের (এএসআই) বিরুদ্ধে। অভিযোগের কেন্দ্রে রয়েছেন পটিয়া থানার এএসআই শ্রীবাস চন্দ্র দে। ভুক্তভোগীদের দাবি, থানায় আইনগত সহায়তা পেতে হলে তিনি নিয়মিতভাবে অফিসার ইনচার্জের (ওসি) নাম ব্যবহার করে টাকা দাবি করেন।
অভিযোগ অনুযায়ী, টাকা না দিলে আদালতের স্পষ্ট আদেশ থাকলেও কার্যকর কোনো পদক্ষেপ নেওয়া হয় না। বিষয়টি জানতে চাইলে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তা সাংবাদিকের সঙ্গে হুমকিমূলক ভাষায় কথা বলেন বলেও অভিযোগ রয়েছে।
জানা গেছে, পটিয়া উপজেলার হাইদগাঁও গ্রামের বাসিন্দা মো. আলমগীর খানের একটি জমি সংক্রান্ত বিরোধ নিষ্পত্তির অংশ হিসেবে পটিয়ার সিনিয়র সিভিল জজ (প্রথম আদালত) সংশ্লিষ্ট জমিতে সব ধরনের কার্যক্রমের ওপর নিষেধাজ্ঞা জারি করেন। আদেশে বলা হয়, নিষেধাজ্ঞা অমান্য করলে তা আদালত অবমাননার শামিল হবে।
কিন্তু অভিযোগ অনুযায়ী, আদালতের আদেশের পরও বিবাদীপক্ষ প্রকাশ্যে নির্মাণকাজ চালিয়ে যেতে থাকে। এ অবস্থায় আলমগীর খান বারবার পটিয়া থানার সহযোগিতা চাইলে কোনো কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়া হয়নি।
ভুক্তভোগীর অভিযোগ, থানায় যোগাযোগ করলে দায়িত্বপ্রাপ্ত এএসআই শ্রীবাস চন্দ্র দে জানান, বিষয়টি কার্যকর করতে হলে ‘ওসির জন্য’ ১৫ হাজার টাকা দিতে হবে। আদালতের আদেশের অফিসিয়াল কপি থানায় পৌঁছাতে সামান্য বিলম্ব হওয়াকে তিনি অর্থ আদায়ের অজুহাত হিসেবে ব্যবহার করেন।
আলমগীর খান বলেন, “আমি আদালতের আদেশের একটি কপি দিয়েছিলাম। নিষেধাজ্ঞার বিষয়টি পুলিশ জানত। তারপরও টাকা ছাড়া কোনো সহায়তা পাওয়া যায়নি।”
এই অভিযোগের পক্ষে একটি ২ মিনিট ৫৪ সেকেন্ডের অডিও কলরেকর্ড সময়ের কণ্ঠস্বর-এর প্রতিবেদকের হাতে এসেছে। রেকর্ডে এএসআই শ্রীবাস চন্দ্র দে-কে আদালতের আদেশ কার্যকরের বিনিময়ে অর্থ দাবির কথা বলতে শোনা যায়।
রেকর্ডে তিনি বলেন, আদালতের কপি এখনো ‘অফিসিয়ালি’ আসেনি এবং কপি না এলে ওসি স্বাক্ষর করবেন না। তিনি আরও বলেন, টাকা দিলে আদেশ আসার আগেই কাজ বন্ধ করা যাবে। কথোপকথনে নিজের জন্যও অর্থ নেওয়ার ইঙ্গিত পাওয়া যায়।
এ বিষয়ে বক্তব্য জানতে চাইলে এএসআই শ্রীবাস চন্দ্র দে প্রতিবেদকের সঙ্গে হুমকিমূলক ও অবমাননাকর ভাষায় কথা বলেন। একপর্যায়ে তিনি বলেন, “আপনি ভুল জায়গায় নক করেছেন… পারলে আমার বিরুদ্ধে নিউজ করেন।”
অভিযোগ প্রসঙ্গে পটিয়া থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মো. জিয়াউল হক সময়ের কণ্ঠস্বর-কে বলেন, “আমি সরকারি কর্মচারী। জনগণের সেবা করাই আমাদের দায়িত্ব। আমার নামে অর্থ দাবি করা হয়েছে—এ বিষয়ে আমি অবগত নই।”
তিনি আরও বলেন, এএসআই তার নাম ব্যবহার করে অর্থ দাবি করেছেন—এমন অভিযোগ তিনি ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে জানিয়েছেন।
পটিয়া থানার একাধিক পুলিশ সদস্য নাম প্রকাশ না করার শর্তে জানান, এএসআই শ্রীবাস চন্দ্র দে’র বিরুদ্ধে টাকাপয়সা লেনদেন ও আচরণগত অনিয়মের অভিযোগ থানার ভেতরেও শোনা যায়। একজন পুলিশ সদস্য বলেন, “সেবা নিতে আসা অনেক মানুষ তার আচরণে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন।”
চট্টগ্রাম জজকোর্টের আইনজীবী মুহাম্মদ আব্দুল ওয়াহেদ হোসাইনী বলেন, অভিযোগ সত্য হলে দণ্ডবিধির ১৬১ ও ১৬৩ ধারা এবং দুর্নীতি দমন কমিশন আইনে এটি শাস্তিযোগ্য অপরাধ। আদালতের আদেশ বাস্তবায়নে ব্যর্থতা আদালত অবমাননার শামিল। সাংবাদিককে হুমকি দেওয়া দণ্ডবিধির ৫০৬ ধারার আওতায় অপরাধ।
চট্টগ্রাম জেলা পুলিশের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (ক্রাইম অ্যান্ড অপস্) মো. সিরাজুল ইসলাম বলেন, “পুলিশের কেউ টাকার বিনিময়ে সেবা দিতে পারে না। লিখিত অভিযোগ পেলে বিষয়টি তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”
ইখা